আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক এখন বিএনপির দিকে গবেষণা ফাউন্ডেশন সিআরএফ এর জনমত জরিপ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে ভোটারদের মনস্তত্ত্ব ও পছন্দের এক চাঞ্চল্যকর চিত্র ফুটে উঠেছে সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে। যেখানে দেখা গেছে কমা বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সাবেক ভোটারদের এক বিশাল অংশ এবার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দিকে ঝুঁকেছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের পুরনো ভোটারদের ৪৮.২ শতাংশ বা প্রায় অর্ধেকই জানিয়েছেন কমা তাঁরা এবার ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেবেন।
বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে কমা জনসাধারণের পালস উন্মোচন: একটি দেশব্যাপী জরিপ থেকে প্রাপ্ত ফলাফল কমা শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এই জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়। যোগাযোগ ও গবেষণা ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) এবং বাংলাদেশ নির্বাচন ও জনমত অধ্যয়ন যৌথভাবে এই জরিপটি পরিচালনা করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় কমা আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করায় তাদের সমর্থকদের একটি বড় অংশ অন্য বড় দলগুলোর মধ্যে ভাগ হয়ে গেছে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী কমা আওয়ামী লীগের সাবেক ভোটারদের ৪৮.২ শতাংশ এবার বিএনপিকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যদিকে কমা ২৯.৯ শতাংশ সাবেক ভোটার এবার দাঁড়িপাল্লা বা জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীকে ভোট দেবেন। এ ছাড়া কমা ৬.৫ শতাংশ ভোটার জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপিকে বেছে নিয়েছেন এবং ১৩ শতাংশ ভোটার ছোট দলগুলোকে ভোট দেবেন। বাকি ২.৪ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন অবস্থায় আছেন।
জরিপে ২০০৮ সালের পর থেকে যারা প্রথমবার ভোট দেবেন কমা সেই নতুন ভোটারদের পছন্দের তালিকায় বড় চমক লক্ষ্য করা গেছে। তরুণ ও প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া ভোটারদের ৩৭.৪ শতাংশ জামায়াতকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে কমা ২৭ শতাংশ ভোটার বিএনপির পক্ষে এবং ১৭ শতাংশ এনসিপির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বাকি ১৮.৬ শতাংশ নতুন ভোটার এখনো নিশ্চিত নন।
ভোটাররা এবার দল বা ধর্মের চেয়ে সুশাসন ও সততাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে কমা ৬৭.৩ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন কমা প্রার্থীর বা দলের দুর্নীতির রেকর্ড তাদের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলবে। মাত্র ৩৫.৯ শতাংশ ভোটার ধর্মকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন কমা যা অতীতের তুলনায় অনেক কম। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কমা উন্নয়ন কমা কর্মসংস্থান ও জাতীয় নিরাপত্তা ভোটারদের ভাবনায় প্রাধান্য পাচ্ছে।
এই জরিপে দেশের ৬৪ জেলার ১৮০ সংসদীয় আসনের ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটার অংশগ্রহণ করেছেন। অংশগ্রহণকারীদের ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার ভোট দিতে ইচ্ছুক বলে জানিয়েছেন। জরিপ অনুযায়ী কমা ৩৩.২ শতাংশ মানুষ দল ও প্রার্থী উভয়কেই গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং ৩০.৪ শতাংশ শুধু দলকে প্রধান্য দিচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ বলেন কমা জরিপে ৯০ শতাংশ মানুষ ভোট দেওয়ার আগ্রহ দেখালেও ভোটের দিনের নিরাপত্তা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি জানান কমা ৮ শতাংশ ভোটার যারা এখনো অনিশ্চিত কমা পরিস্থিতি ভালো না দেখলে তারা ভোটকেন্দ্রে নাও যেতে পারেন। সিআরএফ সহ-সভাপতি অধ্যাপক সাহাবুল হক জানান কমা মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের পাশাপাশি একটি চাপা উদ্বেগও কাজ করছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে কি না কমা ব্যালট বাক্স দখল হবে কি না কমা এই টেনশন ভোটারদের মনে রয়ে গেছে। ভোটাররা এবার জনদরদি এবং শক্তিশালী নেতৃত্ব দিতে পারবেন এমন প্রার্থীকেই পছন্দ করছেন।
এই জরিপের ফল থেকে এটি স্পষ্ট যে কমা আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিএনপির জন্য যেমন একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে কমা তেমনি তরুণ ভোটারদের মধ্যে জামায়াতের প্রভাব বৃদ্ধির বিষয়টিও ভবিষ্যতের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের দিনের পরিবেশের ওপর।


আপনার মতামত লিখুন