খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৯ মাঘ, ১৪৩২

আ.লীগের মেয়র আতিকের আস্থাভাজন উপসচিব মোতাকাব্বির এখন বিএনপির মাহাদী আমিনের প্রিয়জন

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ
আ.লীগের মেয়র আতিকের আস্থাভাজন উপসচিব মোতাকাব্বির এখন বিএনপির মাহাদী আমিনের প্রিয়জন

ইতিহাসখ্যাত অর্ধবঙ্গেশ্বরী মহারাণী ভবানীর রাজবাড়ী, উত্তরা গণভবন, কাঁচাগোল্লার শহর ও কবি জীবনান্দ দাশের বনলতা সেনের বাড়ি নাটোরে। তবে এই নাটোরে রয়েছেন আরও একজন। তবে তার কাহিনি একেবারেই ভিন্ন। ছিলেন পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী-মেয়র এবং অন্যদের ক্যাশিয়ার ও অতি-আস্থাভাজন। ৫ আগস্টের পর ভোল পাল্টে বনে যান সংস্কারপন্থি। ব্যস! আর কে পায়। শত অনিয়মের পরও বহালতবিয়তে আছেন। বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্থানে প্রাইজ পোস্টিং হওয়া। এমনকি সরকারি এক দপ্তর থেকে অপসারিত হয়ে অন্য জায়গায় বদলি হয়ে যোগদানের পর থেকে আজ অবধি প্রায় তিন মাস অনুপস্থিত থেকে চাকরির বিধান ভেঙে অংশ নিচ্ছেন নেতাদের আড্ডার আসরে। অবাক করা এতসব কাণ্ড ঘটিয়ে চলেছেন ২৫তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোতাকাব্বির আহমেদ (১৬০৪৭)। যাকে মজা করে তার সামসাময়িক কর্মকর্তারা ডাকেন ১৯৯ নামে। ১৯৯-এর কাহিনী শোনা গেল তারই এক ব্যাচমেটের (যিনি এখন একটি বড়ো জেলার জেলা প্রশাসক) কাছে। ওই জেলা প্রশাসকের মতে, তাদের ব্যাচে নিয়োগ পান ২০০ জন কর্মকর্তা, মোতাকাব্বির মেধাক্রম ১৯৯।

তিনি ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। স্নাতক এবং মাস্টার্সে দ্বিতীয় বিভাগ ও শ্রেণি পেয়ে বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পর ২০০৬ সালে ৬৮০০ টাকা স্কেলের বেতনে চাকরি শুরু করেন নাটোরের গরমাটি গ্রামের দরিদ্র ঘরের সন্তান মোতাকাব্বির আহমেদ, যাকে স্থানীয় এবং ঘনিষ্ঠরা রাজু নামে চেনেন। সেই বছরই মাত্র তিনদিন পর তার বদলি হয় বরগুনায়। এখানে এসেই ভাগ্যের চাকা খুলে যায় রাজুর। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজেকে বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের (বাহাদুর-অজয়) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পরিচয় দিয়ে কৌশলে বাগিয়ে নেওয়া শুরু করেন আকাক্সিক্ষত সবকিছু। বিশাল সম্পদ। সুবিধাজনক পদায়ন। কদিন পরপর বিলাসবহুল বিদেশ ভ্রমণ। শুধু তাই নয়, ধূর্ত মোতাকাব্বির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইভেনিং মাস্টার্স কোর্সে ভর্তি হয়ে পরিচয় দেওয়া শুরু করেন ঢাবির ছাত্র হিসেবে।

