খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২২ মাঘ, ১৪৩২

এসিল্যান্ড থেকে শুরু করে পিয়নের দাপটে অনিয়মের মডেলে পরিণত কেরানীগঞ্জ মডেল থানা ভূমি অফিস

সজীব আকবর
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৮ অপরাহ্ণ
এসিল্যান্ড থেকে শুরু করে পিয়নের দাপটে অনিয়মের মডেলে পরিণত কেরানীগঞ্জ মডেল থানা ভূমি অফিস

অনিয়মের আখড়া হয়ে উঠেছে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা ভূমি অফিস। ভূমির রেকর্ড জালিয়াতি, নামজারি, খতিয়ান ও ডিসিআর পেতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ঘুষ-বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে ভুক্তভোগীদের। সহকারী কমিশনার (ভূমি) থেকে শুরু করে পিয়ন পর্যন্ত এই অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত বলে তারা জানিয়েছেন।

ভূমি অফিসের এই ঘুষ-বাণিজ্য ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জনপ্রশাসন সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে ইতোমধ্যে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কেরানীগঞ্জ উপজেলার সম্পাদক কাওসার আহমেদ।ভুক্তভোগীরা জানায়, টাকার জন্য কারণ ছাড়াই ভূমি অফিসে সেবা গ্রহীতাদের নামজারির আবেদন বাতিল, ভূমি সংক্রান্ত মিস কেসের রায় ঝুলিয়ে রাখা, বিভ্রান্তিকর রায় প্রদানসহ ব্যাপক অনিয়ম হয় ভূমি অফিসে। মডেল থানা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার জান্নাতুল মাওয়া, অফিসের কানুনগো শহিদুল ইসলাম, নামজারি সহকারী মাহফুজ বিশ্বাস ও নাজির শরীফ আহমেদ এবং তাদের দালালের মাধ্যমে অর্থ আদায় করা হয়। নামজারি ফাইল জমা দিতে ঘুষ দেওয়া হয় দালালদের মাধ্যমে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নামজারি, নাম সংশোধন, অর্পিত সম্পত্তি, খাস সম্পত্তি অবমুক্ত হলেও ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ১৫ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ আদায় করা হয়।

জিনজিরা ইউনিয়নের চর রঘুনাথপুরের জেসমিন নিলা নামে এক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, তার চাচাত ভাইয়ের কাছ থেকে তিনি ২০২৩ সালে সম্পত্তি খরিদ করেন। নামজারির আবেদন করলে ভুলে পাঁচ শতাংশ জমির জায়গায় দুই শতাংশ জমির নামজারি হয়। কিন্তু ডিসিআর না হওয়াতে তিনি আর খতিয়ান পাননি। সেই অসম্পূর্ণ নামজারি বাতিলের আবেদন দীর্ঘদিন শুনানির পর আদেশের তারিখ দেওয়া হলেও টাকা না পাওয়াতে এখনো আদেশ পাননি।

অপর ভুক্তভোগী কুশিয়ারবাগ গ্রামের প্রতিবন্ধী মো. সুমন, গোপপাড় মৌজার খরিদ সূত্রে মালিক থাকাবস্থায় পাগল হয়ে যান। তার মা নিরক্ষর ও মানুষের বাসায় ঝিয়ের কাজ করেন। তাদের তিন শতক জমি অন্য এক বক্তির নামে ভুলক্রমে নামজারি হয় । প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলে মিস কেস দায়ের করেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল মাওয়া টাকা না পাওয়ায় এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেননি বলে জানান তার মা শাহানা বেগম।

মডেল থানার গদারবাগ এলাকার স্বপন বাড়ৈ  বলেন, নামজারি অসম্পূর্ণ হওয়ায় তা বাতিলের জন্য মিস কেস আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, আগের নামজারিতে তার নাম বহাল করা হোক। কিন্তু শুনানি শেষে আদেশ দিলেও ৩০ হাজার টাকা না দেওয়ায় আগের নামজারিতে নাম বহালের পরিবর্তে মূল খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করার বিতর্কিত আদেশ দেন  এসিল্যান্ড জান্নাতুল মাওয়া ।

