খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২২ মাঘ, ১৪৩২

১ যুগে শতকোটি টাকার মালিক চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন

রাহাত সুমন
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ণ
১ যুগে শতকোটি টাকার মালিক চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন

কাস্টমসের চাকরি মানেই কোটিপতি। যদিও লোকমুখে এতোদিন এই প্রবাদ শুনলেও এবার সত্যি করেছেন কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন। বর্তমানে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে কর্মরত এই কর্মকর্তা। মাত্র ১ যুগের কর্মযজ্ঞে হয়েছেন শতকোটি টাকার মালিক। গ্রামে গড়ে তুলেছেন রাজপ্রাসাদ,ঢাকাতে করেছেন একাধিক প্লট,ফ্ল্যাট। চড়েন দামি গাড়িতে। স্ত্রী,সন্তান এবং আত্মীয়-স্বজনদের নামে গড়েছেন একাধিক সম্পত্তি।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে কাস্টমস ও ভ্যাটের ১৪ ব্যাচের এই কর্মকর্তার এমনই তথ্য।

জানা যায়, ২০১৪ সালের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন আলতাফ হোসেন। এরপর আর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আলতাফ সবচেয়ে বেশি ঘুষ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড সহিদুল ইসলামের সময়ে। শুল্ক গোয়েন্দার তখনকার মহাপরিচালকের ডান হাত ছিলেন এই আলতাফ। এমনকি ক্যাডার অফিসারদেরও ডান হাত নিতেন তিনি। একদিকে ঘুষের মাধ্যমে অর্জন করতেন কোটি কোটি টাকা অন্যদিকে ক্ষমতার দাপটে মাটিতে পা পড়তো না এই রাজস্ব কর্মকর্তার।

শুল্ক গোয়েন্দায় আলতাফ থাকাকালীন শাহজালাল বিমানবন্দরের এয়ার ফ্রেইট ইউনিটে প্রায় ১ বছরের বেশি সময় ধরে ছিলেন। সেখানে থেকে কয়েক কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়েছেন এই কর্মকর্তা। যা সবকিছু জানতো তখনকার শুল্ক গোয়েন্দা প্রধান।  নিয়ম অনুযায়ী শুল্ক গোয়েন্দা দপ্তরে একটি পদে সর্বোচ্চ ৬ মাসের জন্য পদায়ন হয়ে থাকে। কিন্তু এই আলতাফের বিষয়ে কোন নিয়ম মানা হয়নি।

বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জের ফুলহাতা গ্রামের বাসিন্দা কাস্টমস এর বহুল আলোচিত এই আলতাফ হোসেন টাকার কুমির। পৈত্রিক সূত্রে মোড়লগঞ্জের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে তিনি মুন্সীগঞ্জের কোটায় চাকরি করছেন বলে তথ্য রয়েছে। এই ব্যাপারে আলতাফ হোসেনের মোবাইলে ফোন করে ও হোয়াটস অ্যাপে তথ্য জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলেও তিনি যোগাযোগ করেননি।

অতি সম্প্রতি এনবিআরে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য আলতাফ হোসেন ও তার সিন্ডিকেট এনবিআর এর আন্দোলনে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে এবং আন্দোলনের সম্মুখ সারিতে নেতৃত্ব দিয়েছে। আন্দোলনে তার অংশগ্রহনের ভিডিও ফুটেজ ও তথ্য প্রমাণ বর্তমান অর্থনীতির হাতে এসেছে।

১০ম গ্রেডের  (ক্ষেত্রবিশেষে ১১ বা তার নিচের গ্রেডও হতে পারে) একজন সামান্য কর্মকর্তা হিসেবে প্রাপ্য বেতনে তার ঢাকা শহরে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করাই যেখানে দূরহ ঠিক সেখানে আলতাফ হোসেন ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় গড়ে তুলেছেন একাধিক ফ্ল্যাট। তার সারা জীবনের চাকরিকালীন বেতন সর্বসাকুল্যে ৩০-৩৫ লাখ টাকা হতে পারে; অথচ তিনি সম্পদ করেছেন কোটি টাকার। উল্লেখ্য যে, ১০ম গ্রেডের একজন কর্মকর্তার সর্বসাকুল্যে বেতন ৩৮,৬৪০ (আটত্রিশ হাজার ছয়শত চল্লিশ) টাকা।