হাতে আসা বিভিন্ন নথি এবং সূত্র মোতাবেক, ২০১১ থেকে ২০১৭ এই বছরগুলো ছিল তার ‘লাকি সেভেন’খ্যাত বছর। এ সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী সেলিম খাতুনের হাত ধরে পোস্টিং বাগিয়ে নেন গাজীপুর সদরে ভূমি সহকারী কমিশনার হিসাবে। নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়লে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার তার বিরুদ্ধে লিখত অভিযোগ করলে তাকে নেত্রকোনার কলমাকান্দায় বদলি করা হয়। আবার একইভাবে একই ব্যক্তির হাত ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে পোস্টিং নেন নরসিংদী সদর উপজেলায়। অনিয়ম আর দুর্নীতির পাহাড় রচনা করলে তৎকালীন নরসিংদী জেলা প্রশাসক আবু হেনা মোর্শেদ জামান তার বিরুদ্ধে ১৬৪ পাতার অভিযোগ লিখে জনপ্রশাসনে প্রেরণ করেন। তখন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু হয় এবং এসিআরে কম নম্বর দেওয়া সহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তার নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা মিলে বেশ কয়েকটি গোয়েন্দা রিপোর্টের। তাতে তাকে একজন চরম দুর্নীতিবাজ ও দুর্বিনীত কর্মকর্তা হিসাবে উল্লেখ করেন। প্রায় সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তার আচরণে বিরক্ত ও অতিষ্ঠ বলে এই প্রতিবেদককে জানান।

এই সাত বছরে তার ব্যাপারে অসংখ্য অভিযোগ আসলেও সেগুলো ম্যানেজ করেছেন সিদ্ধহস্তে। এরপর আরেক ধাপ পদন্নোতি পেয়ে তিনি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে সাতক্ষীরায় যোগ দেন ২০১৮ সালে। ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে শরিয়তপুরে সবশেষ এডিসি হিসেবে কাজ করেন তিনি। তারপর মোতাকাব্বিরের আগমণ ঘটে ট্যুরিজম বোর্ডে। চতুর মোতাকাব্বির নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুসের মাধ্যমে কৌশলে বনে যান আওয়ামী লীগ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামের অতি-আস্থাভাজন। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। পুরস্কারস্বরূপ ২০২০ সালেই তাকে পদায়ন করা হয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৫ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে। এই আসনে বসেই মোতাকাব্বির আহমেদ বনে যান সাবেক মেয়র আতিকের ক্যাশিয়ার। ভুয়া বিল-ভাউচার, আসবাবপত্র ক্রয়ে অনিয়ম, টেন্ডার, বদলি-বাণিজ্য, আপ্যায়ন খরচে অনিয়ম, প্রচারণা, বিজ্ঞাপনে অনিয়ম করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতে মেয়র আতিকের একমাত্র ভরসার নাম ছিল মোতাকাব্বির ওরফে রাজু। ঢাউসিকের অধীনে থাকা কারওয়ান বাজার স্থানান্তরের নামে তিনি আসাদুজ্জামান কামালকে ৪০০ কোটি টাকা আয় করে দেন বলেও জানা যায়।

এসব বিষয়-সংক্রান্ত নথি ও তথ্য পাওয়ার পর অনুসন্ধানে নেমে মেলে আরও চমকে দেওয়া তথ্য। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মেয়র আতিকের দলবল নিয়ে ঢাউসিক কার্যালয়ে গেলে ছাত্র-জনতার রোষানল থেকে তাকে বাঁচাতে নিজের গাড়ি পাঠান মোতাকাব্বির। এই খবর জানাজানি হয়ে গেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তার বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল করে এবং তাকে দিনভর অফিসে আটকে রাখে।

একাধিক সূত্র আরও নিশ্চিত করেছে, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হওয়ার সুবাদে কাউকেই পরোয়া করতেন না তিনি। শুধু তাই নয়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীর জন্য বিপুল অর্থের জোগান দিয়েছিলেন তিনি।
এতো গেল এক ধরনের অপকর্মের কথা। মোতাকাব্বিরের বিরুদ্ধে একাধিক সূত্র আরও জানায়, গেল বছর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাকে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের প্রশাসকের পদ থেকে অব্যাহতি দেয় এয়ার টিকিট সিন্ডিকেটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে অনিয়মের অভিযোগে। আটাবের প্রশাসকের দায়িত্বে আসার পর অবৈধ টাকার একটি বড় অংশ তার কাছে পৌঁছে দিত সিন্ডিকেট চক্র।

এই বিষয়ে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তিনজন অতিরিক্ত, যুগ্ম এবং উপসচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মন্ত্রণালয় ১৫ অক্টোবর মোতাকাব্বির কাছ থেকে ফ্লাইট এক্সপার্ট, ফ্লাই ফার দুটি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গ্রাহকের শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে লিখিতভাবে জানতে চেয়েছিল। কিন্তু, তিনি এর কোনো উত্তর দেননি। এরপর তাকে শাস্তিস্বরূপ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়।
একাধিক চেষ্টার পর বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান জানান, উনি যখন ছিলেন, নানান ঝামেলা পাকিয়েছিলেন। আর কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। তার বিষয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বলতে পারবে।

