খুঁজুন
শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

কুমিল্লার হোমনায় প্রবাসীর স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানের গলাকাটা লাশ উদ্ধার

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ণ
কুমিল্লার হোমনায় প্রবাসীর স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানের গলাকাটা লাশ উদ্ধার

কুমিল্লার হোমনা উপজেলার উত্তর মণিপুর গ্রামে মঙ্গলবার সকালের আলো ফোটার আগেই নেমে আসে এক অন্ধকার খবর। একই পরিবারের তিনজন—একজন মা ও দুই শিশু—নিহত অবস্থায় পড়ে আছেন নিজ নিজ কক্ষে। তাঁদের গলা কাটা। ঘরজুড়ে শুকিয়ে যাওয়া রক্ত, আর বাইরে স্তব্ধ মানুষের ভিড়।

নিহত পাপিয়া আক্তার (৩৫) সৌদি আরবপ্রবাসী জহিরুল ইসলামের স্ত্রী। তাঁদের চার বছরের ছেলে মোহাম্মদ হোসাইনও মায়ের পাশেই ছিল। আরেক কক্ষে পাওয়া যায় জহিরুলের ছোট ভাইয়ের ছেলে, পাঁচ বছরের জোবায়ের হোসেনের মরদেহ। প্রায়ই চাচির ঘরে ঘুমাত সে।

স্বজনদের ভাষ্য, সোমবার রাতে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন সবাই। গভীর রাতে কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে তিনজনকে। সকালে জোবায়েরকে ডাকতে গিয়ে সাড়া না পেয়ে ছোট ভাই মাকে জানায়। দরজা খুলে ঘরে ঢুকতেই চোখে পড়ে রক্তাক্ত দৃশ্য। চিৎকারে জড়ো হন প্রতিবেশীরা।

জোবায়েরের মা লিপি আক্তার বলেন, ছেলেটা প্রায়ই চাচির কাছে থাকত। সকালে গিয়ে দেখি রক্তের মধ্যে পড়ে আছে। পাশের ঘরেও একই অবস্থা। কী অপরাধ ছিল ওদের?

প্রতিবেশী শহিদুল্লাহ জানান, বাড়ির দরজা খোলা ছিল। তিনটি কক্ষে তিনজনের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। পরিবারটির সঙ্গে কারও দৃশ্যমান বিরোধ ছিল না বলেও জানান তিনি।

পুলিশ জানায়, পাপিয়ার কক্ষের আলমারি ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেখান থেকে কিছু মালামাল খোয়া গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তে নেমেছে পুলিশের একাধিক দল; পিবিআই ও সিআইডিকেও জানানো হয়েছে।

হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) দীনেশ দাশগুপ্ত বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যার আলামত মিলেছে। হত্যার কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। ওসি মোরশেদুল আলম জানান, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন।গ্রামজুড়ে এখন শোকের ছায়া। প্রবাসে থাকা জহিরুল ইসলাম এখনও জানেন, তাঁর ঘরে আর কেউ অপেক্ষায় নেই। একটি পরিবারের তিনটি প্রাণ এক রাতেই ঝরে যাওয়ার এই ঘটনায় উত্তর মণিপুরে নেমে এসেছে গভীর নীরবতা।

কক্সবাজার আদালতপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি টাঙালেন তিন আইনজীবী

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ণ
   
কক্সবাজার আদালতপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি টাঙালেন তিন আইনজীবী

অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে, তার প্রভাব পড়েছে কক্সবাজারের আদালতপাড়ায়ও। জেলা জজ আদালতসংলগ্ন আইনজীবী সমিতি ভবনের একটি ব্যক্তিগত চেম্বারে আবারও টাঙানো হয়েছে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি। তিন আইনজীবীর এ উদ্যোগকে কেউ দেখছেন তাদের ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে, আবার কেউ মনে করছেন এটি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতারই।

বৃহস্পতিবার সকালে চেম্বারটিতে প্রতিকৃতি টাঙানোর সময় সেখানে আওয়ামী ঘরানার কয়েকজন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ঘিরে স্থানীয় আইনজীবীপাড়ায় আলোচনা তৈরি হয়েছে।

চেম্বারটিতে বসেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জুলকারনাইন জিল্লু, মোহাম্মদ ফয়সাল ও নূরুল ইসলাম নাহিদ।

