খুঁজুন
সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২

চসিকের দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী দম্পতির অস্ট্রেলিয়ায় সম্পদের পাহারঃ তীব্র দাবি স্বচ্ছ তদন্তের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ১:১৩ পূর্বাহ্ণ
চসিকের দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী দম্পতির অস্ট্রেলিয়ায় সম্পদের পাহারঃ তীব্র দাবি স্বচ্ছ তদন্তের

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহীন উল ইসলাম চৌধুরী এবং তার স্ত্রী, সিভিল বিভাগের অঞ্চল–৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলী ফারজানা মুক্তা, একাধিক অভিযোগের কারণে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন। দীর্ঘদিন ধরে চসিকের প্রকৌশল বিভাগের বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা এ দম্পতির বিরুদ্ধে স্থানীয় সূত্র ও সহকর্মীরা অভিযোগ তুলেছেন যে, তারা প্রতিষ্ঠানিক অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সম্পদ অর্জন করেছেন।

শাহীন উল ইসলাম চৌধুরীর কর্মজীবন শুরু হয় চসিকের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল ইসলামের সুপারিশে, যেখানে তিনি প্রথমে দৈনিক বেতনের ভিত্তিতে বিল্ডিং সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অস্থায়ী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে সহকারী প্রকৌশলী থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে উন্নীত করা হয়। শিক্ষানবিশ অবস্থান থেকে দ্রুত পদোন্নতি পেয়ে তিনি ২০২৪ সালে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থেকে দুই ধাপ উপরে উঠে ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে নিযুক্ত হন। এ ধরনের অস্বাভাবিক দ্রুত পদোন্নতি সহকর্মীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন উত্থাপন করে।

শাহীন উল ইসলামের কর্মকাণ্ড বিতর্কময়। ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময় নগরের সড়ক বাতি বন্ধ রাখার ঘটনায় তিনি বিতর্কে জড়ান। এ ঘটনায় তাকে বরিশাল সিটি কর্পোরেটে বদলি করা হলেও সেখানে দায়িত্ব পালনকালে তিনি পদোন্নতি পান। সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে পূর্বে উঠেছে। ২০১৭ সালে এক সংখ্যালঘু কর্মকর্তা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত পেয়েছেন—এমন অভিযোগে তাকে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে উচ্চ আদালতের আদেশে তিনি চাকরিতে ফিরে আসেন।

অভিযোগ রয়েছে যে, শাহীন উল ইসলামের প্রভাবের কারণে তার স্ত্রী ফারজানা মুক্তা অস্থায়ী সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২৩ সালে স্থায়ী না হওয়া সত্ত্বেও তাকে ২৫০ কোটি টাকার ‘পরিচ্ছন্ন কর্মী নিবাস নির্মাণ’ প্রকল্পের পরিচালক করা হয়। সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পেতে স্থায়ী কর্মকর্তা হওয়া বাধ্যতামূলক এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমতি প্রয়োজন। এটি অনুসরণ না করায় দম্পতির পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

দম্পতি চসিকের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সম্পদের অসামঞ্জস্য স্পষ্ট। অভিযোগ অনুযায়ী, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় প্রায় পাঁচ কোটি টাকার একটি ফ্ল্যাট, উচ্চমূল্যের ব্যক্তিগত গাড়ি, সন্তানদের ব্যয়বহুল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে শিক্ষাদান, বোয়ালখালী উপজেলায় বিপুল জমি, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বেনামি ফ্ল্যাট ও প্লট রয়েছে। এছাড়া আত্মীয়দের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় সম্পদ ক্রয় ও অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে।

চসিকের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামও তাদের অনিয়মে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলো সরকারি বা প্রতিষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