আরও জানতে অনুসন্ধানী দল যায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। সেখান থেকে সূত্র মারফত জানা যায়, মোতাকাব্বির ঘুষ, প্রভাব খাটিয়ে এখনকার পোস্টিং বাগিয়ে নেন। তবে, মোতাকাব্বিরের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা অত্যন্ত বিব্রত হয়ে পড়েন। পরে অনুরোধের মুখে তিনজন যুগ্ম সচিব জানান, মোতাকাব্বির নিজের ইচ্ছায় চলেন। তাকে কিছু বলতে গেলে তিনি তারেক রহমান, অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মাহাদী আমিন, হুমায়ুন কবির ও আতিকুর রহমান রুম্মানের কথা বলে ভয় দেখান। এমনটা তিনি সচিব স্যারের সঙ্গেও করেছেন। ৯ নভেম্বর বদলির আদেশ পেলেও তিনি অফিসে যোগদান করেন ১২ নভেম্বর। এরপর থেকে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত। যোগাযোগ করা হলে তিনি নির্বাচনের প্রচারণা এবং অন্যান্য কাজকর্ম নিয়ে ব্যস্ত বলে ধমক দেন সংশ্লিষ্ট সহকর্মী ও কর্মকর্তাদের। এই প্রতিবেদক এই বছরের জানুয়ারির ১৯ তারিখ সকাল ১০.১৩ মিনিটে একবার, ২৬ তারিখ দুপুর ১২.৫৮ মিনিটে একবার এবং ফেব্রুয়ারির ২ তারিখ রোববার বিকাল ৩.১১ মিনিটে শেষবারের মতো তার অনুসন্ধানে গেলে তার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-১ শাখায় ২২৫/এ নং রুম ফাঁকা পাওয়া যায়। তার সহায়ক কর্মচারীরাও তার অবস্থান জানেন না বলে জানান। এই প্রতিবেদকের হাতে যে ছবিগুলো আছে, তাতে দেখা যায় তিনি একটি রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে গুলশানের একটি রেস্টুরেন্টে আড্ডারত। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের কাগজপত্র ঘেটে দেখা যায়, গত ২৫/১১/২০২৫, ২৪/১২/২০২৫ ও ১২/১/২০২৬ তারিখে তার মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত তিনটি মাসিক সমন্নয় সভার গুরুত্বপূর্ণ সভায় তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। এই বিষয়ে তার মন্ত্রণালয়ের কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কোনো কিছু জানতে অপারগ বলে জানা গেছে। এই প্রতিবেদকের হাতে সব কয়টি সভার রেজ্যুলেশন ও হাজিরাশিট রয়েছে, যাতে অন্য কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর থাকলেও তার স্বাক্ষর নেই।

