খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৯ মাঘ, ১৪৩২

বহুল প্রতীক্ষিত সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আজ

দুর্নীতির ডায়েরি ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ
বহুল প্রতীক্ষিত সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। এই নির্বাচনে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী দায়িত্ব পালন করছেন। সঙ্গে প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে বডি ওর্ন ক্যামেরা ও ড্রোনের নজরদারি।

বাংলাদেশে ভোট একদিকে উৎসবের নাম, অন্যদিকে সংঘাত, সহিংসতা আর কেন্দ্র দখলের মঞ্চায়ন। ফলে ১২টি নির্বাচনের মধ্যে শেষ পর্যন্ত উৎসব বহাল ছিল চারটি নির্বাচনে। বাকি আটটিতে ভোটের মর্যাদা রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এবারের নির্বাচনে আগের তুলনায় ভোটার সংখ্যা বেড়েছে। তাই ভোট ও ভোটারের নিরাপত্তায় এবার বাড়তি আয়োজন রাখা হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের কারচুপি এড়াতে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবে বডিওর্ন ক্যামেরা যুক্ত ২৫ হাজার পুলিশ সদস্য। মাথার ওপর নজরদারি করবে পাঁচশর বেশি ড্রোন। এবার সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী মিলিয়ে মাঠে থাকবে প্রায় ৯ লাখ সদস্য। যেখানে মূল দায়িত্বে থাকবেন পুলিশ ও আনসারের সাত লাখের বেশি সদস্য। সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে ১ লাখ সেনা সদস্য, নৌ এবং বিমানবাহিনীও থাকবে বিশেষ নজরদারিতে। এ ছাড়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করবে বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যরা। এর সঙ্গে আছেন দুই হাজার ১০০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

নির্বাচন কমিশন বলছে, কেবল বাহিনী মোতায়েন নয়; বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে। এদিকে জাতীয় সংসদ ও গণভোট একই দিনে হওয়ায় ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। আজ সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। দেশে নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫০টি দল এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। ২৯৯টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুই হাজার ২৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। দলীয় কার্যক্রম স্থগিত থাকায় এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে থাকা দলটির শীর্ষ নেতারা এ নির্বাচন বর্জনের ডাক দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে রয়েছেন ৪৫ হাজার ৩৩০ জন দেশীয় পর্যবেক্ষক এবং প্রায় ৩৫০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক। এছাড়া প্রায় ৯ হাজার ৭০০ জন সাংবাদিক নিবন্ধন করেছেন, যার মধ্যে বিদেশি সাংবাদিক রয়েছেন ১৫৬ জন। এবার প্রথমবারের মতো নির্বাচনে ড্রোন, বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও ব্যাপকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে।

শুরু হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবার সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হওয়ায় ভোটগ্রহণের সময় একঘণ্টা বাড়িয়ে মোট ৯ ঘণ্টা নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

পাশাপাশি এবার নতুনভাবে পোস্টাল ভোট ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একদিনে দুটি ভোট আয়োজনের কারণে বাড়তি সময় প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ইসি জানায়, গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের ফল নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবেন তরুণ ভোটাররা। এবার ৩৫ বছরের নিচে ভোটারের সংখ্যা চার কোটি ৯০ লাখ ৪৩ হাজার ৫৬১ জন। এর মধ্যে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সি ভোটার রয়েছেন ২ কোটি ১২ লাখ ৪২ হাজার ৫৩১ জন। এ বয়সসীমার ভোটারদের মধ্যে পুরুষ ১ কোটি ১৭ লাখ ৫১ হাজার ৯০২ জন, নারী ৯৪ লাখ ৯০ হাজার ২২১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ৪০৮ জন।

অন্যদিকে ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সি ভোটার রয়েছে এক কোটি ৭৮ লাখ ১ হাজার ৩০ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার এক কোটি ৪১ লাখ ১ হাজার ৯০, নারী ভোটার ৩৬ লাখ ৮৯ হাজার ৫৬২ এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার ৫৬৭ জন। ইসি সচিব জানান, এবারের নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার এক হাজার ২৩২ জন। আজ দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে। এটি পরবর্তীতে নতুন তফসিল অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।

নির্বাচনে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্র থেকে ভোটগ্রহণ হবে, যার মধ্যে ২১ হাজার ৫০৬টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোট পরিচালনায় ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। এদের মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ এবং পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন। এবারের নির্বাচনে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই বিভাগীয় কমিশনার, ৬৪ জেলা প্রশাসক এবং তিনজন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রিটার্নিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ৫৯৮ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা দায়িত্বে রয়েছেন। ২৯৯ আসনের ভোটে মোট ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশ নিচ্ছে।