বিভিন্ন তথ্যসূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, আলতাফ হোসেনের অর্জিত সম্পদের তালিকা অত্যন্ত দীর্ঘ। আপাদমস্তক দুর্নীতিতে আচ্ছন্ন, অত্যন্ত ক্ষমতাধর ও দুর্নীতির বরপুত্র আলতাফ হোসেন বিভিন্নজনের নিকট বলেছেন, টাকা হলে দুদককে কেনা যায়। তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও দুদকের কর্মকর্তাদের ব্যাপারেও বিরূপ মন্তব্য করেছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা এই তথ্য দেন।

সূত্র মতে, এনবিআর এর একজন সাবেক ক্ষমতাধর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সুপারিশে আলতাফ চাকরিতে যোগদান করেন বলে জানা গেছে। ঐ কর্মকর্তার দাপটে তিনি এনবিআর এ অদম্য ক্ষমতাধর হয়ে উঠেন। শুধু তাই নয়, ঐ কর্মকর্তার নাম ভাঙ্গিয়ে দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ডও বনে যান।

চাকরি জীবনের শুরুতে সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা পদে কিশোরগঞ্জে তার পদায়ন করা হয়। এরপর খুলনা, শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর ও সর্বশেষ চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে তার পদায়ন।

তিনি একজন আপাদমস্তক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। তিনি তার সহকর্মীদের নিকট বলে থাকেন ঊধ্বতন কর্মকর্তারা যেখানে ঘুষ ছাড়া ফাইল ছাড়েন না এবং অপরদিকে নজরানা দিতে হয় সেক্ষেত্রে আমাদের দুর্নীতি করতে বাধা কোথায়?

গণমাধ্যমকে তিনি মোটেও পরোয়া করেন না। আমাদের অনুসন্ধানী টিম যাত্রাবাড়ির দনিয়ার ৩০০/১, পূর্ব রসুলপুর ঠিকানায় তার একটি আলিশান ফ্ল্যাটের সন্ধান পায়। অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় রসুলপুরের মাস্টার বাড়ীতে নির্মানাধীন ১১ তলা ভবনের ৯ম তলায় তার আরও একটি ফ্ল্যাটের সন্ধান পাওয়া যায়। এছাড়াও স্ত্রী ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের নামে-বেনামে বিভিন্ন স্থানে সম্পদ ও ফিক্সড ডিপোজিট রয়েছে বলে জানা গেছে।

একজন সামান্য রাজস্ব কর্মকর্তার সম্পদ দেখে এই অনুসন্ধানী টিম হতবাক। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে চাকরিপ্রাপ্ত আলতাফ হোসেন অত্যন্ত ক্ষমতাধর। তার রয়েছে আলাদা সিন্ডিকেট। পুরো সিন্ডিকেটটি দুর্নীতির কারিগর।

উল্লাপাড়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় অভিযুক্ত যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুসের জামায়াতে যোগদান

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
   
উল্লাপাড়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় অভিযুক্ত যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুসের জামায়াতে যোগদান

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত পলাতক ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আরও প্রায় ৩০ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক জামায়াতে যোগদেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের বাগমারা বাজারে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সমাবেশে এই যোগদান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁন। তিনি নবাগতদের ফুলের মালা দিয়ে দলে বরণ করেন।