একজন কর্মকর্তা এমনটা করতে পারেন কি-না, কিংবা এক্ষেত্রে কি ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে এমনটা জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহসানুল হক বলেন, একজন কর্মকর্তা কখনই চাকরিরত অবস্থায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারেন না। নিয়ম নেই। নির্বাচনী প্রচারণায় তো নয়ই। এটা সরকারি চাকরির বিধানাবলি-বহির্ভূত আচরণ। এছাড়া কেউ যদি বিনা অনুমতিতে ৬০ দিনের বেশি কর্মে অনুপস্থিত থাকে তাহলে তার চাকরি থাকবে না। এ বিষয়ে এপিডি উইংয়ের যুগ্মসচিব মিয়া আশরাফ রেজা ফরীদি বলেন, এটা গর্হিত অপরাধ।
মোতাকাব্বিরের অপকর্মনামা এখানেই শেষ হতে পারত। কিন্তু না। এখনো গল্পের অনেকটা বাকি। ২০২৪ সালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্মসচিবের কক্ষে জেলা ডিসি পদায়নকে কেন্দ্র করে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। যার প্রধান হোতা ছিলেন মোতাকাব্বির।
আওয়ামী সরকারের দোসরখ্যাত মোতাকাব্বিরের সুযোগসন্ধানী মনোভাব ও কর্তাব্যক্তিদের তুষ্ট করাই ছিল সাফল্যের চাবিকাঠি। একজন উপসচিবের মাসিক বেতন যেখানে ৬০ হাজার টাকা, সেখানে তার বিলাসী জীবনযাপন প্রশাসনিক অঙ্গনে ঈর্ষণীয়।আলোকিত স্বদেশের হাতে আসা বেশকিছু ট্রাভেল আইটিনারি এবং সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুসারে, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে তিনি স্ত্রী আফরোজ ফারজানা তুলি এবং দুই মেয়ে মেহজাবিন আহমেদ আফরা ও মাহবীন আহমেদ আকসাকে নিয়ে দুই দফা যুক্তরাজ্য সফরে যান। এই সফরের বিমান ভাড়া, হোটেল, সাইট-সিইং ও অন্যান্য বাবদ মোট খরচ ছিল প্রায় ৭০ লাখ টাকা। এছাড়া তিনি পরিবার-সমেত কয়েকদফা ওমরাহ হজও পালন করেছেন। এখানেও তার খরচ প্রায় ৩০ লাখ টাকা। এই খরচের হিসেব, একজন শুধু বেতনের ওপর নির্ভরশীল কর্মকর্তার পক্ষে নিদারুণ অসম্ভব।
বিভিন্ন সূত্র আরও জানিয়েছে, মোতাকাব্বির লন্ডনে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ পাচার করেছেন। তার পরিবারের সবাই শিগগিরই সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করবেন। আটাব প্রশাসক থাকতেই তিনি এয়ার টিকিটের বাজার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় থেকে এসব গুছিয়েছেন।
এসব বিষয়ে জানতে তার বক্তব্য জানতে সশরীরে একাধিকবার তার অফিসে গিয়ে মোতাকাব্বিরকে পাওয়া যায়নি। এমনকি তার মুঠোফোনেও একাধিকবার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোতাকাব্বির আহমেদের মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি বলেন, আমার বিষয়ে অভিযোগের তথ্য-প্রমাণ থাকলে লিখে দিন। আমি মিটিংয়ে আছি।
এ বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইদুর রহমান খান বলেন, মোতাকাব্বিরের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। তিনি বর্তমানে ঢাকার বাইরে নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করছেন ।

জামায়াত-শিবির ও এনসিপির কর্মীরা কেন্দ্র দখল করে কারচুপির চেষ্টা করেছে: মির্জা আব্বাস

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ
   
জামায়াত-শিবির ও এনসিপির কর্মীরা কেন্দ্র দখল করে কারচুপির চেষ্টা করেছে: মির্জা আব্বাস

ঢাকা-৮ আসনের ভোটকেন্দ্র দখল করে জামায়াত-শিবির ও এনসিপির কর্মীরা কারচুপির চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর শাহজাহানপুরে নিজ বাসভবনে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে অনিয়মের চেষ্টা রুখে দেয়া হবে জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, এনসিপি ও জামাত-শিবিরের নেতাকর্মীরা দলবলে বিভিন্ন কেন্দ্রে যাচ্ছে। ওখানে গিয়ে কী করছে বোঝা ডিফিকাল্ট। জনগণ ও আমাদের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় তাদের আটকও করেছে। অনেক জায়গায় তারা পালিয়ে গেছে।মির্জা আব্বাসের দাবি, সিদ্ধেশ্বরী বালিকা বিদ্যালয়সহ অন্তত ৭টি কেন্দ্রে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। বিএনপি কর্মী ও স্থানীয়দের সাহায্যে তাদের রোধ করা হয়। কয়েকজনকে ধরে রমনা থানায় দেয়া হলেও তাদের পরে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।তিনি এ সময় নির্বাচনী সহিংসতার শঙ্কা জানিয়ে বলেন, ফকিরাপুল-আরামবাগের বিভিন্ন মেস-হোস্টেলে সশস্ত্র অবস্থান করছে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। তারা কাল ভোট কেন্দ্রে যাবে। তবে রাত ১১টার পর যদি আবারও তারা কেন্দ্রে যায়, তাহলে পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি। মির্জা আব্বাস আরও বলেন, আমার আসন নিয়ে বহু আগে থেকেই পূর্ব পরিকল্পনা ছিল তাদের। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারচুপির আশঙ্কার কথা আগে থেকেই বলেছি আমি। আমরা চাই, সুষ্ঠু নির্বাচন হোক।

