খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২২ মাঘ, ১৪৩২

ঢাকা কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাজেদ-এনামুলের যোগসাজশে প্রতিদিন কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ

রাহাত সুমন
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:০৭ অপরাহ্ণ
ঢাকা কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাজেদ-এনামুলের যোগসাজশে প্রতিদিন কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ

চোরাকারবারিদের সাথে পারস্পরিক যোগসাজসে অবৈধ  পণ্য সামগ্রী  ছাড়ের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নিজেদের লাভবান হওয়ার   অভিযোগ উঠেছে ঢাকা কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা(এআরও) মাজেদ ও এনামুল চক্রের বিরুদ্ধে। ১৭ আগস্ট আরিফুল ইসলাম নামের জনৈক  ব্যবসায়ী এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্যে দুর্নীতি দমন কমিশন   (দুদক) ও  জাতীয় রাজস্ব বোর্ড(এনবিআর) এর  চেয়ারম্যান বরাবর  লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানাগেছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ঢাকা কাস্টমস হাউসের দুর্নীতিবাজ সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাজেদ ও এনামুল বর্তমানে  প্রতিষ্ঠানকে চোরাচালান ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। চক্রের মূলহোতা মাজেদ-এনামুলসহ সিনিয়র আরও কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজশে ঢাকা কাস্টমস হাউসে চলছে মিথ্যা ঘোষণার আড়ালে চোরাচালান বাণিজ্য।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঢাকা কাস্টমস হাউসে এখন বৈধভাবে শুল্ক পরিশোধ করে পণ্য খালাস নেওয়া কষ্টকর। কাস্টমসের অসাধু কর্মকর্তা ও চোরাচালান সিন্ডিকেট এয়ার ফ্রেইট ইউনিটের ডেলিভারি গেট-১ দিয়ে কমার্সিয়াল পণ্য চালানের আড়ালে আমদানি নিষিদ্ধ ইলেকট্রিক সিগারেট, সেক্স টয়, পুরাতন ল্যাপটপ ও আমদানি শর্তযুক্ত পণ্য মোবাইল ফোন, মেডিসিন, ড্রোন, ওয়াকিটকি এবং অতি উচ্চ শুল্কের পণ্য মোবাইল এলসিডি, সানগ্লাস কোনো প্রকার ঘোষণা ও আমদানি শর্ত প্রতিপালন না করে মিথ্যা ঘোষণায় ভিআইপি মর্যাদায় খালাস দিচ্ছে ।

‘যার ফলে সরকার প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে এবং এসব অবৈধ

ও আমদানি নিষিদ্ধ মালামালে বাজার সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে বৈধ ব্যবসায়ীরা এই প্রতিযোগিতামূলক বাজারে অসাধু কাস্টমস কর্মকর্তাদের যোগসাজশে তৈরি এই চোরাকারবারীদের চোরাচালানের ফলে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং পথে বসে যাচ্ছে। আর এই ফাঁকিকৃত রাজস্বের ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা অসাধু কাস্টমস কর্মকর্তা ও চোরাচালান সিন্ডিকেটের পকেটে যাচ্ছে  বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।’

অভিযোগে  আরও বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ব্যাগেজ রুলস সংশোধনের ফলে প্রবাসী একজন যাত্রী সর্বোচ্চ দুটি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও প্রতি বছরে একবার একটি মাত্র নতুন মোবাইল ফোন আনতে পারবেন। বৈধভাবে মোবাইল আমদানিতে বিটিআরসির আমদানি শর্ত এবং প্রতি পিস মোবাইল ফোনের আমদানি মূল্যের ওপর ৫৮ দশমিক ৪ শতাংশ শুল্কের বিধান রয়েছে। দেশে প্রচুর মোবাইল ফোনের চাহিদা থাকায় চোরাচালান সিন্ডিকেট ও অসাধু কাস্টমস কর্মকর্তারা এ সুযোগে ঢাকা কাস্টমস হাউসের এয়ার ফ্রেইট ইউনিটের ডেলিভারি গেট-১ কে চোরাচালানের রুট বানিয়েছে। ডেলিভারি গেট-১ দিয়ে চীন, হংকং, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও ইউএসএ থেকে আমদানি করা কমার্সিয়াল পণ্য চালানের আড়ালে প্রতিদিন প্রায় ২৫০০ থেকে ৩০০০ পিস মোবাইল ফোন কোনো প্রকার শুল্ক পরিশোধ না করে ও আমদানি শর্ত প্রতিপালন না করে মিথ্যা ঘোষণায় ডেলিভারি হচ্ছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, অথচ এসব মোবাইল ফোনের শুল্ক-কর প্রায় ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা। যা থেকে প্রতিদিন সরকার বঞ্চিত হচ্ছে এবং বৈধ মোবাইল ফোন আমদানিকারকরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এছাড়াও এসব কমার্সিয়াল পণ্য চালানের আড়ালে আমদানি নিষিদ্ধ ইলেকট্রিক সিগারেট, সেক্স টয়, পুরাতন ল্যাপটপ, মাদক দ্রব্য ও আমদানি শর্তযুক্ত পণ্য মেডিসিন, ড্রোন, ওয়াকিটকি ৬০ শতাংশ কমিশনে চোরাচালান হচ্ছে। অর্থাৎ অসাধু কাস্টমস কর্মকর্তারা এসব চোরাচালান সিন্ডিকেটের কাছ থেকে মোট রাজস্ব ফাঁকির ৬০ শতাংশ কমিশন হিসেবে ঘুষ নিচ্ছেন।