স্থানীয় প্রশাসনিক ও প্রকৌশলী সূত্র জানায়, দম্পতির এ ধরনের পদোন্নতি ও সম্পদ বৃদ্ধি সাধারণ নিয়ম ও বিধি মেনে হয়নি। তাদের দীর্ঘদিনের প্রভাবের কারণে প্রকৌশল বিভাগের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, দম্পতির নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, স্বচ্ছতার অভাব এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ধরনের অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তার স্থানীয় নাগরিক ও প্রশাসনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। প্রকৌশল বিভাগের প্রকল্প বাস্তবায়ন, জনসাধারণের সেবার মান এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় নাগরিকরা দাবি করছেন, এই দম্পতির সম্পদ, বিদেশে বিনিয়োগ এবং সরকারি প্রকল্পে নেতৃত্ব নেওয়া নিয়ে স্বচ্ছতা আনা প্রয়োজন।

শাহীন উল ইসলামের বিরুদ্ধে অতীতেও অসদাচরণ ও পদক্ষেপবিরোধী অভিযোগ উঠেছে। সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধ, অসদাচরণের অভিযোগ, সংখ্যালঘু কর্মকর্তার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং প্রশাসনিক নিয়ম লঙ্ঘন—এই সব বিষয় দম্পতির কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নানা প্রশ্ন তুলে ধরে। ফারজানা মুক্তার স্থায়ী না হওয়া সত্ত্বেও বড় প্রকল্পের পরিচালক হওয়াও এ ধরনের প্রশ্নের অংশ।

চসিকের প্রকৌশল বিভাগে এমন ঘটনা নতুন নয়। তবে দম্পতির সম্পদ ও প্রভাবের মাত্রা নজর কাড়ছে। স্থানীয় সাংবাদিক, নাগরিক ও প্রকৌশলী সমাজ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র দ্রুত তদন্ত না হলে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্কতা জানানো হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, দম্পতির সম্পদে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট ও জমি, উচ্চমূল্যের গাড়ি, বিদেশে বিনিয়োগ এবং ব্যক্তিগত ও পরিবারিক ব্যয় অন্তর্ভুক্ত। এই সম্পদের উৎস নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও নাগরিকরা প্রশ্ন তুলছেন। সরকারী সম্পদের ন্যায্য ব্যবহার এবং প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দম্পতির কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

দম্পতির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকলেও, এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ সরকারি বা প্রতিষ্ঠানের তদন্ত হয়নি। স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারি সংস্থাগুলো দম্পতির প্রভাব ও সম্পদ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান পেতে যাচ্ছে। তাদের বিদেশে থাকা সম্পদ, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট ও জমি এবং সরকারি প্রকল্পের নেতৃত্ব নিয়ে স্বচ্ছতা আনতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগে এ ধরনের ঘটনা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং সম্পদ যাচাই প্রক্রিয়ার প্রতি বিশ্বাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নজরদারিতে এখন দম্পতির কর্মকাণ্ড ও সম্পদ নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। এতে প্রকৌশল বিভাগের স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং অনিয়মের সুযোগ সীমিত হবে।

শাহীন উল ইসলাম চৌধুরী ও ফারজানা মুক্তা দম্পতির প্রভাব ও সম্পদ নিয়ে স্থানীয় নাগরিক ও সাংবাদিকরা সর্তক। তারা বলছেন, দম্পতির কর্মকাণ্ডের প্রভাব প্রকৌশল বিভাগ ও চসিকের সার্বিক কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই প্রভাব কমাতে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি।

উল্লেখযোগ্য যে, দম্পতির সম্পদ ও প্রভাব নিয়ে এখনও সরকারি বা আদালত পর্যায়ের কোনো প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। স্থানীয় নাগরিক ও প্রকৌশলী সমাজের দাবি, বিদেশে থাকা সম্পদ, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট ও জমি এবং সরকারি প্রকল্পে নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ না হলে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে।

চসিকের প্রকৌশল বিভাগে এই দম্পতির কর্মকাণ্ড নতুন নয়, তবে এ ধরনের বিশাল সম্পদ ও প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রশাসনিক পর্যায়ে এই ধরনের অনিয়ম ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত প্রকৌশল বিভাগের স্বচ্ছতা, কার্যকারিতা এবং নাগরিকদের প্রতি বিশ্বাসকে ক্ষুণ্ণ করছে। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নজরদারিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তদন্ত জরুরি।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দম্পতি তাদের সম্পদ ও বিদেশে বিনিয়োগ, সরকারি প্রকল্পে নেতৃত্ব গ্রহণ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে স্থানীয় সাংবাদিক ও নাগরিকরা বলছেন, এ ধরনের অনিয়ম দ্রুত তদন্ত ও স্বচ্ছতা আনতে পদক্ষেপ না হলে ভবিষ্যতে প্রকৌশল বিভাগের দুর্নীতি ও অনিয়মের চিত্র আরও ভয়াবহ হবে।

অভিযোগ অনুযায়ী, দম্পতির সম্পদের মধ্যে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট, উচ্চমূল্যের গাড়ি, বোয়ালখালী উপজেলায় জমি, বিদেশে বিনিয়োগ এবং সন্তানদের ব্যয়বহুল শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত। এ সব সম্পদের উৎস, বিনিয়োগ ও বৈধতা নিয়ে স্থানীয় নাগরিক ও প্রশাসন সর্তক।

চসিকের প্রকৌশল বিভাগে এই দম্পতির দীর্ঘদিনের প্রভাব ও সম্পদ বৃদ্ধির কারণে কর্মকর্তাদের মধ্যে অনিয়মের সুযোগ বেড়েছে। প্রকৌশল বিভাগের প্রকল্প বাস্তবায়ন, দায়িত্বশীলতা এবং নৈতিকতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। নাগরিকদের দাবি, দম্পতির সম্পদ ও কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা আনা না হলে ভবিষ্যতে প্রকৌশল বিভাগ ও চসিকের স্বচ্ছতা পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হবে।

শাহীন উল ইসলাম চৌধুরী এবং ফারজানা মুক্তার কর্মকাণ্ড স্থানীয় প্রশাসন, নাগরিক এবং সাংবাদিকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয়। তারা বলছেন, দম্পতির বিদেশে থাকা সম্পদ, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট ও জমি এবং সরকারি প্রকল্পে নিয়োগের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।

এছাড়া দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা বিষয়গুলো প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, নিয়োগ প্রক্রিয়া, সম্পদ যাচাই এবং সরকারি প্রকল্পে দায়িত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারি বিধি লঙ্ঘন করেছে। স্থানীয় নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে প্রকৌশল বিভাগে আরও অসংখ্য অনিয়মের পথ খোলা থাকবে।

দম্পতির কর্মকাণ্ড ও সম্পদ নিয়ে স্থানীয় নাগরিক, সাংবাদিক এবং প্রকৌশলী সমাজ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারী সংস্থা এখন দম্পতির সম্পদ, বিদেশে বিনিয়োগ এবং প্রকল্পে নেতৃত্ব গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজন অনুভব করছে।

নাগরিকরা বলছেন, দম্পতির বিদেশে থাকা সম্পদ, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট ও জমি এবং সরকারি প্রকল্পে দায়িত্ব নেওয়া নিয়ে স্বচ্ছতা আনতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র আরও ভয়াবহ হবে। এ ধরনের পদক্ষেপ প্রকৌশল বিভাগের স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা এবং নাগরিকদের প্রতি আস্থা পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে সহায়ক হবে।

চসিকের প্রকৌশল বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে দম্পতির প্রভাব ও সম্পদের বিস্তার প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং প্রকৌশল বিভাগের কার্যকারিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নজরদারি ও তদন্তের মাধ্যমে দম্পতির কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা আনাই এখন জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শতাংশ হিসাব করে ঘুষ নেন সাতকানিয়ার সাব-রেজিস্ট্রার টিনু চাকমাঃ অফিস সহকারী শাকিলের ইশারায় চলে পুরো অফিস- ঘুষ না দিলে রেজিস্ট্রি নেই