বহুল প্রতীক্ষিত সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আজ

দুর্নীতির ডায়েরি ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
বহুল প্রতীক্ষিত সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। এই নির্বাচনে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী দায়িত্ব পালন করছেন। সঙ্গে প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে বডি ওর্ন ক্যামেরা ও ড্রোনের নজরদারি।

বাংলাদেশে ভোট একদিকে উৎসবের নাম, অন্যদিকে সংঘাত, সহিংসতা আর কেন্দ্র দখলের মঞ্চায়ন। ফলে ১২টি নির্বাচনের মধ্যে শেষ পর্যন্ত উৎসব বহাল ছিল চারটি নির্বাচনে। বাকি আটটিতে ভোটের মর্যাদা রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এবারের নির্বাচনে আগের তুলনায় ভোটার সংখ্যা বেড়েছে। তাই ভোট ও ভোটারের নিরাপত্তায় এবার বাড়তি আয়োজন রাখা হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের কারচুপি এড়াতে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবে বডিওর্ন ক্যামেরা যুক্ত ২৫ হাজার পুলিশ সদস্য। মাথার ওপর নজরদারি করবে পাঁচশর বেশি ড্রোন। এবার সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী মিলিয়ে মাঠে থাকবে প্রায় ৯ লাখ সদস্য। যেখানে মূল দায়িত্বে থাকবেন পুলিশ ও আনসারের সাত লাখের বেশি সদস্য। সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে ১ লাখ সেনা সদস্য, নৌ এবং বিমানবাহিনীও থাকবে বিশেষ নজরদারিতে। এ ছাড়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করবে বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যরা। এর সঙ্গে আছেন দুই হাজার ১০০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

নির্বাচন কমিশন বলছে, কেবল বাহিনী মোতায়েন নয়; বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে। এদিকে জাতীয় সংসদ ও গণভোট একই দিনে হওয়ায় ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। আজ সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। দেশে নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫০টি দল এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। ২৯৯টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুই হাজার ২৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। দলীয় কার্যক্রম স্থগিত থাকায় এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে থাকা দলটির শীর্ষ নেতারা এ নির্বাচন বর্জনের ডাক দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে রয়েছেন ৪৫ হাজার ৩৩০ জন দেশীয় পর্যবেক্ষক এবং প্রায় ৩৫০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক। এছাড়া প্রায় ৯ হাজার ৭০০ জন সাংবাদিক নিবন্ধন করেছেন, যার মধ্যে বিদেশি সাংবাদিক রয়েছেন ১৫৬ জন। এবার প্রথমবারের মতো নির্বাচনে ড্রোন, বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও ব্যাপকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে।

শুরু হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবার সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হওয়ায় ভোটগ্রহণের সময় একঘণ্টা বাড়িয়ে মোট ৯ ঘণ্টা নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

পাশাপাশি এবার নতুনভাবে পোস্টাল ভোট ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একদিনে দুটি ভোট আয়োজনের কারণে বাড়তি সময় প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ইসি জানায়, গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের ফল নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবেন তরুণ ভোটাররা। এবার ৩৫ বছরের নিচে ভোটারের সংখ্যা চার কোটি ৯০ লাখ ৪৩ হাজার ৫৬১ জন। এর মধ্যে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সি ভোটার রয়েছেন ২ কোটি ১২ লাখ ৪২ হাজার ৫৩১ জন। এ বয়সসীমার ভোটারদের মধ্যে পুরুষ ১ কোটি ১৭ লাখ ৫১ হাজার ৯০২ জন, নারী ৯৪ লাখ ৯০ হাজার ২২১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ৪০৮ জন।

অন্যদিকে ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সি ভোটার রয়েছে এক কোটি ৭৮ লাখ ১ হাজার ৩০ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার এক কোটি ৪১ লাখ ১ হাজার ৯০, নারী ভোটার ৩৬ লাখ ৮৯ হাজার ৫৬২ এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার ৫৬৭ জন। ইসি সচিব জানান, এবারের নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার এক হাজার ২৩২ জন। আজ দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে। এটি পরবর্তীতে নতুন তফসিল অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।