কয়েক মাস আগেও তাদের ঢাকা কাস্টমস হাউসের এয়ার ফ্রেইট ইউনিটের ডেলিভারি গেট-১ দিয়ে প্রতি সপ্তাহে ১০ থেকে ১২টি মোবাইল ফোন এলসিডির শিপমেন্ট খালাস হতো। সেসব শিপমেন্ট থেকে আমদানিকারকরা প্রায় ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকা প্রতি সপ্তাহে শুধুমাত্র  একটি এলসিডি আইটেমে সরকারকে শুল্ক-কর পরিশোধ করতো। অথচ এখন আর আমদানিকারকরা বৈধভাবে মোবাইল ফোন এলসিডি শিপমেন্ট করতে পারছেন না। প্রতি কেজি মোবাইল ফোন এলসিডিতে ৫০০০ থেকে ৫২০০ টাকা পর্যন্ত শুল্ক-কর সরকারকে পরিশোধ করতে হয়। অথচ এই আইটেমের (মোবাইল ফোন এলসিডির) পুরোটাই এখন অসাধু কাস্টমস কর্মকর্তা ও চোরাচালান সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চোরাচালান হচ্ছে।

অভিযোগে ঢাকা  কাস্টমসের অসাধু কর্মকর্তা সিন্ডিকেটের মূলহোতা হিসেবে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাজেদ ও এনামুলের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, বর্তমানে  দুই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ঢাকা কাস্টমস হাউসের এয়ার ফ্রেইট ইউনিটের ডেলিভারি গেট-১ এর টোটাল ডেলিভারির দায়িত্বে রয়েছেন। তারা কমার্সিয়াল পণ্য চালানের আড়ালে মিথ্যা ঘোষণায় চোরাচালানকৃত পণ্য ডেলিভারি দিয়ে চোরাকারবারিদের কাছ থেকে মোট ফাঁকিকৃত ৬০ শতাংশ কমিশন ঘুষ সংগ্রহ করে তা ডিসি-ফ্রেইট, ডিসি-প্রিভেন্টিভ, শুল্ক গোয়েন্দার এয়ার ফ্রেইট ইউনিট সার্কেল এবং ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এর উর্ধ্বতন  কর্মকর্তাদের ভাগ  বাটোয়ারার অংশ পৌঁছে দেন বলে  অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তার আশীর্বাদে এবং কতিপয় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের যোগসাজশে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাজেদ ও এনামুল এতটাই বেপরোয়া হয়ে গেছে যে- তারা এখন বাংলাদেশ কাস্টমসের কোনো নিয়ম, কানুন, আইনের তোয়াক্কা করছেন না। তারা এসব আমদানি নিষিদ্ধ, আমদানি শর্তযুক্ত এবং উচ্চ শুল্কের পণ্য চোরাচালানের মাধ্যমে দেদারছে খালাস দিয়ে রাষ্ট্র ও ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করছেন। এই চোরাকারবারি সিন্ডিকেট ধ্বংস এবং চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের বৈধ ব্যবসার স্বাভাবিক পথ সুগম করার দাবি জানানো হয়েছে অভিযোগ পত্রে।

এবিষয়ে বক্তব্য জানার জন্যে   সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাজেদ ও এনামুল এর টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

উল্লাপাড়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় অভিযুক্ত যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুসের জামায়াতে যোগদান

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
   
উল্লাপাড়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় অভিযুক্ত যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুসের জামায়াতে যোগদান

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত পলাতক ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আরও প্রায় ৩০ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক জামায়াতে যোগদেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের বাগমারা বাজারে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সমাবেশে এই যোগদান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁন। তিনি নবাগতদের ফুলের মালা দিয়ে দলে বরণ করেন।

দলে যোগদানকারীদের মধ্যে উধুনিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস উল্লেখযোগ্য। তিনি উধুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল জলিলের ছেলে বলে জানা গেছে।জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী আব্দুল মালেক শান্ত অভিযোগ করে বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী উধুনিয়া ইউনিয়নের ১৬ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনায় আব্দুল কুদ্দুসের সম্পৃক্ততা ছিল এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হয়। তিনি আরো অভিযোগ করেন ৩ আগষ্ট উল্লাপাড়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মী হামলা করে এদের সাথে আব্দুল কুদ্দুস ও ছিলে। তার অভিযোগ, গ্রেপ্তার এড়াতে আব্দুল কুদ্দুস ও তার অনুসারীরা জামায়াতে যোগ দিয়েছেন।তবে উধুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির আব্দুল আলীম বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আব্দুল কুদ্দুস জামায়াতে ইসলামীর সদস্যপদের ফরম পূরণ করেন। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি দলে যোগ দেন। তিনি জানান, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ থেকে ৩ জন এবং বিএনপি থেকে ৪৭ জনসহ মোট প্রায় ৫০ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক এদিন জামায়াতে যোগদান করেছেন।

জয়ী হলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ হবে না বিএনপির এই দুই প্রার্থীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
   
জয়ী হলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ হবে না বিএনপির এই দুই প্রার্থীর

নির্বাচনে জিতলেও বিএনপি মনোনীত দুই প্রার্থীর আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফল স্থগিত থাকবে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।

তাঁরা হলেন চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী আসলাম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তাঁরা নির্বাচন করতে পারবেন, তবে বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে পৃথক আপিল করেছিল জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রাখে।ইসির সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক পৃথক রিট করলে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেন।

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক আপিল বিভাগে আবেদন করে। আনোয়ার সিদ্দিকীর করা লিভ টু আপিল ও ব্যাংকের করা আবেদনের ওপর গত সোমবার শুনানি হয়। পরে গতকাল লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আদেশে বলা হয়, আসলাম চৌধুরী বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

এদিকে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছিলেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে। প্রার্থিতা ফিরে পেতে সরোয়ার আলমগীর রিট করলে হাইকোর্ট ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত করে মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন নুরুল আমিন।

আপিল বিভাগ গতকাল লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) মঞ্জুর করেন। আদেশে বলা হয়, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন সরোয়ার আলমগীর, তবে তিনি বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

বাংলাদেশ বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুরের বাসার নির্যাতিত গৃহকর্মী মোহনাকে হাসপাতালে বিমান উপদেষ্টা

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
   
বাংলাদেশ বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুরের বাসার নির্যাতিত গৃহকর্মী মোহনাকে হাসপাতালে বিমান উপদেষ্টা

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তৎকালীন এমডি ও সিইও সাফিকুর রহমানের বাসার নির্যাতিত গৃহকর্মী শিশু মোহনার (১১) চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাণিজ্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস টেলিফোনে মোহনার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা মোহনার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকদের কাছ থেকে বিস্তারিত খোঁজ নেন। শিশুটির চিকিৎসার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের আশ্বস্ত করেন।

এ সময় উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বিমানের এমডি ড. হুমায়রা সুলতানা, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন এবং হাসপাতালের পরিচালক ডা. আমিনুল ইসলাম।

মোহনার উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই আমাকে তোমার খোঁজ নিতে পাঠিয়েছেন। তোমার আর ভয়ের কোনো কারণ নেই, আমরা তোমার পাশে আছি।”পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস টেলিফোনে বাণিজ্য উপদেষ্টার কাছে মোহনার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। মোহনার সঙ্গে আচরণ জাতির জন্য লজ্জাজনক বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টা। মোহনার চিকিৎসার ব্যয়সহ তার সব দায়িত্ব সরকার বহন করবে বলেও জানান।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “শিশুর প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধীরা ইহকাল ও পরকালে উপযুক্ত শাস্তি পাবে।” এছাড়া তিনি মোহনার বাবা মোস্তফাকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, শিশু মোহনা বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তৎকালীন এমডি ও সিইও সাফিকুর রহমানের বাসার গৃহকর্মী। গত ৩১ জানুয়ারি গুরুতর জখম অবস্থায় মোহনাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রীকে গত ২ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

You cannot copy content of this page