নাফি রহমান
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ
   
শতাংশ হিসাব করে ঘুষ নেন সাতকানিয়ার সাব-রেজিস্ট্রার টিনু চাকমাঃ অফিস সহকারী শাকিলের ইশারায় চলে পুরো অফিস- ঘুষ না দিলে রেজিস্ট্রি নেই

জমি-জায়গা নিয়ে রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে ‘সংকটে’ পড়েননি বা ‘জিম্মি’ হতে হয়নি এমন কাউকে পাওয়া বিরল। বিশেষ করে অর্থনৈতিক হয়রানির শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষকে। উপজেলা পর্যায়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বড় কর্তা সাব-রেজিস্ট্রার। বর্তমানে নবম গ্রেডে বেতন পান তারা। অথচ ব্যতিক্রম ছাড়া কাঁড়ি কাঁড়ি টাকার মালিক তারা। চাকরি করেন উপজেলায়, কিন্তু অট্টালিকা তুলেছেন জেলা কিংবা বিভাগীয় শহরে। কীভাবে সম্ভব? একজন সাব-রেজিস্ট্রার বেতন পান ন্যূনতম ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেবাখাত সংস্কার হলেও চট্টগ্রামের সাতকানিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এখনো ঘুষ বাণিজ্যের আখড়া হয়ে আছে। ঘুষ, অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে সরকারি এই কার্যালয়টি। দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সেবা প্রত্যাশীরা। চাহিদা মতো ঘুষ দিলে সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে অসম্ভব বলে কিছুই নেই।

অভিযোগ রয়েছে, সাতকানিয়ার সাব-রেজিস্ট্রার টিনু চাকমা ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ করেন না। এতে পদে পদে হয়রানির শিকার হতে হয় গ্রাহক ও দলিল লেখকদের। এদিকে ‘খাস লোক’ হিসেবে পরিচিত কার্যালয়ের কর্মচারী শাকিলের ‘সংকেত পেলে’ সাব রেজিস্ট্রার চোখ বুঝে সই করেন। শাকিলকে ম্যানেজ করতে পারলেই ‘সাহেব ম্যানেজ’ হয়ে যান। তার মাধ্যমেই এ কার্যালয়ে ঘুষ লেনদেন হয়।

আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি দলিল রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে মৌজা মূল্যের ন্যূনতম ১ শতাংশ টাকা ঘুষ দিতে হয়। দলিল যেকোনো ধরনের হোক না কেন এবং সরকার রাজস্ব পাক বা না পাক, এই অর্থ অফিসে জমা না দিলে দলিলে রেজিস্ট্রার স্বাক্ষর করেন না। আর এই টাকা হাতবদল হয় অফিসের কর্মচারী শাকিলের মাধ্যমে।

গত কয়েক মাস ধরে সাতকানিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, সংশ্লিষ্ট দলিল লেখক এবং ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

অভিযোগ উঠেছে, শাকিল প্রাপ্ত অর্থ সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে পৌঁছে দেন এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাছেও নিয়মিত মাশোহারা দেওয়া হয়। তবে এসব বিষয়ে শাকিলের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

জানা যায়, সাতকানিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়মিত রেজিস্ট্রি হওয়া দলিলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আসে সাফ কবলা, দানপত্র ও এয়াজনামা থেকে। এগুলোতে সরকার মৌজা মূল্যের যথাক্রমে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ, ৫ দশমিক ৫ শতাংশ ও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হারে রাজস্ব পেয়ে থাকে। তবে হেবা ঘোষণাপত্র ও পাওয়ারনামার মতো দলিলে সরকার রাজস্ব পায় না। অথচ এই দলিল রেজিস্ট্রিতেও মৌজা মূল্যের ১ শতাংশ হারে ঘুষ দিতে হয়।

বেশ কয়েকবার সাতকানিয়া সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারী, দলিল লেখক ও সেবা নিতে আসা ব্যক্তির বাইরেও অনেক মানুষের জটলা। অফিস চত্বরে ঘুরতে থাকা বেশির ভাগ লোকই দালাল চক্রের সদস্য। তারা কম টাকায় দলিল নিবন্ধন করে দেওয়ার কথা বলে পছন্দের দলিল লেখকের কাছে ‘মক্কেল’ ধরে আনে। বিনিময়ে পায় কমিশন।