এবারের নির্বাচনে ২৯৯ আসনে মোট প্রার্থী সংখ্যা দুই হাজার ২৮ জন। দলীয় প্রার্থী এক হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন, যার মধ্যে ৬৩ জন দলীয় এবং ২০ জন স্বতন্ত্র। পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা এক হাজার ৯৪৬ জন, এর মধ্যে এক হাজার ৬৯২ জন দলীয় এবং ২৫৩ জন স্বতন্ত্র। ভোটে নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য এক লাখ তিন হাজার, নৌবাহিনীর উপকূলীয় পাঁচ জেলায় ১৭ আসনে ৫ হাজার এবং বিমানবাহিনীর সাড়ে ৩ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। বিজিবি ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্টগার্ড ৩ হাজার ৫৮৫ জন, পুলিশ ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন, র?্যাব ৯ হাজার ৩৪৯ জন, আনসার ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন এবং বিএনসিসি ১ হাজার ৯২২ জন সদস্য দিয়ে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এছাড়া নির্বাচনি অপরাধের বিচারকাজে নিয়োজিত আছেন ৬৫৭ জন বিচারিক হাকিম, এক হাজার ৪৭ জন নির্বাহী হাকিম এবং নির্বাচনি তদন্ত কমিটিতে ৩০০ বিচারিক হাকিম।

এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন ধরনের কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনি অপরাধের ৪৬৮টি আচরণ বিধি ভঙ্গের মামলায় ২৫৯টি মামলায় প্রার্থী ও সমর্থকদের ৩২ লাখ ১৫ হাজার ৪৯০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নির্বাচনি তদন্ত কমিটি সংক্ষিপ্ত বিচারে ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে। ভোটে ইসির নিমন্ত্রণে বিদেশি পর্যবেক্ষক ৫৭ জন, স্বেচ্ছায় ৩৩৫ জন এবং বিদেশি সাংবাদিক ১৫৬ জন এরই মধ্যে দেশে এসেছে। দেশি পর্যবেক্ষক রয়েছে ৮০ সংস্থার ৪৪ হাজার ৯৯৫ জন।

পটুয়াখালীতে ৫০ লাখ টাকাসহ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা কাজল মৃধা আটক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:২৩ পূর্বাহ্ণ
   
পটুয়াখালীতে  ৫০ লাখ টাকাসহ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা কাজল মৃধা আটক

পটুয়াখালীতে কলাপাড়া উপজেলায় অর্ধকোটি টাকাসহ পটুয়াখালী-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থীর কর্মীকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে উপজেলার খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটক মো কাজল মৃধা কলাপাড়া পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং পটুয়াখালী-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী এবিএম মোশাররফ হোসেনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য বলে জানা গেছে।

কোস্টগার্ড সূত্র জানিয়েছে, উদ্ধার করা অর্থ ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে বিতরণ করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এ সময় ঘটনাস্থলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদিক, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কর্মকর্তা মো. রাব্বি ইসলাম রনি, এনএসআই প্রতিনিধি, কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং ডিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে পটুয়াখালী-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী বিএনপি প্রার্থী এবিএম মোশারফ হোসেনের (০১৭১১৩…) মুঠোফোনে একাধিকবার কল করে বন্ধ পাওয়া যায়।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউসার হামিদ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্টগার্ডের একটি টহল দল অভিযান চালায়। এ সময় সন্দেহভাজনের সঙ্গে থাকা একটি বাজারের ব্যাগ তল্লাশি করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল হাসানের উপস্থিতিতে নগদ ৫০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

ঢাকা-৬ আসনের তিন কর্মীকে অন্যায়ভাবে দণ্ড দেওয়ার অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:১৯ পূর্বাহ্ণ
   
ঢাকা-৬ আসনের তিন কর্মীকে অন্যায়ভাবে দণ্ড দেওয়ার অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর

ঢাকা-৬ আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নানের তিন কর্মীকে অন্যায়ভাবে দণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার রাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থী নিজেই এ অভিযোগ করেন। রাজধানীর ধূপখোলা খেলার মাঠ সংলগ্ন শহীদ জুনায়েদ চত্বরে সংবাদ সম্মেলনে ড. মান্নান জানান, নির্বাচন কমিশনের বিধান মোতাবেক জাল ভোট চ্যালেঞ্জিংয়ের জন্য প্রতিটি খামে ১০০ টাকার নোট ৫টা করে পুরো আসনের প্রতিটি কেন্দ্রে দেওয়া হয়। একইভাবে ৪৪নং ওয়ার্ডে দেওয়া হয়েছে। খামগুলো রেডি করার সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা মব সৃষ্টি করে আমাদের ৩ জন নেতাকে মারধর করে।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় আমরা পাল্টা মব সৃষ্টি না করে প্রশাসনের শরণাপন্ন হলে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে এসে ম্যাজিস্ট্রেট কোনো শুনানি না করে আমাদের জন কর্মীকে কারাদণ্ড প্রদান করেন! যেটি পক্ষপাতিত্বের শামিল।

