খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২২ মাঘ, ১৪৩২

চুয়াডাঙ্গায় সেনা হেফাজতে নিহত জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুর জানাজা সম্পন্ন

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:৪০ অপরাহ্ণ
চুয়াডাঙ্গায় সেনা হেফাজতে নিহত জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুর জানাজা সম্পন্ন

চুয়াডাঙ্গায় সেনা হেফাজতে মারা নিহত জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুর (৫৩) জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় জীবননগর পৌর ঈদগাহ ময়দানে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ডাবলুর ছোট ভাই ও মা লন্ডন থেকে দেশে ফিরলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।জানাজায় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি. এম. তারিক-উজ-জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) মো. আনোয়ারুল কবীর, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি ও বিজিএমইএর সভাপতি এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সিআইপি আলহাজ্ব সাহিদুজ্জামান টরিক, চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মারুফ সারোয়ার বাবু, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার অহিদুল আলমসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় শুভানুধ্যায়ীরা।

জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এই দেশে আমরা এমন মৃত্যু প্রত্যাশা করি না। ডাবলুর মৃত্যুর সঠিক বিচার চাই। ভবিষ্যতে যেন আর কাউকে এভাবে প্রাণ দিতে না হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত। পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি. এম. তারিক-উজ-জামান বলেন, যে ঘটনা ঘটেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। যে হারায়, সেই একমাত্র বোঝে কী হারালো। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য যা যা প্রয়োজন, সব করা হবে। তদন্তে যারা জড়িত থাকবে, কেউই ছাড় পাবে না।পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত সোমবার দিনগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হাফিজা ফার্মেসির সামনে থেকে ডাবলুকে আটক করে পার্শ্ববর্তী একটি কার্যালয়ের কক্ষে নেয় চুয়াডাঙ্গা সেনা ক্যাম্পের সদস্যরা। পরে রাত ১২টার পর তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উল্লাপাড়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় অভিযুক্ত যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুসের জামায়াতে যোগদান

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
   
উল্লাপাড়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় অভিযুক্ত যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুসের জামায়াতে যোগদান

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত পলাতক ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আরও প্রায় ৩০ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক জামায়াতে যোগদেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের বাগমারা বাজারে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সমাবেশে এই যোগদান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁন। তিনি নবাগতদের ফুলের মালা দিয়ে দলে বরণ করেন।

দলে যোগদানকারীদের মধ্যে উধুনিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস উল্লেখযোগ্য। তিনি উধুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল জলিলের ছেলে বলে জানা গেছে।জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী আব্দুল মালেক শান্ত অভিযোগ করে বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী উধুনিয়া ইউনিয়নের ১৬ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনায় আব্দুল কুদ্দুসের সম্পৃক্ততা ছিল এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হয়। তিনি আরো অভিযোগ করেন ৩ আগষ্ট উল্লাপাড়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মী হামলা করে এদের সাথে আব্দুল কুদ্দুস ও ছিলে। তার অভিযোগ, গ্রেপ্তার এড়াতে আব্দুল কুদ্দুস ও তার অনুসারীরা জামায়াতে যোগ দিয়েছেন।তবে উধুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির আব্দুল আলীম বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আব্দুল কুদ্দুস জামায়াতে ইসলামীর সদস্যপদের ফরম পূরণ করেন। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি দলে যোগ দেন। তিনি জানান, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ থেকে ৩ জন এবং বিএনপি থেকে ৪৭ জনসহ মোট প্রায় ৫০ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক এদিন জামায়াতে যোগদান করেছেন।

জয়ী হলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ হবে না বিএনপির এই দুই প্রার্থীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
   
জয়ী হলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ হবে না বিএনপির এই দুই প্রার্থীর

নির্বাচনে জিতলেও বিএনপি মনোনীত দুই প্রার্থীর আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফল স্থগিত থাকবে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।

তাঁরা হলেন চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী আসলাম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তাঁরা নির্বাচন করতে পারবেন, তবে বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে পৃথক আপিল করেছিল জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রাখে।ইসির সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক পৃথক রিট করলে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেন।

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক আপিল বিভাগে আবেদন করে। আনোয়ার সিদ্দিকীর করা লিভ টু আপিল ও ব্যাংকের করা আবেদনের ওপর গত সোমবার শুনানি হয়। পরে গতকাল লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আদেশে বলা হয়, আসলাম চৌধুরী বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

এদিকে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছিলেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে। প্রার্থিতা ফিরে পেতে সরোয়ার আলমগীর রিট করলে হাইকোর্ট ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত করে মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন নুরুল আমিন।

আপিল বিভাগ গতকাল লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) মঞ্জুর করেন। আদেশে বলা হয়, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন সরোয়ার আলমগীর, তবে তিনি বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

বাংলাদেশ বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুরের বাসার নির্যাতিত গৃহকর্মী মোহনাকে হাসপাতালে বিমান উপদেষ্টা

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
   
বাংলাদেশ বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুরের বাসার নির্যাতিত গৃহকর্মী মোহনাকে হাসপাতালে বিমান উপদেষ্টা

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তৎকালীন এমডি ও সিইও সাফিকুর রহমানের বাসার নির্যাতিত গৃহকর্মী শিশু মোহনার (১১) চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাণিজ্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস টেলিফোনে মোহনার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা মোহনার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকদের কাছ থেকে বিস্তারিত খোঁজ নেন। শিশুটির চিকিৎসার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের আশ্বস্ত করেন।

এ সময় উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বিমানের এমডি ড. হুমায়রা সুলতানা, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন এবং হাসপাতালের পরিচালক ডা. আমিনুল ইসলাম।

মোহনার উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই আমাকে তোমার খোঁজ নিতে পাঠিয়েছেন। তোমার আর ভয়ের কোনো কারণ নেই, আমরা তোমার পাশে আছি।”পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস টেলিফোনে বাণিজ্য উপদেষ্টার কাছে মোহনার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। মোহনার সঙ্গে আচরণ জাতির জন্য লজ্জাজনক বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টা। মোহনার চিকিৎসার ব্যয়সহ তার সব দায়িত্ব সরকার বহন করবে বলেও জানান।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “শিশুর প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধীরা ইহকাল ও পরকালে উপযুক্ত শাস্তি পাবে।” এছাড়া তিনি মোহনার বাবা মোস্তফাকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, শিশু মোহনা বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তৎকালীন এমডি ও সিইও সাফিকুর রহমানের বাসার গৃহকর্মী। গত ৩১ জানুয়ারি গুরুতর জখম অবস্থায় মোহনাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রীকে গত ২ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

You cannot copy content of this page