ঈদের আগে ইমাম-মুয়াজ্জিন-খতিবদের সম্মানি দেবে সরকারঃ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন
বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের জন্য মাসিক সম্মানী ও উৎসব ভাতার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে হাঁটল বর্তমান সরকার। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকার মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবদের এই বিশেষ সম্মানীর আওতায় আনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তাঁর তৃতীয় কর্মদিবস হলেও, তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে আজই তিনি প্রথম অফিস করেন। এর আগে গত দুই কার্যদিবস তিনি বাংলাদেশ সচিবালয়ে অফিস করেছিলেন।
নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকারসমূহ দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়নের লক্ষে আজকের বৈঠকটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
তিনি জানান, বর্তমান সরকার ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। উপদেষ্টা বলেন, আমাদের নির্বাচনী একটি বড় প্রতিশ্রুতি ছিল দেশের মসজিদসমূহের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের গুরুদের রাষ্ট্রীয়ভাবে মাসিক সম্মানী ও উৎসব ভাতা প্রদান করা। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় আজ সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, আসন্ন ঈদুল ফিতরের পূর্বেই পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে কিছু এলাকায় এই সম্মানী প্রদান শুরু হবে।
বৈঠকে কেবল ধর্মীয় খাতের উন্নয়ন নয়, বরং রাষ্ট্রের সামগ্রিক কাঠামো সংস্কার নিয়েও দীর্ঘ আলোচনা হয়। বিশেষ করে বৈষম্যহীন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ছিল সভার অন্যতম প্রধান বিষয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন দেশের প্রতিটি শিক্ষিত তরুণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়।
এই লক্ষে শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়। সভায় আলোচনা করা হয় যে, বর্তমান যুগের চাহিদার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কারিগরি ও বাস্তবমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করতে না পারলে কর্মসংস্থানের সংকট দূর করা সম্ভব হবে না। সরকার এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চায় যেখানে কোটা বা স্বজনপ্রীতি নয়, বরং মানুষের দক্ষতাই হবে নিয়োগের প্রধান মানদণ্ড।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এটি ছিল তারেক রহমানের জন্য এক ব্যস্ততম দিন। প্রথমবারের মতো তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রবেশকালে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপরই তিনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিত হন এবং সরাসরি নীতিনির্ধারণী সভায় যোগ দেন।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে প্রতিটি ফাইল পর্যবেক্ষণ করছেন এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন। আজকের সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন আরও পরিষ্কার করেন যে, এই সম্মানী প্রকল্পটি একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। দেশের হাজার হাজার মসজিদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন এবং প্রকৃত হকদারদের হাতে টাকা পৌঁছে দিতে প্রশাসন নিরলস কাজ করছে। ঈদের আগে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়াটি পরবর্তীতে সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে, যাতে কোনো ধর্মীয় গুরু এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা থেকে বঞ্চিত না হন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ধর্মীয় সেবকদের এই সম্মানীর আওতায় আনা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি কেবল তাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করবে না, বরং সমাজে তাদের মর্যাদাকে আরও সুসংহত করবে। এছাড়া কর্মসংস্থান ও শিক্ষা সংস্কারের ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ দেশের তরুণ সমাজের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
সরকারের এই পদক্ষেপগুলো যদি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের জোয়ার আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন