খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২২ মাঘ, ১৪৩২

শবে বরাত উপলক্ষে ৬টা আমল করার পরামর্শ দিলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ
শবে বরাত উপলক্ষে ৬টা আমল করার পরামর্শ দিলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে আজ মঙ্গলবার। শবে বরাত ও ভাগ্য নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে বিশিষ্ট ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ এক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা ও দিকনির্দেশনা তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, শবে বরাতে ভাগ্য নির্ধারণ হয়- এমন কথা অনেক ওলামায়ে কেরাম বলেছেন। তবে লাইলাতুল কদর বা শবে কদরে ভাগ্য নির্ধারণ হওয়ার বিষয়টি অধিকতর বিশুদ্ধ, দলিলসমৃদ্ধ এবং অধিকাংশ ইমাম ও আলেমদের মতে গ্রহণযোগ্য।

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, অনেক আলেম শবে বরাত ও শবে কদরের মধ্যে সমন্বয়ের চেষ্টা করেছেন। তবে অধিকাংশ দলিল-প্রমাণ এবং বড় বড় ইমাম ও মুফাসসিরদের মতামত অনুযায়ী- ইমাম কুরতুবী (রহ.)সহ প্রধান তাফসিরবিদদের অভিমত হলো, মানুষের সারা বছরের ভাগ্য আল্লাহ তাআলা শবে কদরেই নির্ধারণ করেন।তিনি কোরআনের দলিল উল্লেখ করে বলেন, সূরা দুখানের ৩ ও ৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি এক বরকতময় রাতে। সেই রাতে সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারিত হয়।’ তিনি ব্যাখ্যা করেন, এই বরকতময় রাত শবে বরাত নয়, বরং লাইলাতুল কদর। কারণ সূরা কদরে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোরআন লাইলাতুল কদরে নাজিল হয়েছে। সুতরাং যে রাতে কোরআন নাজিল হয়েছে, সেই রাতেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নির্ধারিত হয়। এখান থেকেই প্রমাণিত হয় যে ভাগ্য নির্ধারণের বিষয়টি মূলত শবে কদরের সঙ্গে সম্পর্কিত।

তবে তিনি বলেন, যেদিনই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ভাগ্য নির্ধারণ করুন না কেন, একজন মুমিনের কামনা হওয়া উচিত—তার ভাগ্যে যেন ভালো কিছু লেখা হয়, নসিব যেন সুপ্রসন্ন হয়, রিজিকে যেন বরকত থাকে এবং জীবনে মানসিক প্রশান্তি আসে। এই লক্ষ্যেই তিনি শবে বরাত উপলক্ষে করণীয় হিসেবে ছয়টি আমলের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, প্রথম আমল হলো আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা এবং তাকওয়া অবলম্বন করা। সারা বছর গুনাহে লিপ্ত থেকে একটি রাতে মসজিদে গিয়ে কান্নাকাটি করে ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করা কোনোভাবেই সঠিক পন্থা নয়। বরং সারা বছর ইবাদত-বন্দেগি ও নেক আমলের চেষ্টা করতে হবে। কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, কোনো জনপদের লোকেরা যদি ঈমান আনে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে, তবে আল্লাহ তাদের জন্য আসমান থেকে বরকতের সব দরজা খুলে দেন। হারাম থেকে বেঁচে থাকা, আল্লাহর নির্দেশ মানা এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহ মানুষের জীবনে বরকত দান করেন। সবচেয়ে বড় নেয়ামত হিসেবে আল্লাহ মানসিক প্রশান্তি দান করেন, আর জান্নাত তো আছেই।দ্বিতীয় আমল হিসেবে তিনি ইস্তেগফারের কথা বলেন। তিনি বলেন, যারা বেশি বেশি ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়ে, আল্লাহ তাদের রিজিকে ও আয়ে বরকত দান করেন। আল্লাহ তাআলা ইস্তেগফারকারীদের সম্পদ ও সন্তান দিয়ে সমৃদ্ধ করেন এবং তাদের ভাগ্যে ভালো কিছু লিখে দেন। এজন্য যতভাবে সম্ভব বেশি বেশি ইস্তেগফার পড়ার আহ্বান জানান তিনি।

তৃতীয় আমল হলো আল্লাহ যা দিয়েছেন, তার ওপর সন্তুষ্ট থাকা এবং আলহামদুলিল্লাহ বলা। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা ঘোষণা দিয়েছেন- তোমরা যদি নেয়ামতের শুকর আদায় করো, তবে আমি তা আরও বাড়িয়ে দেব। যারা ভাগ্যে আরও কল্যাণ চান, তাদের শুকরিয়া আদায়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

চতুর্থ আমল হিসেবে তিনি সাদকা দানের কথা উল্লেখ করেন। সাদকা মানুষকে বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করে এবং জীবনে বরকত নিয়ে আসে। সামর্থ্য অনুযায়ী দান-সাদকা করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

পঞ্চম আমল হলো দোয়া করা। শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, কিছু তাকদির আল্লাহ দোয়ার মাধ্যমে পরিবর্তন করে দেন। হাদিসে এসেছে, দোয়া তাকদিরকেও পরিবর্তন করে দেয়। এজন্য আল্লাহর কাছে নিয়মিত দোয়া করতে হবে-হে আল্লাহ, আমার নসিবে যেন ভালো কিছু থাকে, আর যদি কোনো অকল্যাণ লেখা থাকে, তুমি তা দূর করে দাও।

ষষ্ঠ আমল হিসেবে তিনি আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করার কথা বলেন। সহিহ বুখারির হাদিস উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- যে ব্যক্তি তার হায়াতে ও রিজিকে বরকত কামনা করে, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে।

এই ছয়টি আমল আবারও সংক্ষেপে উল্লেখ করে তিনি বলেন- আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাকওয়া অবলম্বন, বেশি বেশি ইস্তেগফার, আল্লাহর দানে সন্তুষ্ট থাকা, সাদকা করা, দোয়া করা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা। এর পাশাপাশি তিনি বলেন, নামাজ শেষে শুধু বসে থাকা নয়, হালাল রুজির জন্য চেষ্টা করতেও হবে। চেষ্টা ও দোয়া দুটোই একসঙ্গে চললে আল্লাহ তাআলা জীবনে বরকত দান করবেন।

শবে বরাত উপলক্ষে প্রচলিত কিছু আমল প্রসঙ্গে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, এ রাতে একত্রিত হয়ে রাতভর ইবাদত করা বা পরদিন নির্দিষ্টভাবে রোজা রাখার বিষয়টি সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়। তিনি বলেন, শাবান মাসে নফল রোজা রাখা সুন্নত, এবং আইয়ামে বীজ ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখার ফজিলত রয়েছে। নবী করিম (সা.) শাবান মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখতেন, সেই সুন্নত অনুসরণ করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, লাইলাতুন নিসফে শাবান তথা শবে বরাতে আল্লাহ তাআলা মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া বাকি বান্দাদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন- এ মর্মে কিছু হাদিস রয়েছে। যদিও কিছু হাদিসের সনদে দুর্বলতা আছে, তবে সার্বিকভাবে এ রাতের একটি ফজিলত প্রমাণিত। তবে এর অর্থ এই নয় যে এই রাতকে কেন্দ্র করে দেশে প্রচলিত সব কর্মকাণ্ড শরিয়তসম্মত।

তিনি বলেন, শবে বরাতে মসজিদে মানুষের ভিড় হওয়া ভালো দিক, তবে প্রশ্ন হলো-লাইলাতুল কদর যেটি অধিক ফজিলতপূর্ণ, সেই রাতে কি মানুষ একইভাবে ইবাদতে মনোযোগী হয়? আমাদের সমাজে এই রাতে বেশি ভিড়ের মূল কারণ হলো ভুল ধারণা- এই রাতে ভাগ্য ঠিক হয়ে যায়, তাই সারা বছর যা-ই করা হোক, এক রাতেই সব ঠিক হয়ে যাবে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, এ ধরনের মানসিকতা কখনো সঠিক নয়।

শবে বরাতকে কেন্দ্র করে প্রচলিত বিভিন্ন বিদআত, কুসংস্কার ও বাড়াবাড়ির কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, একসময় এই রাতে ব্যাপকভাবে পটকা ফোটানো হতো, যা মানুষের নিরাপত্তার জন্য হুমকি ছিল। প্রশাসনের উদ্যোগে তা অনেকটাই কমেছে। তিনি বলেন, আলোকসজ্জা, হালুয়া-রুটি খাওয়া, আতশবাজি—এসবের কোনো ভিত্তি কোরআন ও হাদিসে নেই।

হালুয়া খাওয়ার প্রচলন নিয়ে তিনি বলেন, নবীজির দাঁত মোবারক ওহুদের যুদ্ধে শহীদ হওয়ার সঙ্গে হালুয়া খাওয়ার যে গল্প প্রচলিত, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও হাস্যকর। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাতিলের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে গিয়ে আহত হয়েছেন, আর আমরা বাতিলের সঙ্গে আপস করে হালুয়া খেয়ে সুন্নত পালনের দাবি করি- এর চেয়ে বড় বিকৃতি আর হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, এই রাত উপলক্ষে মসজিদে ওয়াজ মাহফিল, সমবেত দোয়া বা নির্দিষ্ট আচারকে জরুরি মনে করাও ভুল। ব্যক্তিগতভাবে ইবাদত করে আল্লাহর ক্ষমা চাওয়া ভিন্ন বিষয়, তবে বিদআতি পন্থা পরিহার করতেই হবে।

সবশেষে শায়খ আহমাদুল্লাহ আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, যেন তিনি সবাইকে কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার তৌফিক দান করেন এবং শাবান মাসের সবচেয়ে বড় আমল হিসেবে বেশি বেশি নফল রোজা রাখার সুযোগ দেন।

উল্লাপাড়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় অভিযুক্ত যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুসের জামায়াতে যোগদান

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
   
উল্লাপাড়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় অভিযুক্ত যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুসের জামায়াতে যোগদান

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত পলাতক ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আরও প্রায় ৩০ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক জামায়াতে যোগদেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের বাগমারা বাজারে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সমাবেশে এই যোগদান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁন। তিনি নবাগতদের ফুলের মালা দিয়ে দলে বরণ করেন।

দলে যোগদানকারীদের মধ্যে উধুনিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস উল্লেখযোগ্য। তিনি উধুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল জলিলের ছেলে বলে জানা গেছে।জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী আব্দুল মালেক শান্ত অভিযোগ করে বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী উধুনিয়া ইউনিয়নের ১৬ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনায় আব্দুল কুদ্দুসের সম্পৃক্ততা ছিল এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হয়। তিনি আরো অভিযোগ করেন ৩ আগষ্ট উল্লাপাড়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মী হামলা করে এদের সাথে আব্দুল কুদ্দুস ও ছিলে। তার অভিযোগ, গ্রেপ্তার এড়াতে আব্দুল কুদ্দুস ও তার অনুসারীরা জামায়াতে যোগ দিয়েছেন।তবে উধুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির আব্দুল আলীম বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আব্দুল কুদ্দুস জামায়াতে ইসলামীর সদস্যপদের ফরম পূরণ করেন। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি দলে যোগ দেন। তিনি জানান, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ থেকে ৩ জন এবং বিএনপি থেকে ৪৭ জনসহ মোট প্রায় ৫০ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক এদিন জামায়াতে যোগদান করেছেন।

জয়ী হলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ হবে না বিএনপির এই দুই প্রার্থীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
   
জয়ী হলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ হবে না বিএনপির এই দুই প্রার্থীর

নির্বাচনে জিতলেও বিএনপি মনোনীত দুই প্রার্থীর আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফল স্থগিত থাকবে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।

তাঁরা হলেন চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী আসলাম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তাঁরা নির্বাচন করতে পারবেন, তবে বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে পৃথক আপিল করেছিল জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রাখে।ইসির সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক পৃথক রিট করলে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেন।

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক আপিল বিভাগে আবেদন করে। আনোয়ার সিদ্দিকীর করা লিভ টু আপিল ও ব্যাংকের করা আবেদনের ওপর গত সোমবার শুনানি হয়। পরে গতকাল লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আদেশে বলা হয়, আসলাম চৌধুরী বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

এদিকে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছিলেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে। প্রার্থিতা ফিরে পেতে সরোয়ার আলমগীর রিট করলে হাইকোর্ট ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত করে মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন নুরুল আমিন।

আপিল বিভাগ গতকাল লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) মঞ্জুর করেন। আদেশে বলা হয়, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন সরোয়ার আলমগীর, তবে তিনি বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

বাংলাদেশ বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুরের বাসার নির্যাতিত গৃহকর্মী মোহনাকে হাসপাতালে বিমান উপদেষ্টা

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
   
বাংলাদেশ বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুরের বাসার নির্যাতিত গৃহকর্মী মোহনাকে হাসপাতালে বিমান উপদেষ্টা

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তৎকালীন এমডি ও সিইও সাফিকুর রহমানের বাসার নির্যাতিত গৃহকর্মী শিশু মোহনার (১১) চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাণিজ্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস টেলিফোনে মোহনার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা মোহনার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকদের কাছ থেকে বিস্তারিত খোঁজ নেন। শিশুটির চিকিৎসার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের আশ্বস্ত করেন।

এ সময় উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বিমানের এমডি ড. হুমায়রা সুলতানা, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন এবং হাসপাতালের পরিচালক ডা. আমিনুল ইসলাম।

মোহনার উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই আমাকে তোমার খোঁজ নিতে পাঠিয়েছেন। তোমার আর ভয়ের কোনো কারণ নেই, আমরা তোমার পাশে আছি।”পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস টেলিফোনে বাণিজ্য উপদেষ্টার কাছে মোহনার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। মোহনার সঙ্গে আচরণ জাতির জন্য লজ্জাজনক বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টা। মোহনার চিকিৎসার ব্যয়সহ তার সব দায়িত্ব সরকার বহন করবে বলেও জানান।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “শিশুর প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধীরা ইহকাল ও পরকালে উপযুক্ত শাস্তি পাবে।” এছাড়া তিনি মোহনার বাবা মোস্তফাকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, শিশু মোহনা বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তৎকালীন এমডি ও সিইও সাফিকুর রহমানের বাসার গৃহকর্মী। গত ৩১ জানুয়ারি গুরুতর জখম অবস্থায় মোহনাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রীকে গত ২ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

You cannot copy content of this page