একাধিক দলিল লেখক জানান, সরকার নির্ধারিত ফি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করার কথা বললে সংশ্লিষ্টরা নানা অজুহাত দেখান। আর শুধু জমি রেজিস্ট্রি নয়, দানপত্র, বণ্টনপত্র, ঘোষণাপত্র, অংশনামা ও চুক্তিপত্রের মতো দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে কয়েক গুণ টাকা দিতে হচ্ছে দাতাগ্রহীতাদের। দলিলের নকল (অনুলিপি) সংগ্রহ করতেও সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি জানান, ৫৫ লাখ টাকার একটি হেবা দলিল রেজিস্ট্রির সময় তাঁর কাছে দলিল লেখক প্রথমে মৌজা মূল্যের ২ শতাংশ টাকা দাবি করেন। পরে দরকষাকষির পর ৭০ হাজার টাকায় কাজ সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে ৪০ হাজার টাকা অফিসে ঘুষ হিসেবে জমা দেওয়া হয়। একাধিক দলিল লেখকও স্বীকার করেছেন, ওয়াকফ দলিল ছাড়া সব দলিলে এভাবে ঘুষ দিতে হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রভাবশালী ব্যক্তি, আইনজীবী বা দলিল লেখক সমিতির নেতাদের ক্ষেত্রে এই ঘুষ কিছুটা কমানো হয়। তবে ছাড়ের পরিমাণ সাধারণত ০.৩ শতাংশের বেশি নয়। রাজস্বের হিসাবে দেখা যায়, গত জুন থেকে আগস্ট তিন মাসে সাতকানিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে সরকার পেয়েছে প্রায় ১৩ কোটি টাকা। সে অনুযায়ী বছরে রাজস্ব দাঁড়ায় প্রায় ৫২ কোটি টাকা। আর এই টাকা তিন প্রকার দলিল তথা সাফ কবলা, দানপত্র ও এয়াজনামার উপর ভিত্তি করে ১ বছরে রেজিস্ট্রিকৃত মৌজামূল্য দাড়ায় প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা। অথচ একই পরিমাণ রাজস্ববিহীন দলিলও রেজিস্ট্রি হয়। অর্থাৎ বছরে সর্বমোট প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা মৌজা মূল্যের দলিল রেজিস্ট্রি হয়। যেখান থেকে অন্তত ১০ কোটি টাকা ঘুষ সংগ্রহ করে সাতকানিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিস।

সাতকানিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই ১ শতাংশ প্রথা দীর্ঘদিনের। প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতবদল হয়, তবে এর বেশিরভাগ সাব-রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে ভাগ হয়ে যায়। এটা বন্ধ হওয়া দরকার। সাধারণ মানুষের পকেট কেটে এই টাকা আদায় করা হয়।

দলিল লেখকরা কেন প্রতিবাদ করেন না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের সরকারি সনদ নবায়নের জন্য সাব-রেজিস্ট্রারের সুপারিশ লাগে। এছাড়া ঘুষ বন্ধ হলে রেজিস্ট্রির সংখ্যা কমে যাবে, ফলে দলিল লেখক ও অফিস সংশ্লিষ্টদের আয়ও কমবে। তাই কেউ মুখ খুলে না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাব-রেজিস্ট্রার টিনু চাকমার মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার খন্দকার জামীলুর রহমান বলেন, ঘুষ লেনদেনের কথাটা আমরা প্রায় শুনে থাকি। তবে এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো ভুক্তভোগীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাইনি। যেহেতু এখানে দলিল লেখকদের একটা সংশ্লিষ্টতা আছে, সুতরাং নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রকৃত অপরাধীকে তদন্তের মাধ্যমে সনাক্ত করা যাবে। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর রিপোর্ট করতে পারবো।

