খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২২ মাঘ, ১৪৩২

বাগেরহাটের ডিসি ও এসপি কে ‘হোয়াটসঅ্যাপে’ একাধিক বিদেশি নম্বর থেকে হুমকি: পর্দার আড়ালে কারা?

বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
বাগেরহাটের ডিসি ও এসপি কে ‘হোয়াটসঅ্যাপে’ একাধিক বিদেশি নম্বর থেকে হুমকি: পর্দার আড়ালে কারা?

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর আঘাত বা শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা বাংলাদেশে নতুন নয়, তবে এবারের প্রেক্ষাপটটি কিছুটা ভিন্ন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কেন্দ্রিক। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং পুলিশ সুপারকে (এসপি) টার্গেট করে সাম্প্রতিক এই টেলিফোন হুমকি কেবল একটি স্থানীয় ঘটনা নয়, বরং এটি বর্তমানে প্রচলিত ডিজিটাল অপরাধ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার এক বিশেষ প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

রোববার সকাল থেকেই বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরীর দাপ্তরিক হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একের পর এক ফোন কল আসতে থাকে। একাধিক বিদেশি নম্বর থেকে আসা এসব কলে অকথ্য ভাষায় গালাগাল এবং বিভিন্ন বিষয়ে হুমকি প্রদান করা হয়। রাষ্ট্রের দুজন অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সাথে এমন আচরণে খোদ প্রশাসনের ভেতরেই তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

এই ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত অংশটি হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ক্লিপ।

সেখানে দেখা যাচ্ছে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের একজন নেতার ফেসবুক আইডি থেকে সরাসরি পুলিশ সুপারকে ফোন দেওয়া হয়েছে। ওই অডিওতে শোনা যায়, এসপি ফোন রিসিভ করা মাত্রই অপর প্রান্ত থেকে চরম অভদ্রতা এবং আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে। জনৈক সাদ্দাম নামক এক ব্যক্তির সাথে প্রশাসনের আচরণের সূত্র ধরে এসপিকে লক্ষ্য করে গালিগালাজ করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়া ওই অডিও ক্লিপটি শতভাগ সত্য। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, পুলিশ সুপারকে কথা বলার বা আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগই দেওয়া হয়নি। অপর প্রান্ত থেকে অনবরত হুমকি দিয়ে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

এটি স্পষ্ট নির্দেশ করে যে, ফোনকারীরা কোনো গঠনমূলক আলোচনা নয়, বরং কর্মকর্তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করতেই এই পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে।

হুমকির শিকার হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন অত্যন্ত দৃঢ়তা প্রকাশ করেছেন।

তিনি জানান, রোববার সকাল থেকেই তিনি বিভিন্ন নম্বর থেকে অনভিপ্রেত ফোন কল পাচ্ছেন। তবে তিনি এতে মোটেই বিচলিত নন। ডিসি বলেন, প্রশাসন সবসময় সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব নিয়ে জনগণের পাশে ছিল। যে বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা করার চেষ্টা হচ্ছে, সেখানেও আমাদের ভূমিকা ছিল ইতিবাচক। কিন্তু কিছু বট নম্বর বা বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে এই ধরনের কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। আমরা সিনিয়র কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করছি এবং দ্রুতই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অন্যদিকে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরীও ফোন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কারা এর নেপথ্যে কাজ করছে এবং কোন দেশ থেকে বা কোন মাধ্যম ব্যবহার করে ফোনগুলো করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে খুব শীঘ্রই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের হেনস্থা করার প্রবণতা বেড়েছে। এক্ষেত্রে সরাসরি মোবাইল কল না করে হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্য কোনো ইন্টারনেট ভিত্তিক কলিং অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা ভার্চুয়াল নম্বর বা বট নম্বর ব্যবহার করে, যা ট্র্যাক করা তুলনামূলক কঠিন। বাগেরহাটের ঘটনায় ব্যবহৃত নম্বরগুলো বিদেশি হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, দেশের বাইরে অবস্থানরত কোনো গ্রুপ অথবা দেশের ভেতরে থেকে ভিপিএন ব্যবহারকারী কোনো চক্র এই অপকর্মের সাথে জড়িত।

বাগেরহাটের স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার সাথে আলাপকালে জানা যায়, এই ধরনের ঘটনা কেবল অনাকাঙ্ক্ষিত নয়, বরং চরম বিব্রতকর। রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা বা সাধারণ ডায়েরি করা না হলেও প্রশাসনের ভেতরে এটি নিয়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। কর্মকর্তাদের মতে, কোনো একটি দুঃখজনক বা হৃদয়বিদারক ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদল সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। তারা সরাসরি মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের টার্গেট করে রাষ্ট্রের চেইন অব কমান্ড বা প্রশাসনিক শৃঙ্খলায় আঘাত হানার চেষ্টা করছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের ফেসবুক আইডি থেকে ফোন দেওয়া এবং সেই অডিও প্রকাশ করা একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে। এর মাধ্যমে তারা অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ানো এবং প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার কৌশল নিয়েছে। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে এবং প্রশাসনের ওপর থেকে আস্থা কমাতে একটি বিশেষ গোষ্ঠী এই প্রোপাগান্ডা মিশন চালাচ্ছে।

