খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২২ মাঘ, ১৪৩২

‘২৪০টি আসন ইতিমধ্যেই বিএনপির পক্ষে চলে গিয়েছে’- সাতক্ষীরা-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ
‘২৪০টি আসন ইতিমধ্যেই বিএনপির পক্ষে চলে গিয়েছে’- সাতক্ষীরা-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন

কেন্দ্রের সরকার যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন করতে যাচ্ছে, তা এখন পরিষ্কারভাবে বোঝা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাতক্ষীরা-৩ (কালিগঞ্জ–আশাশুনি) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন।

তিনি বলেন, বিবিসির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইতোমধ্যেই ২৪০টি আসন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষে চলে গিয়েছে এবং সবাই আশা করছে দলটি থ্রি-ফোর মেজরিটি নিয়ে ক্ষমতায় যাবে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে উপজেলার ডিআরএম ইউনাইটেড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের জনসভায় কাজী আলাউদ্দিন বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফার আলোকে দেশ পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, জনগণের রায়ে নির্বাচিত হলে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করা হবে এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ ও কর্মসংস্থানের উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনে এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এ অঞ্চলে রাস্তাঘাট, কালভার্ট, ব্রিজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে। পুনরায় নির্বাচিত হলে অসম্পূর্ণ উন্নয়ন কাজ শেষ করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

একই সঙ্গে ধর্মকে ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিরুদ্ধে সতর্ক করে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের কোনো স্থান থাকবে না।

ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শেখ গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এম. হাফিজুর রহমান শিমুলের সঞ্চালনায় জনসভায় প্রধান অতিথি’র বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আইয়ুব হোসেন মুকুল। প্রধান বক্তা ছিলেন সাতক্ষীরা জর্জ কোর্টের পিপি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাড. শেখ আব্দুস সাত্তার, বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সদস্য শেখ এবাদুল ইসলাম, শেখ নুরুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ডা. শফিকুল ইসলাম বাবু, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান বাপ্পী, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান রোকন,ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক রেজাউল ইসলাম। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

উল্লাপাড়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় অভিযুক্ত যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুসের জামায়াতে যোগদান

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
   
উল্লাপাড়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় অভিযুক্ত যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুসের জামায়াতে যোগদান

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত পলাতক ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আরও প্রায় ৩০ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক জামায়াতে যোগদেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের বাগমারা বাজারে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সমাবেশে এই যোগদান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁন। তিনি নবাগতদের ফুলের মালা দিয়ে দলে বরণ করেন।

দলে যোগদানকারীদের মধ্যে উধুনিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস উল্লেখযোগ্য। তিনি উধুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল জলিলের ছেলে বলে জানা গেছে।জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী আব্দুল মালেক শান্ত অভিযোগ করে বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী উধুনিয়া ইউনিয়নের ১৬ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনায় আব্দুল কুদ্দুসের সম্পৃক্ততা ছিল এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হয়। তিনি আরো অভিযোগ করেন ৩ আগষ্ট উল্লাপাড়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মী হামলা করে এদের সাথে আব্দুল কুদ্দুস ও ছিলে। তার অভিযোগ, গ্রেপ্তার এড়াতে আব্দুল কুদ্দুস ও তার অনুসারীরা জামায়াতে যোগ দিয়েছেন।তবে উধুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির আব্দুল আলীম বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আব্দুল কুদ্দুস জামায়াতে ইসলামীর সদস্যপদের ফরম পূরণ করেন। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি দলে যোগ দেন। তিনি জানান, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ থেকে ৩ জন এবং বিএনপি থেকে ৪৭ জনসহ মোট প্রায় ৫০ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক এদিন জামায়াতে যোগদান করেছেন।

জয়ী হলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ হবে না বিএনপির এই দুই প্রার্থীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
   
জয়ী হলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ হবে না বিএনপির এই দুই প্রার্থীর

নির্বাচনে জিতলেও বিএনপি মনোনীত দুই প্রার্থীর আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফল স্থগিত থাকবে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।

তাঁরা হলেন চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী আসলাম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তাঁরা নির্বাচন করতে পারবেন, তবে বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে পৃথক আপিল করেছিল জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রাখে।ইসির সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক পৃথক রিট করলে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেন।

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক আপিল বিভাগে আবেদন করে। আনোয়ার সিদ্দিকীর করা লিভ টু আপিল ও ব্যাংকের করা আবেদনের ওপর গত সোমবার শুনানি হয়। পরে গতকাল লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আদেশে বলা হয়, আসলাম চৌধুরী বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

এদিকে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছিলেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে। প্রার্থিতা ফিরে পেতে সরোয়ার আলমগীর রিট করলে হাইকোর্ট ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত করে মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন নুরুল আমিন।

আপিল বিভাগ গতকাল লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) মঞ্জুর করেন। আদেশে বলা হয়, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন সরোয়ার আলমগীর, তবে তিনি বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

বাংলাদেশ বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুরের বাসার নির্যাতিত গৃহকর্মী মোহনাকে হাসপাতালে বিমান উপদেষ্টা

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
   
বাংলাদেশ বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুরের বাসার নির্যাতিত গৃহকর্মী মোহনাকে হাসপাতালে বিমান উপদেষ্টা

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তৎকালীন এমডি ও সিইও সাফিকুর রহমানের বাসার নির্যাতিত গৃহকর্মী শিশু মোহনার (১১) চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাণিজ্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস টেলিফোনে মোহনার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা মোহনার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকদের কাছ থেকে বিস্তারিত খোঁজ নেন। শিশুটির চিকিৎসার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের আশ্বস্ত করেন।

এ সময় উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বিমানের এমডি ড. হুমায়রা সুলতানা, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন এবং হাসপাতালের পরিচালক ডা. আমিনুল ইসলাম।

মোহনার উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই আমাকে তোমার খোঁজ নিতে পাঠিয়েছেন। তোমার আর ভয়ের কোনো কারণ নেই, আমরা তোমার পাশে আছি।”পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস টেলিফোনে বাণিজ্য উপদেষ্টার কাছে মোহনার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। মোহনার সঙ্গে আচরণ জাতির জন্য লজ্জাজনক বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টা। মোহনার চিকিৎসার ব্যয়সহ তার সব দায়িত্ব সরকার বহন করবে বলেও জানান।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “শিশুর প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধীরা ইহকাল ও পরকালে উপযুক্ত শাস্তি পাবে।” এছাড়া তিনি মোহনার বাবা মোস্তফাকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, শিশু মোহনা বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তৎকালীন এমডি ও সিইও সাফিকুর রহমানের বাসার গৃহকর্মী। গত ৩১ জানুয়ারি গুরুতর জখম অবস্থায় মোহনাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রীকে গত ২ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

You cannot copy content of this page