কিশোরগঞ্জ-০৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেছেন, ‘শোনেন নাই আপনারা—ফজু পাগলা, ফজু পাগলা। এখন আর কয় না, কয়েকদিন পরে কইবো—ফজু আব্বা। জামায়াত আমারে ফজু আব্বা ডাকবে’।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার ২নং ধনপুর ইউনিয়নে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘সেই পাকিস্তানের পক্ষে বাঙালিদের কিছু কুসন্তান যোগদান করেছিল। তাদেরকে বলা হতো আলবদর, রাজাকার। সেই আলবদর-রাজাকারদের অনেকেই মরে গেছে, কিন্তু তাদের সন্তানরা আছে। মরার সময় তারা তাদের সন্তানদের বলে গেছে -‘৭১ সালে আমাদের খুব অপমান হইছিল, আমাদেরকে গাছে তুলে মারছিল, মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের কান কেটে দিছিল, আমরা তাদের কাছে পরাজিত হইছিলাম। আমি তো মরে যাইতাছি, তুমি যদি আমার ছেলে হও, তাহলে রাজাকার হইয়া সেই প্রতিশোধ নিও’।তিনি আরও বলেন, ‘সেই রাজাকাররা এখন আমাদের কাছে প্রতিশোধ নিচ্ছে। তারা বলতে চায়—যুদ্ধই হই নাই। যুদ্ধ হই নাই মানে কী? তোর বাপ নাই? তোর মা-বাপের মধ্যে কোনো মহামিলন হয় নাই? তাহলে তুই হইছোস কেমনে? যুদ্ধই যদি না হয়ে থাকে, তাহলে বাংলাদেশ হইছে কেমনে? কারণ দেশটার নাম তো ছিল পাকিস্তান। পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ কেমনে হইলো—বলেন তো দেখি? যুদ্ধ কইরা নাকি?’
ফজলুর রহমান বলেন, ‘যুদ্ধের সাগরে পাকিস্তানের কবর হইছে, বাংলাদেশ জিতছে। এখন কয়—বাংলাদেশেই হইছে না। মানে বাপই নাই। এই যে বেজন্মা ছেলেপেলেরা যখন বলা শুরু করলো—কোনো যুদ্ধ হই নাই, ৭১-এ কোনো যুদ্ধ হই নাই, এগুলো মিছামিছি, হিন্দুস্তানের লোকেরা ষড়যন্ত্র কইরা লাগাইছিল—কেউ কথা বলে নাই, ডরে কথা বলে নাই, রাজাকারদের ডরে। ৫ই আগস্টের পরে মেরে ফেলবো—এই ভয় দেখাইতো। তখন আমি, ফজলুর রহমান, মনে করলাম—আরে, আমি তো মানুষ। আমার তো আর বেশিদিন বাঁচার স্বপ্ন নাই। ৭৭ বছরের বৃদ্ধ মানুষ আমি। আমি যদি সত্যি কথা বলে না মরি, তাহলে তো আল্লাহ আমাকে জিজ্ঞেস করবে—এই ফজলুর রহমান, যুদ্ধ হইছিল এই কথাটা তুই কেন বলস নাই? তুই জাহান্নামে যা’।
বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, ‘তখন আমি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে টেলিভিশনে বাম হাতের এই আঙুলটা তুলে কইছিলাম—এই আলবদর রাজাকারের বাচ্চারা, মুক্তিযুদ্ধ কিন্তু হইছিল। যদি অস্বীকার করোস, তাইলে আরেকটা মুক্তিযুদ্ধ হইবো। এই কথাটা আমি কইছি, আর কেউ কয় নাই। মানুষ স্তব্ধ—যেমন আপনারা এখন স্তব্ধ’।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফজলুর রহমানের স্ত্রী ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি উম্মে কুলসুম রেখাসহ বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
আপনার মতামত লিখুন