খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২২ মাঘ, ১৪৩২

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্রপালের বিরুদ্ধে মাসে কোটি টাকা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

রাহাত সুমন
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্রপালের বিরুদ্ধে মাসে কোটি টাকা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানিকৃত পচনশীল পণ্য খালাসকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য ও শুল্ক ফাঁকির একাধিক অভিযোগ উঠেছে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের পরীক্ষণ গ্রুপ–৩–এর দায়িত্বে থাকা রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্রপালের বিরুদ্ধে। আমদানিকারক, সিএন্ডএফ প্রতিনিধি ও স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, নির্ধারিত অর্থ না দিলে পণ্য খালাসে নানাভাবে হয়রানি করা হয়, আর সন্তোষজনক অর্থ পেলে শুল্ক ফাঁকির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে,  রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্রপাল বর্তমানে পরীক্ষণ গ্রুপ–৩–এর দায়িত্বে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক গণমাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সংবাদ প্রকাশিত হলেও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

ট্রাক প্রতি ঘুষ আদায়ের অভিযোগ

স্থানীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, পচনশীল পণ্য পরীক্ষণের নামে প্রতি ট্রাক থেকে আনুমানিক ১০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এই অর্থ পরিশোধের পরই পরীক্ষণ রিপোর্টে স্বাক্ষর করা হয়। অন্যথায় ফাইলে নানা ত্রুটি দেখিয়ে পণ্য খালাস বিলম্বিত করা হয়।

একাধিক আমদানিকারক প্রতিনিধি জানান, কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে টিআর (ট্যাক্স রেগুলেশনস) না দেওয়া, পণ্য নামিয়ে শতভাগ পরীক্ষণের ভয় দেখানোসহ বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়।

সিন্ডিকেট ও আত্মীয়করণের অভিযোগ

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও জানায়, এক ফল ব্যবসায়ী আত্মীয়ের সঙ্গে যোগসাজশে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হাতে গোনা কিছু ব্যবসায়ীর পণ্য দ্রুত খালাস দেওয়া হলেও অন্যরা বঞ্চিত হচ্ছেন। এমনকি কয়েকজন প্রতিনিধির মাধ্যমে মাঠপর্যায় থেকে ঘুষ সংগ্রহের অভিযোগও উঠেছে।

এক সিএন্ডএফ প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“পরীক্ষণ গ্রুপ–৩–এ অতিরিক্ত ঘুষ ও আত্মীয়করণের কারণে ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত। অনেক আমদানিকারক বাধ্য হয়ে বেনাপোল বন্দর ছেড়ে ভোমরা বন্দরের দিকে ঝুঁকছেন।”

তার দাবি, গত এক মাসেই পরীক্ষণ গ্রুপ–৩ থেকে দৃশ্যমানভাবে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ঘুষ আদায় হয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, গত এক মাসে পরীক্ষণ গ্রুপ-৩ থেকে আনুমানিক অর্ধ কোটি টাকা দৃশ্যমান ঘুস আদায় করা হয়েছে। আর ঘুসের টাকা আদায়ে রাজস্ব কর্মকর্তার আত্মীয় এক ফল ব্যবসায়ীর যোগসাজসে তৌহিদ ও শুভ সংগ্রহ করছে।

আমদানিকারকদের অভিযোগ

আমদানিকারক সরাফত ইসলাম বলেন,
“গত সাত-আট বছর ধরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে পান আমদানি করছি। আগে এমন সমস্যায় পড়তে হয়নি। এখন গাড়ি প্রতি ১০ হাজার টাকা না দিলে পরীক্ষণ রিপোর্টে স্বাক্ষর করা হয় না। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।”

আরেক আমদানিকারক জানান, একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। এর ফলে সরকারও কোটি কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ।

বেনাপোলের সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী সমিতির এক নেতা জানান,
“৫ আগস্টের পর থেকে কাঁচামাল পরীক্ষণে কোনো বড় ধরনের অবৈধ পণ্য আটক হয়নি, যা রহস্যজনক। আগে নিয়মিত কোনো না কোনো চালান ধরা পড়ত। নামমাত্র পরীক্ষণ ও টিআর ঘোষণার আড়ালে অনিয়ম হচ্ছে বলে আমাদের ধারণা।”

তিনি আরও বলেন, নিরপেক্ষ তদন্ত হলে দৈনিক ঘুষ লেনদেন ও সংশ্লিষ্টদের অবৈধ আয়ের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে পরীক্ষণ গ্রুপ–৩–এর দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজস্ব কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় শুনে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে কথা বলতে রাজি হননি।

অন্যদিকে, কাস্টমস কমিশনার আবু হোসেন মোহাম্মদ খালিদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা যায়নি।

উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা

ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, বেনাপোল বন্দরের পচনশীল পণ্য খালাস প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফেরাতে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ জরুরি। তা না হলে ব্যবসায়ীরা বন্দর বিমুখ হবে এবং সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাতে থাকবে।

