দুই দফায় বড় দরপতনের পর আজ মঙ্গলবার সোনার দাম ভরিতে বাড়ল ৫,৪২৪ টাকা
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম নিয়ে চলছে চরম অস্থিরতা। গতকাল সোমবার দুই দফায় বড় দরপতনের পর আজ মঙ্গলবার আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে মূল্যবান এই ধাতুর দাম। আজ সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ভালো মানের স্বর্ণের দাম ভরিতে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা।
মার্জিন বৃদ্ধি: যুক্তরাষ্ট্রের সিএমই এক্সচেঞ্জে স্বর্ণ লেনদেনের জামানত বা মার্জিন বাড়িয়ে দেওয়ায় ব্যবসায়ীরা স্বর্ণ বিক্রি করতে শুরু করেন, যা দাম কমাতে সাহায্য করেছিল।
এতসব ধাক্কা সামলে আজ বিশ্ব স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ১৪৩ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণ ৪ হাজার ৮০৮ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। বিশ্ববাজারের এই চড়া ভাবের কারণেই বাজুস দেশের বাজারে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
করোনা পরবর্তী সময়ে স্বর্ণের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়তে বাড়তে এখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে প্রথমবারের মতো প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ টাকার মাইলফলক স্পর্শ করে। এরপর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যায়। একই বছরের অক্টোবর মাসে স্বর্ণের দাম ২ লাখ টাকার ঘর অতিক্রম করে নতুন রেকর্ড গড়ে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গিয়ে আকাশচুম্বী অবস্থানে পৌঁছেছে।
আজকের স্বর্ণের বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা, যা গতকালের তুলনায় ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বেড়েছে। ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দামও বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৩ টাকা, একইভাবে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামও বাড়তে বাড়তে পৌঁছেছে আউন্স প্রতি ৪,৮০৮ ডলারে, যা গতকালের তুলনায় ১৪৩ ডলার বেশি।
বিনিয়োগকারীরা এখন স্বর্ণকে সবচেয়ে নিরাপদ মনে করলেও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এটি এখন বিলাসী নাগালেরও বাইরে। বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতা না কাটলে দেশে স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল হওয়ার কোনো লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না।
গতকাল সোমবার ছিল স্বর্ণের বাজারে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় দরপতনের দিন। ওই দিন সকালে ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা এবং বিকেলে আরও ৫ হাজার ৪২৪ টাকা কমানো হয়েছিল। অর্থাৎ মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রতি ভরিতে দাম কমেছিল ১২ হাজার ১৪ টাকা। কিন্তু আজ বিশ্ববাজারে দাম পুনরায় চড়তে থাকায় দেশের বাজারেও তার প্রতিফলন ঘটেছে।
আজ থেকে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা, যা আগের তুলনায় ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বেড়েছে। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৩ টাকা। ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের নতুন দর দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ৫১৯ টাকা প্রতি ভরি। আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৪ টাকায়।
স্বর্ণের এই অস্বাভাবিক দামের পেছনে মূল কারিগর হিসেবে কাজ করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও অর্থনীতি। গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের আউন্স ৫ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যার প্রভাবে দেশেও স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছেছিল—যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
ফেড চেয়ারম্যান নিয়ে জল্পনা: ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে কাকে মনোনয়ন দেবেন, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছিল। বাজারের আশঙ্কা ছিল, রাজনৈতিক চাপে সুদের হার কমানো হলে ডলারের মান কমবে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়বে। এই ঝুঁকি এড়াতে সবাই স্বর্ণ কিনে মজুত শুরু করেন।
মনোনয়ন ও স্বস্তি: ট্রাম্প তুলনামূলক ‘নিরাপদ’ প্রার্থী কেভিন ওয়ারশকে মনোনয়ন দিতে পারেন—এমন খবরে বাজার কিছুটা শান্ত হয় এবং গতকাল দাম কমে।


আপনার মতামত লিখুন