নজরগঞ্জ এলাকার সবুজ মিয়া জানান, নামজারির আবেদন জমা দিতে গিয়ে বিড়ম্বনার স্বীকার হন। নামজারির আবেদনের শুনানির দিন অফিসের কানুনগো ও অ্যাসিল্যান্ড জান্নাতুল মাওয়া তাদের লাঞ্ছিত করেন। প্রায় চার ঘণ্টা তাকে বিনা কারণে বসিয়ে রাখা হয়।

এছাড়াও মডেল থানা ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে অর্থ না দেওয়ায় নামজারি বাতিল করা, লিজের সম্পত্তি কর আদায় না করা, নামজারিতে দালাল দিয়ে অর্থ আদায় ও অর্থের বিনিময়ে সরকারি সম্পত্তি লিজ দেওয়ার একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে সুজনের কেরানীগঞ্জ উপজেলার সম্পাদক কাওসার আহম্মেদ বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল মাওয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়ায় ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে সহকারী সচিব পরিচয়ে একজন ফোন দিয়ে তাকে হুমকিও দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, কেরানীগঞ্জ মডেল থানা ভূমি অফিসের কানুনগো শহিদুল ইসলাম, নামজারি সহকারী মাহফুজ বিশ্বাস ও নাজির শরীফ আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে ভূমি অফিসে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে নামজারিসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাদের অফিসে ৫-৭ জন দালাল রয়েছে । তাদের মাধ্যমে সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে ঘুষ ও অনিয়মের টাকা আদায় করা হয়।

এ ব্যাপারে মডেল থানা ভূমি অফিসের কানুনগো শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কাজ করলে অভিযোগ থাকবে। যে কারো অভিযোগ করার অধিকার আছে। দুর্নীতি-অনিয়ম সম্পর্কে তিনি কথা বলতে নারাজ। তিনি এসিল্যান্ড জান্নাতুল মাওয়ার সঙ্গে কথা বলার জন্য অনুরোধ করেন।

নামজারি সহকারী মাহফুজ বিশ্বাস বলেন, এসিল্যান্ডের নির্দেশনা ছাড়া কিছুই হয় না। কথা বলার থাকলে তার সঙ্গে বলেন।

ভূমি অফিসের নাজির শরীফ আহমেদ অভিযোগের ব্যাপারে বলেন, আগে দুর্নীতি ও অনিয়ম ছিল। আমরা এখন স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছি। অফিস আগের মতো নেই। এসিল্যান্ডের নির্দেশে এখন কোনো দালাল অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ পায় না। এরপরও যদি অভিযোগ থাকে অ্যাসিল্যান্ডকে বললে ব্যবস্থা নেবেন।

এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল মাওয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি মডেল থানা ভূমি অফিসে যোগদান করার পর অনিয়ম অনেক কমে গেছে। তার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, অভিযোগকারী বিভিন্ন সময়ে অফিস থেকে ইলিগ্যাল সুবিধা নিত, সেগুলো আমি বন্ধ করে দিয়েছি তাই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে।

অফিসে কানুনগো, নামজারি সহকারী, নাজির ও দালালদের মাধ্যমে সেবা প্রার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে তিনি নিজে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করেন।

উল্লাপাড়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় অভিযুক্ত যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুসের জামায়াতে যোগদান

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
   
উল্লাপাড়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় অভিযুক্ত যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুসের জামায়াতে যোগদান

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত পলাতক ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আরও প্রায় ৩০ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক জামায়াতে যোগদেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের বাগমারা বাজারে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সমাবেশে এই যোগদান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁন। তিনি নবাগতদের ফুলের মালা দিয়ে দলে বরণ করেন।