তাদের ভাষ্য, এটি নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নয়; বরং কয়েক বছর আগেই চেম্বার শুরু করার সময় তারা প্রতিকৃতি টাঙিয়েছিলেন।

অ্যাডভোকেট জুলকারনাইন জিল্লু বলেন, চেম্বার প্রতিষ্ঠার সময়ই তারা বঙ্গবন্ধুর ছবি টাঙিয়েছিলেন এবং সে অনুযায়ী ফ্রেমও তৈরি ছিল। কিন্তু গত বছরের ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে জেলা জজ আদালত এলাকায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তখন নিজেদের নিরাপত্তা বিবেচনায় ছবিটি সরিয়ে রাখা হয়।তার দাবি, ওই সময় জুলাইযোদ্ধা সমন্বয়ক পরিচয়ে কিছু ব্যক্তি আদালত চত্বরে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিলেন।

জুলকারনাইন আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের পর তারা মনে করেছেন, এখন আর কোনো বাধা নেই। তাই যথাযোগ্য মর্যাদায় আবারও প্রতিকৃতি টাঙানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তারা কোনো ধরনের হুমকি বা চাপের মুখে পড়েননি বলেও জানান তিনি।

আইনজীবী সমিতির কয়েকজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ব্যক্তিগত চেম্বারে কে কী ছবি রাখবেন, সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের প্রেক্ষাপটে এমন প্রতীকী উদ্যোগকে অনেকেই রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখছেন।

জেলা আইনজীবী সমিতির দায়িত্বশীল কোনো নেতা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে সমিতির এক কর্মকর্তা বলেন, ব্যক্তিগত চেম্বারে টাঙানো ছবি নিয়ে সমিতির আলাদা কোনো নীতিমালা নেই।

কক্সবাজার আইনজীবীপাড়ার এই ঘটনাকে কেউ দেখছেন ব্যক্তিগত বিশ্বাসের প্রকাশ হিসেবে, আবার কেউ দেখছেন রাজনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তনের প্রতিফলন হিসেবে। আদালতপাড়ার ভেতরে বাইরে তাই আলোচনার কেন্দ্রে এখন একটি প্রতিকৃতি-যা শুধু দেয়ালে টাঙানো একটি ছবি নয়, বরং সময়ের স্রোতে রাজনীতির উত্থান-পতনেরও ইঙ্গিত বহন করছে।

সিএমপি’র চকবাজার থানার ওসি বাবুল আজাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ

রাহাত সুমন
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
   
সিএমপি’র চকবাজার থানার ওসি বাবুল আজাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ

সিএমপি’র চকবাজার ওসি বাবুল আজাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মিথ্যা মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগে সদর দপ্তরের তদন্ত

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)–এর চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আজাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্যতা এবং নিয়মিত চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করছে পুলিশ সদর দপ্তর

পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ে থাকা সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে একটি গোপন তদন্ত প্রতিবেদনও তৈরি হয়েছে।

পিআইও’র পাঁচ পৃষ্ঠার গোপন প্রতিবেদন

জানা গেছে, পুলিশ ইন্টারনাল ওভারসাইট (পিআইও) ইউনিট পাহাড়তলী ও ডবলমুরিং থানায় দায়িত্ব পালনের সময়কার বিভিন্ন অনিয়মের সুনির্দিষ্ট বিবরণ ও অডিও রেকর্ডসহ পাঁচ পৃষ্ঠার একটি গোপন প্রতিবেদন পুলিশ সদর দপ্তরে জমা দেয়। প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি গণমাধ্যমের কাছেও পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

থানা সূত্রে জানা যায়, ওসি বাবুল আজাদ বদলির সময় সেলিম সরকারসহ কয়েকজন এএসআই ও এসআইকে সঙ্গে নিয়ে যান, যাদের বিরুদ্ধেও প্রতিবেদনে অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে।

সদর দপ্তর থেকে বিষয়টি নগর পুলিশে তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। তবে ওসির সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সুসম্পর্কের কারণে প্রকাশ্যে কেউ অভিযোগ দিতে সাহস পাননি বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। পুনরায় হয়রানির আশঙ্কায় অনেক ভুক্তভোগী তদন্ত কর্মকর্তার কাছেও সাক্ষ্য দেননি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) মোহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ বলেন, সদর দপ্তর থেকে একটি তদন্ত এসেছিল এবং তা পূর্বসূরি অতিরিক্ত কমিশনার তদন্ত করে ঢাকায় পাঠিয়েছেন। তবে তিনি প্রতিবেদনের বিস্তারিত সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান।