উল্লাপাড়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় অভিযুক্ত যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুসের জামায়াতে যোগদান

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
   
উল্লাপাড়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় অভিযুক্ত যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুসের জামায়াতে যোগদান

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত পলাতক ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আরও প্রায় ৩০ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক জামায়াতে যোগদেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের বাগমারা বাজারে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সমাবেশে এই যোগদান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁন। তিনি নবাগতদের ফুলের মালা দিয়ে দলে বরণ করেন।

দলে যোগদানকারীদের মধ্যে উধুনিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস উল্লেখযোগ্য। তিনি উধুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল জলিলের ছেলে বলে জানা গেছে।জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী আব্দুল মালেক শান্ত অভিযোগ করে বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী উধুনিয়া ইউনিয়নের ১৬ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনায় আব্দুল কুদ্দুসের সম্পৃক্ততা ছিল এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হয়। তিনি আরো অভিযোগ করেন ৩ আগষ্ট উল্লাপাড়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মী হামলা করে এদের সাথে আব্দুল কুদ্দুস ও ছিলে। তার অভিযোগ, গ্রেপ্তার এড়াতে আব্দুল কুদ্দুস ও তার অনুসারীরা জামায়াতে যোগ দিয়েছেন।তবে উধুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির আব্দুল আলীম বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আব্দুল কুদ্দুস জামায়াতে ইসলামীর সদস্যপদের ফরম পূরণ করেন। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি দলে যোগ দেন। তিনি জানান, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ থেকে ৩ জন এবং বিএনপি থেকে ৪৭ জনসহ মোট প্রায় ৫০ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক এদিন জামায়াতে যোগদান করেছেন।

জয়ী হলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ হবে না বিএনপির এই দুই প্রার্থীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
   
জয়ী হলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ হবে না বিএনপির এই দুই প্রার্থীর

নির্বাচনে জিতলেও বিএনপি মনোনীত দুই প্রার্থীর আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফল স্থগিত থাকবে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।

তাঁরা হলেন চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী আসলাম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তাঁরা নির্বাচন করতে পারবেন, তবে বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে পৃথক আপিল করেছিল জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রাখে।ইসির সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক পৃথক রিট করলে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেন।

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক আপিল বিভাগে আবেদন করে। আনোয়ার সিদ্দিকীর করা লিভ টু আপিল ও ব্যাংকের করা আবেদনের ওপর গত সোমবার শুনানি হয়। পরে গতকাল লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আদেশে বলা হয়, আসলাম চৌধুরী বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

এদিকে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছিলেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে। প্রার্থিতা ফিরে পেতে সরোয়ার আলমগীর রিট করলে হাইকোর্ট ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত করে মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন নুরুল আমিন।

আপিল বিভাগ গতকাল লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) মঞ্জুর করেন। আদেশে বলা হয়, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন সরোয়ার আলমগীর, তবে তিনি বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

বাংলাদেশ বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুরের বাসার নির্যাতিত গৃহকর্মী মোহনাকে হাসপাতালে বিমান উপদেষ্টা

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
   
বাংলাদেশ বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুরের বাসার নির্যাতিত গৃহকর্মী মোহনাকে হাসপাতালে বিমান উপদেষ্টা

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তৎকালীন এমডি ও সিইও সাফিকুর রহমানের বাসার নির্যাতিত গৃহকর্মী শিশু মোহনার (১১) চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাণিজ্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস টেলিফোনে মোহনার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা মোহনার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকদের কাছ থেকে বিস্তারিত খোঁজ নেন। শিশুটির চিকিৎসার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের আশ্বস্ত করেন।

এ সময় উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বিমানের এমডি ড. হুমায়রা সুলতানা, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন এবং হাসপাতালের পরিচালক ডা. আমিনুল ইসলাম।

মোহনার উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই আমাকে তোমার খোঁজ নিতে পাঠিয়েছেন। তোমার আর ভয়ের কোনো কারণ নেই, আমরা তোমার পাশে আছি।”পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস টেলিফোনে বাণিজ্য উপদেষ্টার কাছে মোহনার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। মোহনার সঙ্গে আচরণ জাতির জন্য লজ্জাজনক বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টা। মোহনার চিকিৎসার ব্যয়সহ তার সব দায়িত্ব সরকার বহন করবে বলেও জানান।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “শিশুর প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধীরা ইহকাল ও পরকালে উপযুক্ত শাস্তি পাবে।” এছাড়া তিনি মোহনার বাবা মোস্তফাকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, শিশু মোহনা বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তৎকালীন এমডি ও সিইও সাফিকুর রহমানের বাসার গৃহকর্মী। গত ৩১ জানুয়ারি গুরুতর জখম অবস্থায় মোহনাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রীকে গত ২ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

You cannot copy content of this page