তিনি আরও বলেন, রেজিস্ট্রি অফিসে সেবা নিতে আসা মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য আমাদের নিয়মিত মনিটরিং চলছে। ভুক্তভোগীরা যদি সরাসরি জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে অভিযোগ করেন অথবা লিখিতভাবে জানিয়ে দেন, আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেব। এ ক্ষেত্রে কারও প্রভাবশালী পরিচয় বা পদমর্যাদা দেখেও ছাড় দেওয়া হবে না। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।

তিনি সতর্ক করে বলেন, অভিযোগ না করে কেবল কথাবার্তায় বিষয়টি সীমাবদ্ধ রাখলে সমস্যার সমাধান হবে না। তাই জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রকৃত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থাও গ্রহণ করা সম্ভব।

এখনো সংকটাপন্ন খালেদা জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
   
এখনো সংকটাপন্ন খালেদা জিয়া
  • অবস্থার উন্নতি হলে বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনা
  • তাঁর অবস্থা একই পর্যায়ে। চিকিৎসকরা যে চিকিৎসা দিচ্ছেন তা তিনি গ্রহণ করতে পারছেন : ডা. এ জেড এম জাহিদ
  • রাজনৈতিক অঙ্গন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্বেগ
  • উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় দোয়া
  • হাসপাতালের সামনে ভিড় না করতে বিএনপির অনুরোধ
  • বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা শুক্রবারের মতো গতকাল শনিবারও সংকটাপন্ন ছিল। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসনের বর্তমান শারীরিক অবস্থা বিদেশে নিয়ে যাওয়ার মতো নয়। তবে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নেওয়ার ব্যাপারে ভিসা ও যোগাযোগ সংক্রান্ত কাজ এগিয়ে রাখা হয়েছে। গতকাল গুলশানে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা তুলে ধরেন।বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে বলে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা কিছুটা সংকটাপন্ন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা তাঁর চিকিৎসা চলছে। আমেরিকার জন হপকিন্স ও লন্ডন ক্লিনিকের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা তাঁর চিকিৎসা করছেন।শুক্রবার রাতে বেশ সময় নিয়ে তাঁরা বোর্ডসভা করেছেন। নিজেদের মেডিক্যাল বোর্ডে তাঁরা মতামত দিয়েছেন—চিকিৎসাটা কী ধরনের হবে?’গত রাত ৯টায় এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সর্বশেষ পরিস্থিতি জানিয়ে বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা একই পর্যায়ে রয়েছে। অর্থাৎ চিকিৎসকরা যে চিকিৎসা দিচ্ছেন, তা তিনি গ্রহণ করতে পারছেন। কাজেই এই চিকিৎসা যেন উনি গ্রহণ করে সুস্থ হয়ে যেতে পারেন, সে জন্য আপনারা সবাই দোয়া করবেন।

    বিশেষজ্ঞ দিয়ে চিকিৎসা চলছে : বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে বলে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা কিছুটা সংকটাপন্ন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা তাঁর চিকিৎসা চলছে। আমেরিকার জন হপকিন্স এবং লন্ডন ক্লিনিকের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা তাঁর চিকিৎসা করছেন। শুক্রবার রাতে বেশ সময় নিয়ে তাঁরা বোর্ড সভা করেছেন। নিজেদের মেডিক্যাল বোর্ডে তাঁরা মতামত দিয়েছেন—চিকিৎসাটা কী ধরনের হবে?

    বিএনপি চেয়ারপারসনের বিদেশে নেওয়া প্রসঙ্গে এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তাঁকে বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন।এ বিষয়ে তাঁরা বলছেন, হয়তো নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু তাঁর এখন যে শারীরিক অবস্থা, সে অবস্থায় তাঁকে বিদেশে নেওয়ার মতো কোনো শারীরিক অবস্থায় নেই। শারীরিক অবস্থা স্ট্যাবল হলে তখন চিন্তা করে দেখা হবে, তাঁকে নেওয়া সম্ভব হবে কি না।’

