কেরুজ ডিস্টিলারী বিভাগ থেকে ৫৭ লাখ টাকা মূল্যের ৩শ কার্টুন মদ গায়েব
কেরুজ ডিস্টিলারী বিভাগ থেকে ৫৭ লাখ টাকা মূল্যের ৩শ কার্টুন ফরেণ লিকার গায়েবের অভিযোগ গিয়েছে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান সহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে। আসলে কি সত্য নাকী গুজব তা তদন্তে গঠন করা হয়েছে কমিটি। বিষয়টি রিতিমত এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমলোচনার ঝড় তুলেছে। গত পরশু রোববার শিল্প মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রশিদুল হাসানের কাছে কে বা কারা অভিযোগ করেন কেরুজ ডিস্টিলারী বিভাগ থেকে ৩শ কার্টুন ফরেন লিকার যার মূল্য ৫৭ লাখ টাকা ঘাটতি দেখা দিয়েছে। যা নিয়ে কেরুজ এলাকার ব্যাপক শোরগোল চলছে।
বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরণের অভিযোগের ভিত্তিতে রশিদুল হাসান কেরুজ ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসানের কাছে জানতে চান। এমন কোন ঘটনা ঘটেনি বলে মোবাইল ফোনে জানালেও বিষয়টি পরিস্কার হওয়ার জন্য ততক্ষনিক তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন রাব্বিক হাসান। গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে কেরুজ চিনিকলের ব্যবস্থাপক (হিসাব) গোলাম জাকারিয়াকে। অন্যরা হলেন ব্যবস্থাপক (বানিজ্যিক) বদরুল আলম, উপ-ব্যবস্থাপক (হিসাব) শামীমা পারভিন ও ডিস্টিলারী বিভাগের উপ-ব্যবস্থাপক (উৎপাদন) মৃনাল কান্তি বিশ্বাস।
আগামী ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত পূর্ব লিখিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। সে মতে আগামীকাল বুধবার প্রতিবেদন দাখিল করা হতে পারে। এ বিষয়ে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান জানান, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সব পরিস্কার বোঝা যাবে। সেক্ষেত্রে ঘটনার সত্যতা মিললে দোষিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। মহাব্যবস্থাপক (ডিস্টিলারী) রাজিবুল হাসান বলেন, বর্তমান ব্যবস্থাপনায় এ ধরণের ঘটনার ঘটার কোন সুযোগ নেই। তবুও বিষয়টি যেহেতু তদন্তাধীন, সেহেতু তদন্তের পরই সব পরিস্কার বোঝা যাবে।
এ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের ডিডি রফিকুল ইসলাম, কেরুজ ডিও শাহজালাল খান ডিস্টিলারী বিভাগ পরিদর্শন করেছেন গতকাল । শাহজালাল খান বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোন মন্তব্য করা যাবেনা। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া বলেছেন, মঙ্গলবার থেকে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করবো। যথা সময়ে প্রতিবেদন দাখিলের চেষ্টার ত্রুটি করবোনা। এ দিকে এ ধরণের ঘটনার সুত্রপাতের বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে, ডিস্টিলারী বিভাগের সুপারভাইজার আবুল কালাম আজাদ মদ্যপ অবস্থায় এ রকম অভিযোগ করেছেন চেয়ারম্যানের কাছে। এ বিষয়ে আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাদের হিসাব-নিকাশে একুট ভুল ছিলো। ৩শ কার্টুন ফরেন লিকারের হিসাবটা খাতা-কলমে ডবল করে ফেলার কারণে বিষয়টি ডিস্টিলারী বিভাগেই আলোচনা হয়। তাছাড়া তিনি চেয়ারম্যান মহোদয়ের কাছে কোন প্রকার নালিশ করেননি বলেও জানান।


আপনার মতামত লিখুন