দলে যোগদানকারীদের মধ্যে উধুনিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস উল্লেখযোগ্য। তিনি উধুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল জলিলের ছেলে বলে জানা গেছে।জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী আব্দুল মালেক শান্ত অভিযোগ করে বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী উধুনিয়া ইউনিয়নের ১৬ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনায় আব্দুল কুদ্দুসের সম্পৃক্ততা ছিল এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হয়। তিনি আরো অভিযোগ করেন ৩ আগষ্ট উল্লাপাড়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মী হামলা করে এদের সাথে আব্দুল কুদ্দুস ও ছিলে। তার অভিযোগ, গ্রেপ্তার এড়াতে আব্দুল কুদ্দুস ও তার অনুসারীরা জামায়াতে যোগ দিয়েছেন।তবে উধুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির আব্দুল আলীম বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আব্দুল কুদ্দুস জামায়াতে ইসলামীর সদস্যপদের ফরম পূরণ করেন। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি দলে যোগ দেন। তিনি জানান, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ থেকে ৩ জন এবং বিএনপি থেকে ৪৭ জনসহ মোট প্রায় ৫০ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক এদিন জামায়াতে যোগদান করেছেন।

জয়ী হলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ হবে না বিএনপির এই দুই প্রার্থীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
   
জয়ী হলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ হবে না বিএনপির এই দুই প্রার্থীর

নির্বাচনে জিতলেও বিএনপি মনোনীত দুই প্রার্থীর আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফল স্থগিত থাকবে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।

তাঁরা হলেন চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী আসলাম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তাঁরা নির্বাচন করতে পারবেন, তবে বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে পৃথক আপিল করেছিল জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রাখে।ইসির সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক পৃথক রিট করলে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেন।

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক আপিল বিভাগে আবেদন করে। আনোয়ার সিদ্দিকীর করা লিভ টু আপিল ও ব্যাংকের করা আবেদনের ওপর গত সোমবার শুনানি হয়। পরে গতকাল লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আদেশে বলা হয়, আসলাম চৌধুরী বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

এদিকে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছিলেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে। প্রার্থিতা ফিরে পেতে সরোয়ার আলমগীর রিট করলে হাইকোর্ট ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত করে মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন নুরুল আমিন।

আপিল বিভাগ গতকাল লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) মঞ্জুর করেন। আদেশে বলা হয়, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন সরোয়ার আলমগীর, তবে তিনি বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

বাংলাদেশ বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুরের বাসার নির্যাতিত গৃহকর্মী মোহনাকে হাসপাতালে বিমান উপদেষ্টা

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
   
বাংলাদেশ বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুরের বাসার নির্যাতিত গৃহকর্মী মোহনাকে হাসপাতালে বিমান উপদেষ্টা

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তৎকালীন এমডি ও সিইও সাফিকুর রহমানের বাসার নির্যাতিত গৃহকর্মী শিশু মোহনার (১১) চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাণিজ্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস টেলিফোনে মোহনার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা মোহনার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকদের কাছ থেকে বিস্তারিত খোঁজ নেন। শিশুটির চিকিৎসার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের আশ্বস্ত করেন।

এ সময় উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বিমানের এমডি ড. হুমায়রা সুলতানা, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন এবং হাসপাতালের পরিচালক ডা. আমিনুল ইসলাম।

মোহনার উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই আমাকে তোমার খোঁজ নিতে পাঠিয়েছেন। তোমার আর ভয়ের কোনো কারণ নেই, আমরা তোমার পাশে আছি।”পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস টেলিফোনে বাণিজ্য উপদেষ্টার কাছে মোহনার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। মোহনার সঙ্গে আচরণ জাতির জন্য লজ্জাজনক বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টা। মোহনার চিকিৎসার ব্যয়সহ তার সব দায়িত্ব সরকার বহন করবে বলেও জানান।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “শিশুর প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধীরা ইহকাল ও পরকালে উপযুক্ত শাস্তি পাবে।” এছাড়া তিনি মোহনার বাবা মোস্তফাকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, শিশু মোহনা বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তৎকালীন এমডি ও সিইও সাফিকুর রহমানের বাসার গৃহকর্মী। গত ৩১ জানুয়ারি গুরুতর জখম অবস্থায় মোহনাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রীকে গত ২ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

You cannot copy content of this page