‘টাকা না দিলে একাধিক মামলায় চালান’

পিআইও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চাহিদামতো টাকা দিলে একটি মামলায় চালান দেওয়া হতো; আর টাকা না দিলে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর উত্তর আগ্রাবাদ এলাকা থেকে সাগির আহমদ নামে এক ব্যক্তিকে আওয়ামী লীগের কর্মী পরিচয়ে আটক করা হয়। চারটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর ভয় দেখিয়ে তার পরিবারের কাছ থেকে চার লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মোট ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল।

২০২৫ সালের জুলাই মাসে মনসুরাবাদ এলাকায় এক বিকাশ এজেন্টকে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে থানায় নিয়ে গিয়ে পরে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও প্রতিবেদনে রয়েছে।

ওয়ার্ড মেম্বার ও বিএনপি নেতার অভিযোগ

পাহাড়তলী থানায় দায়িত্ব পালনকালে এক ওয়ার্ড মেম্বারের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা এবং তার সহযোগীর কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৫১ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া, পাহাড়তলী ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক এক নেতার অভিযোগ—চাঁদা না দেওয়ায় তাকে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় আসামি করার ভয় দেখানো হয়। পরবর্তীতে অর্থ দেওয়ার পরও অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।

আটক, ভয়ভীতি ও অর্থের বিনিময়ে মুক্তির অভিযোগ

গত ১১ জুলাই নগরীর মোগলটুলী মোড় থেকে সাত যুবককে আটক করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, তাদের মধ্যে পাঁচজনকে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং বাকি দুজনকে মামলায় চালান করা হয়।

এ ছাড়া, গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর চৌমুহনী কর্ণফুলী মার্কেট এলাকা থেকে এক যুবককে তুলে নিয়ে মামলার ভয় দেখিয়ে ৪০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই যুবকের দাবি, পরিবার টাকা দেওয়ার পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

জুয়ার আসর ও মাদক ব্যবসা থেকে মাসিক আদায়ের অভিযোগ

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ডবলমুরিং থানায় দায়িত্ব পালনকালে একটি জুয়ার আসর থেকে মাসিক এক লাখ টাকা নেওয়া হতো। পাশাপাশি বিভিন্ন স্পটে মাদক বিক্রেতাদের কাছ থেকেও নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। তালিকাভুক্ত ১৬ জন মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মাসিক অর্থ নেওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ওসি বাবুল আজাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট তৎকালীন উপ-পুলিশ কমিশনারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে নোবিপ্রবি রেজিস্ট্রার তামজিদ চৌধুরীর পদত্যাগ

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
   
উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে নোবিপ্রবি রেজিস্ট্রার তামজিদ চৌধুরীর পদত্যাগ

উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) রেজিস্ট্রার তামজিদ হোসাইন চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) তিনি ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোয় রেজিস্ট্রার দপ্তর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ। একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় এ দপ্তর সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করে। তাঁর পদত্যাগের খবরে ক্যাম্পাসে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “তিনি তাঁর অফিসিয়াল ফোনটি জমা দিয়েছেন। এর বাইরে আমরা কিছু বলতে পারছি না।”

রেজিস্ট্রার তামজিদ হোসাইন চৌধুরী মুঠোফোনে বলেন, ব্যক্তিগত কারণেই তিনি পদত্যাগ করেছেন। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ব্যাপক চাপের মধ্যে থাকতে হয় এবং ব্যক্তিগত সময়ের অভাব দেখা দেয়। মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার বিষয় বিবেচনায় তিনি পদত্যাগপত্র দিয়েছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, “পদত্যাগপত্র এখনো আমার কাছে আসেনি। পত্রটি এলে তখন বিষয়টি দেখা হবে।”উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘দলীয়করণ’-এর অভিযোগ এনে আগামী সাত দিনের মধ্যে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারারের পদত্যাগের দাবিতে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দেয় বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নোবিপ্রবি সাদা দল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন সংগঠনটির নেতারা।

You cannot copy content of this page