দলে যোগদানকারীদের মধ্যে উধুনিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস উল্লেখযোগ্য। তিনি উধুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল জলিলের ছেলে বলে জানা গেছে।জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী আব্দুল মালেক শান্ত অভিযোগ করে বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী উধুনিয়া ইউনিয়নের ১৬ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনায় আব্দুল কুদ্দুসের সম্পৃক্ততা ছিল এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হয়। তিনি আরো অভিযোগ করেন ৩ আগষ্ট উল্লাপাড়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মী হামলা করে এদের সাথে আব্দুল কুদ্দুস ও ছিলে। তার অভিযোগ, গ্রেপ্তার এড়াতে আব্দুল কুদ্দুস ও তার অনুসারীরা জামায়াতে যোগ দিয়েছেন।তবে উধুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির আব্দুল আলীম বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আব্দুল কুদ্দুস জামায়াতে ইসলামীর সদস্যপদের ফরম পূরণ করেন। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি দলে যোগ দেন। তিনি জানান, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ থেকে ৩ জন এবং বিএনপি থেকে ৪৭ জনসহ মোট প্রায় ৫০ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক এদিন জামায়াতে যোগদান করেছেন।

জয়ী হলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ হবে না বিএনপির এই দুই প্রার্থীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
   
জয়ী হলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ হবে না বিএনপির এই দুই প্রার্থীর

নির্বাচনে জিতলেও বিএনপি মনোনীত দুই প্রার্থীর আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফল স্থগিত থাকবে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।

তাঁরা হলেন চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী আসলাম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তাঁরা নির্বাচন করতে পারবেন, তবে বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে পৃথক আপিল করেছিল জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রাখে।ইসির সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক পৃথক রিট করলে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেন।

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক আপিল বিভাগে আবেদন করে। আনোয়ার সিদ্দিকীর করা লিভ টু আপিল ও ব্যাংকের করা আবেদনের ওপর গত সোমবার শুনানি হয়। পরে গতকাল লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আদেশে বলা হয়, আসলাম চৌধুরী বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

এদিকে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছিলেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে। প্রার্থিতা ফিরে পেতে সরোয়ার আলমগীর রিট করলে হাইকোর্ট ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত করে মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন নুরুল আমিন।

আপিল বিভাগ গতকাল লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) মঞ্জুর করেন। আদেশে বলা হয়, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন সরোয়ার আলমগীর, তবে তিনি বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

বাংলাদেশ বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুরের বাসার নির্যাতিত গৃহকর্মী মোহনাকে হাসপাতালে বিমান উপদেষ্টা

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
   
বাংলাদেশ বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুরের বাসার নির্যাতিত গৃহকর্মী মোহনাকে হাসপাতালে বিমান উপদেষ্টা

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তৎকালীন এমডি ও সিইও সাফিকুর রহমানের বাসার নির্যাতিত গৃহকর্মী শিশু মোহনার (১১) চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাণিজ্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস টেলিফোনে মোহনার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা মোহনার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকদের কাছ থেকে বিস্তারিত খোঁজ নেন। শিশুটির চিকিৎসার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের আশ্বস্ত করেন।

এ সময় উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বিমানের এমডি ড. হুমায়রা সুলতানা, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন এবং হাসপাতালের পরিচালক ডা. আমিনুল ইসলাম।

মোহনার উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই আমাকে তোমার খোঁজ নিতে পাঠিয়েছেন। তোমার আর ভয়ের কোনো কারণ নেই, আমরা তোমার পাশে আছি।”পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস টেলিফোনে বাণিজ্য উপদেষ্টার কাছে মোহনার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। মোহনার সঙ্গে আচরণ জাতির জন্য লজ্জাজনক বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টা। মোহনার চিকিৎসার ব্যয়সহ তার সব দায়িত্ব সরকার বহন করবে বলেও জানান।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “শিশুর প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধীরা ইহকাল ও পরকালে উপযুক্ত শাস্তি পাবে।” এছাড়া তিনি মোহনার বাবা মোস্তফাকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, শিশু মোহনা বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তৎকালীন এমডি ও সিইও সাফিকুর রহমানের বাসার গৃহকর্মী। গত ৩১ জানুয়ারি গুরুতর জখম অবস্থায় মোহনাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রীকে গত ২ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

You cannot copy content of this page