বাগেরহাটের সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারের মতো কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা করা রাষ্ট্রের অপরিহার্য দায়িত্ব। যদি জেলা পর্যায়ের সর্বোচ্চ কর্মকর্তারাই এভাবে সাইবার হয়রানির শিকার হন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তাই এই ডিজিটাল সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসন এখন এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে। সাইবার ক্রাইম ইউনিট ইতিমধ্যে এসব ফোন কলের উৎস অনুসন্ধানে নেমেছে। সন্দেহভাজন ফেসবুক আইডিগুলোর আইপি অ্যাড্রেস এবং ট্রাফিক অ্যানালাইসিস করা হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড যারা করছে তাদের পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বাগেরহাটের এই ঘটনাটি একটি অশনিসংকেত। ডিজিটাল যুগে কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক নম্বরগুলো জনস্বার্থে উন্মুক্ত থাকে, আর সেই সুযোগটিকেই হাতিয়ার করছে অপরাধীরা। এই সাইবার হামলা মোকাবিলায় কেবল আইনি পদক্ষেপ নয়, বরং প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা দেয়াল আরও মজবুত করা এবং গুজব বা ঘৃণা ছড়ানোর বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনগণকে গুজবে কান না দেওয়ার এবং সাইবার অপরাধ সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

উল্লাপাড়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় অভিযুক্ত যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুসের জামায়াতে যোগদান

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
   
উল্লাপাড়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় অভিযুক্ত যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুসের জামায়াতে যোগদান

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত পলাতক ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আরও প্রায় ৩০ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক জামায়াতে যোগদেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের বাগমারা বাজারে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সমাবেশে এই যোগদান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁন। তিনি নবাগতদের ফুলের মালা দিয়ে দলে বরণ করেন।

দলে যোগদানকারীদের মধ্যে উধুনিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস উল্লেখযোগ্য। তিনি উধুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল জলিলের ছেলে বলে জানা গেছে।জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী আব্দুল মালেক শান্ত অভিযোগ করে বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী উধুনিয়া ইউনিয়নের ১৬ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনায় আব্দুল কুদ্দুসের সম্পৃক্ততা ছিল এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হয়। তিনি আরো অভিযোগ করেন ৩ আগষ্ট উল্লাপাড়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মী হামলা করে এদের সাথে আব্দুল কুদ্দুস ও ছিলে। তার অভিযোগ, গ্রেপ্তার এড়াতে আব্দুল কুদ্দুস ও তার অনুসারীরা জামায়াতে যোগ দিয়েছেন।তবে উধুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির আব্দুল আলীম বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আব্দুল কুদ্দুস জামায়াতে ইসলামীর সদস্যপদের ফরম পূরণ করেন। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি দলে যোগ দেন। তিনি জানান, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ থেকে ৩ জন এবং বিএনপি থেকে ৪৭ জনসহ মোট প্রায় ৫০ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক এদিন জামায়াতে যোগদান করেছেন।

জয়ী হলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ হবে না বিএনপির এই দুই প্রার্থীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
   
জয়ী হলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ হবে না বিএনপির এই দুই প্রার্থীর

নির্বাচনে জিতলেও বিএনপি মনোনীত দুই প্রার্থীর আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফল স্থগিত থাকবে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।

তাঁরা হলেন চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী আসলাম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তাঁরা নির্বাচন করতে পারবেন, তবে বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে পৃথক আপিল করেছিল জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রাখে।ইসির সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক পৃথক রিট করলে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেন।

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক আপিল বিভাগে আবেদন করে। আনোয়ার সিদ্দিকীর করা লিভ টু আপিল ও ব্যাংকের করা আবেদনের ওপর গত সোমবার শুনানি হয়। পরে গতকাল লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আদেশে বলা হয়, আসলাম চৌধুরী বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

এদিকে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছিলেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে। প্রার্থিতা ফিরে পেতে সরোয়ার আলমগীর রিট করলে হাইকোর্ট ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত করে মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন নুরুল আমিন।

আপিল বিভাগ গতকাল লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) মঞ্জুর করেন। আদেশে বলা হয়, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন সরোয়ার আলমগীর, তবে তিনি বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

বাংলাদেশ বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুরের বাসার নির্যাতিত গৃহকর্মী মোহনাকে হাসপাতালে বিমান উপদেষ্টা

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
   
বাংলাদেশ বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুরের বাসার নির্যাতিত গৃহকর্মী মোহনাকে হাসপাতালে বিমান উপদেষ্টা

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তৎকালীন এমডি ও সিইও সাফিকুর রহমানের বাসার নির্যাতিত গৃহকর্মী শিশু মোহনার (১১) চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাণিজ্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস টেলিফোনে মোহনার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা মোহনার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকদের কাছ থেকে বিস্তারিত খোঁজ নেন। শিশুটির চিকিৎসার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের আশ্বস্ত করেন।

এ সময় উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বিমানের এমডি ড. হুমায়রা সুলতানা, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন এবং হাসপাতালের পরিচালক ডা. আমিনুল ইসলাম।

মোহনার উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই আমাকে তোমার খোঁজ নিতে পাঠিয়েছেন। তোমার আর ভয়ের কোনো কারণ নেই, আমরা তোমার পাশে আছি।”পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস টেলিফোনে বাণিজ্য উপদেষ্টার কাছে মোহনার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। মোহনার সঙ্গে আচরণ জাতির জন্য লজ্জাজনক বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টা। মোহনার চিকিৎসার ব্যয়সহ তার সব দায়িত্ব সরকার বহন করবে বলেও জানান।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “শিশুর প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধীরা ইহকাল ও পরকালে উপযুক্ত শাস্তি পাবে।” এছাড়া তিনি মোহনার বাবা মোস্তফাকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, শিশু মোহনা বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তৎকালীন এমডি ও সিইও সাফিকুর রহমানের বাসার গৃহকর্মী। গত ৩১ জানুয়ারি গুরুতর জখম অবস্থায় মোহনাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রীকে গত ২ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

You cannot copy content of this page