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তবে বিদেশে নেওয়ার জন্য যেসব বিষয় প্রয়োজন—যেমন ভিসা, সেসব দেশের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হয়েছে এবং সেগুলো মোটামুটি কাজ এগিয়ে আছে। অর্থাৎ যদি প্রয়োজন হয়, যদি দেখা যায় শি ইজ রেডি টু ফ্লাই, তখন তাঁকে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হবে।’

    সাংবাদিকদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে আমি দেশের সাধারণ মানুষের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দিতে চাই, বিএনপি চেয়ারপারসন ও দেশনেত্রীর অসুস্থতার খবরে পুরো দেশবাসী উদ্বিগ্ন। অনেকেই হাসপাতালের সামনে আসছেন, ভিড় করছেন। এতে খালেদা জিয়াসহ অন্য রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং ডাক্তাররাও বিরক্তবোধ করছেন। আমি সবাইকে ভিড় না করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

    গত রাতে হাসপাতালের সামনে সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘চিকিৎসা করার দায়িত্ব হাসপাতালের। ভালো করার মালিক আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। সারা পৃথিবীতে ভালো যে চিকিৎসা ব্যবস্থা করা প্রয়োজন, সেটি এখানে আয়োজন করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। খালেদা জিয়াকে বিদেশ নেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে তাঁর শারীরিক সুস্থতা ও মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর।’

    ডা. জাহিদ বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পাশে তাঁর ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী সৈয়দা শর্মিলা রহমান এবং তাঁর ভাই সাঈদ এস্কান্দার রয়েছেন। সার্বিক সহযোগিতা করছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সব স্তরের নেতাকর্মী। আমেরিকার জন হপকিন্স ও মাউন্ট সিনাই, ইউকে, সিঙ্গাপুর, চীন, সৌদি আরবসহ বেশ কয়েকটি নামকরা হাসপাতালের ডাক্তারদের সমন্বয়ে যৌথ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তাঁর চিকিৎসা চলছে। খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য আমরা সবার কাছে দোয়া চাই।’

    এখনো শঙ্কামুক্ত নন : হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে দেখতে আসা বিএনপির কয়েকজন নেতা ও অন্যরা জানান, তাঁর শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত, তবে এখনো তিনি শঙ্কামুক্ত নন।

    গতকাল দুপুরে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন বলেন, ‘আগের মতোই অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। স্ট্যাবল আছেন, কিন্তু এখনো ইমপ্রুভ করেননি।’

    বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ‘ক্রিটিক্যাল, তবে স্থিতিশীল’ বলে জানিয়েছেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা। তিনি বলেন, ‘সতর্কতা মেনে আমার উনাকে (খালেদা জিয়া) দেখার সুযোগ হয়েছে। উনি সজ্ঞানে আছেন, সজাগ আছেন। চিকিৎসক এবং নার্স উনাকে যে নির্দেশনা দিচ্ছেন, সেগুলো তিনি অনুসরণ করতে পারছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা ক্রিটিক্যাল, তবে ফাইট করছেন।’

    বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক জানান, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্বস্তিদায়ক, যা কিছুটা আশাব্যঞ্জক। এর আগে শুক্রবার রাত দেড়টার পর হাসপাতাল থেকে বের হয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা দূরত্ব বজায় রেখে উনার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি শুধু, উনি আমাদের চিনতে পেরেছেন এবং আমরা সালাম দিয়েছি, উনি জবাব দিয়েছেন।’

    ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রে সংক্রমণজনিত জটিলতায় সাত দিন ধরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দলীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে উদ্বেগ আরো বেড়েছে। গত শুক্রবার দেশব্যাপী মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে বিএনপি। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বেগম জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

    বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সবাই আন্তরিক দোয়া ও ভালোবাসা প্রদর্শন করায় জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে সবার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    হাসপাতালের সামনে ভিড় না করতে বিএনপির অনুরোধ : শুক্রবার রাত থেকেই খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর পেয়ে হাসপাতালে ভিড় করতে থাকেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। গতকাল বিকেল পর্যন্ত সেই ভিড় অব্যাহত থাকে। তাঁরা শুভেচ্ছা বার্তাসংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে অবস্থান করেন এবং পরে হাসপাতালের সামনেই দোয়া মাহফিল ও তবারক বিতরণ করেন। তবে কর্মীদের অতিরিক্ত ভিড়ে হাসপাতালের সামনে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং রোগী পরিবহনেও সমস্যা দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের হাসপাতালের সামনে ভিড় না করার অনুরোধ জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বেগম খালেদা জিয়ার খোঁজখবর নিতে আসা নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড়ের কারণে খালেদা জিয়াসহ অন্য রোগীদের চিকিৎসাসেবায় বিঘ্ন ঘটছে। এ কারণে বিএনপি ও খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে দলের নেতাকর্মী, সমর্থকসহ শুভাকাঙ্ক্ষীদের এভারকেয়ার হাসপাতালে ভিড় না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।’

    হাসপাতালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা : শুক্র ও শনিবার বিভিন্ন সময় খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে যান বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। গতকাল দুপুরে হাসপাতালে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ।

    এর আগে খালেদা জিয়াকে দেখতে যান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবিব ও অন্য নেতাদের এভারকেয়ার হাসপাতালে দেখা যায়। এ ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এভারকেয়ারে আসেন।

    গতকাল রাত ১০টার পর বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর নেতৃত্বে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।

    এদিকে হাসপাতালে যেতে না পারলেও খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে বার্তা দিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধানরা। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের পৃথক বার্তায় খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

    উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া : গতকাল দুপুরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীও হাসপাতালে গিয়ে খোঁজখবর নেন। গতকাল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন মোনাজাত পরিচালনা করেন।

    বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেই পরিবারের সদস্যরা তাঁকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। গতকাল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘লন্ডনের যে হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের অধীনে চার মাস থেকে তিনি অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন, তাঁদের সঙ্গে এরই মধ্যে যোগাযোগ করেছেন তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী।’

    ঢাবিতে সাদা দলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল হয়েছে। গতকাল বাদ আসর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ঢাবি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের উদ্যোগে এই মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

    ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান, প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুন আহমেদ, ঢাবি সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম ও অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকার, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, আইবিএর অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন, ঢাবির কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতারা। দোয়া পরিচালনা করেন মসজিদের খতিব মাওলানা মুফতি নাজির আহমদ।

ঝিনাইদহে ভাতিজার ছুরিকাঘাতে চাচা নিহত

ঝিনাইদহ অফিস
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ
   
ঝিনাইদহে ভাতিজার ছুরিকাঘাতে চাচা নিহত

ঝিনাইদহ শহরের পবহাটি এলাকার সিটি মোড় নামক স্থানে ভাতিজার ছুরিকাঘাতে মুরাদ মন্ডল (৪০) নামে এক ইলেকট্রিক মিস্ত্রি নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার বেলা দেড়টার দিকে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়। নিহত মুরাদ মন্ডল পবহাটি গ্রামের আফজাল মন্ডলের ছেলে। ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি (তদন্ত) শামসুজ্জোহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে বড় ভাই আলম মন্ডলের ছেলে সৌরভ ছুরিকাঘাতের মাধ্যমে হত্যা করে। প্রতিবেশী কামরুজ্জামান জানান, জমিজাতি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের ধরে শুক্রবার বড় চাচা আলম মন্ডলকে মারধর করে মুরাদ। সে ঘটনার প্রতিশোধ নিতে আলম মন্ডলের ছেলে সৌরভ শনিবার দুপুরে মুরাদ মন্ডলের ইলেকট্রিক দোকানে আমলা চালিয়ে তাকে উপর্যুপরি ছুটি আঘাত করে হত্যা করে। ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, নিহত মুরাদ মন্ডলের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনা এখনো মামলা হয়নি, তবে হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।

You cannot copy content of this page