তিনি বলেন, জাল ভোট চ্যালেঞ্জিংয়ের টাকা থাকা অবৈধ নয় কিন্তু তিনি অন্যায়ভাবে আমাদের কর্মীকে দণ্ড দিয়ে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নষ্ট করেছেন। আমাদের কর্মীরা কারো কাছে ভোট চাইছে কিংবা টাকা বিতরণ করেছে এমন ঘটনা সেখানে ঘটেনি এবং কেউ সেটা প্রমাণও দেখাতে পারেনি।

ড. মান্নান আরো বলেন, এছাড়াও জুবিলী স্কুলে আমাদের কর্মীরা পোলিং এজেন্ট কার্ডে স্বাক্ষর করতে যাওয়ার পর বিএনপির লোকেরা সেখানেও মব সৃষ্টি করে। এবং সেখানে তারা আমাদের পোলিং এজেন্টদের মারধর করার পাশাপাশি ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারকে মারধর করে। পরবর্তীতে সেখানে পুলিশ এবং সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমান, জাবেদ কামাল রুবেল, কাদের, রানাসহ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। কিন্তু পুলিশ বা সেনাবাহিনী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করেনি তারা শুধু পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। অথচ এ ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মী আমােদের ৫ জন পোলিং এজেন্ট এবং প্রিজাইডিং অফিসারকে মারধর করে আহত করেছে। এই দুই ঘটনায় তিনি আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করবেন বলে জানান।

এ সময় তিনি আরো বলেন, যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে তারা নির্বাচনে পরাজয়ের ভয়ে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়ে ভয়ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড. মান্নান বলেন, যারা মব সৃষ্টি করেছে আমরাও যদি তাদের মতোই করতাম তাহলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতো। কিন্তু আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে প্রশাসনের শরণাপন্ন হয়েছি। প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকার পরিবর্তে পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ করেছে। যেটি দুঃখজনক এবং প্রশ্নবিদ্ধ।

চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন কেন্দ্র পাহারায় বিএনপি–জামায়াত, সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:০৯ পূর্বাহ্ণ
   
চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন কেন্দ্র পাহারায় বিএনপি–জামায়াত, সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন কেন্দ্রে পাহারা বসিয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। বুধবার রাত নয়টা থেকে তারা কেন্দ্রের আশেপাশে অবস্থান নিতে শুরু করে। একই সাথে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সড়কেও টহল ও মোড়ে মোড়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। অনুমোদনবিহীন গাড়ি আটক করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায় নগরের পাহাড়তলী রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়, আকবরশাহ বিশ্বকলোনী এলাকা, হিলভিউ আবাসিক এলাকা, উত্তর কাট্টলী, দক্ষিণ কাট্টলী, লালখান বাজার এলাকায় দেখা যায়, ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে নেতাকর্মীদের অবস্থান করছেন। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী গলিগুলোতে দলীয় নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি রয়েছে।

কেন্দ্র থেকে ১০০-১৫০ গজের মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের ভোট বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এসব বুথে ব্যস্ত সময় পার করছেন দলীয় নেতা কর্মীরা। কেউ ভোট স্লিপ আলাদা করছেন, কেউ ভোটার স্লিপ বিলি করছেন। রাত এগারোটার পরও অনেক ভোটারকে বুথে এসে ভোটার স্লিপ সংগ্রহ করতে দেখা গেছে।

চট্টগ্রাম ১০ আসনে আব্দুল জলিল উচ্চ বিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম ৮ আসনের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার একটি ভোট কেন্দ্রের বাইরে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকরা একে অন্যের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। কিন্তু নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এমন কোনো ঘটনা এসব এলাকায় ঘটেনি। কেন্দ্রের বাইরে জড়ো হওয়া নেতা কর্মীরা পরস্পরের বিরুদ্ধে নিজেরা স্লোগান দিয়েছে মাত্র।

হিলভিউ আবাসিক এলাকার ভোট কেন্দ্রের ২০০ গজ দূরে রাস্তার দুই পাড়ে বুথ বানিয়েছে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা। রাত ৯টার পর থেকেই দুটি বুথে ২০ থেকে ২৫ জন নেতাকর্মীকে জড়ো হতে দেখা যায়।

বিএনপির বুথে একজন আব্দুল আলিম জানান, ২০১৮ সালে ভোটের আগের রাতেই প্রশাসনের লোকেরা ব্যালটে সিল মেরেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এখন থেকেই পাহারা বসিয়েছেন তারা।

জামায়াতের বুথের দায়িত্বে থাকা ইসমাইল হোসেন জানান, ভোটের সময় যত ঘনিয়ে আসছে প্রশাসনের আচরণ ততই একপাক্ষিক হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীরাও মারমুখী হয়ে উঠতে শুরু করেছে। দলের পক্ষ থেকে ভোর রাতে কেন্দ্রের সামনে আসার নির্দেশনা থাকলেও তারা আগের রাতেই চলে এসেছেন। জনগণের ভোট কাউকে চুরি করতে দেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

You cannot copy content of this page