নির্বাচনে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্র থেকে ভোটগ্রহণ হবে, যার মধ্যে ২১ হাজার ৫০৬টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোট পরিচালনায় ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। এদের মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ এবং পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন। এবারের নির্বাচনে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই বিভাগীয় কমিশনার, ৬৪ জেলা প্রশাসক এবং তিনজন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রিটার্নিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ৫৯৮ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা দায়িত্বে রয়েছেন। ২৯৯ আসনের ভোটে মোট ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশ নিচ্ছে।

এবারের নির্বাচনে ২৯৯ আসনে মোট প্রার্থী সংখ্যা দুই হাজার ২৮ জন। দলীয় প্রার্থী এক হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন, যার মধ্যে ৬৩ জন দলীয় এবং ২০ জন স্বতন্ত্র। পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা এক হাজার ৯৪৬ জন, এর মধ্যে এক হাজার ৬৯২ জন দলীয় এবং ২৫৩ জন স্বতন্ত্র। ভোটে নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য এক লাখ তিন হাজার, নৌবাহিনীর উপকূলীয় পাঁচ জেলায় ১৭ আসনে ৫ হাজার এবং বিমানবাহিনীর সাড়ে ৩ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। বিজিবি ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্টগার্ড ৩ হাজার ৫৮৫ জন, পুলিশ ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন, র?্যাব ৯ হাজার ৩৪৯ জন, আনসার ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন এবং বিএনসিসি ১ হাজার ৯২২ জন সদস্য দিয়ে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এছাড়া নির্বাচনি অপরাধের বিচারকাজে নিয়োজিত আছেন ৬৫৭ জন বিচারিক হাকিম, এক হাজার ৪৭ জন নির্বাহী হাকিম এবং নির্বাচনি তদন্ত কমিটিতে ৩০০ বিচারিক হাকিম।

এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন ধরনের কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনি অপরাধের ৪৬৮টি আচরণ বিধি ভঙ্গের মামলায় ২৫৯টি মামলায় প্রার্থী ও সমর্থকদের ৩২ লাখ ১৫ হাজার ৪৯০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নির্বাচনি তদন্ত কমিটি সংক্ষিপ্ত বিচারে ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে। ভোটে ইসির নিমন্ত্রণে বিদেশি পর্যবেক্ষক ৫৭ জন, স্বেচ্ছায় ৩৩৫ জন এবং বিদেশি সাংবাদিক ১৫৬ জন এরই মধ্যে দেশে এসেছে। দেশি পর্যবেক্ষক রয়েছে ৮০ সংস্থার ৪৪ হাজার ৯৯৫ জন।

বিরামপুরে ভোটারদের মাঝে জিলাপির টোকেন বিতরণের সময় জামায়াতের তিন নেতাকর্মী আটক

দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
   
বিরামপুরে ভোটারদের মাঝে জিলাপির টোকেন বিতরণের সময় জামায়াতের তিন নেতাকর্মী আটক

দিনাজপুরের বিরামপুরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের মাঝে জিলাপির টোকেন বিতরণের সময় জামায়াতে ইসলামের তিন নেতাকর্মীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিরামপুর পৌর শহরের পলাশবাড়ী গ্রামে ভোটারদের মাঝে টোকেন দেওয়ার সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া নওরীনের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের আটক করে।আটকরা হলেন- বিরামপুর উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের মৃত আফাজ উদ্দিনের ছেলে মুকুল সরকার, একই এলাকার মৃত লালু ব্যাপারীর ছেলে শামসুল হক, গড়েরপার শিমুলতলী গ্রামের মৃত ফজর উদ্দিনের ছেলে আব্দুল জলিল। তারা সবাই জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী বলে জানিয়েছে পুলিশ।বিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া নওরীন জানান, পৌর শহরের পলাশবাড়ী গ্রামে ভোটারদের মাঝে জিলাপির টোকেন বিতরণ করার সময় জামায়াতে ইসলামের তিন নেতাকর্মীকে আটক করে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে সেখানে হাজির হয়। এ সময় ২৫টি জিলাপির টোকেনসহ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তাদেরকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

You cannot copy content of this page