খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন, ১৪৩২

কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৭৬০ কোটির প্রকল্পে মাগুরার অনিয়মের নায়ক মাশরুম বাবুল বহাল তবিয়তে

মাগুরা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:১৩ অপরাহ্ণ
কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৭৬০ কোটির প্রকল্পে মাগুরার অনিয়মের নায়ক মাশরুম বাবুল বহাল তবিয়তে

মাগুরায় কৃষি মন্ত্রণালয়–এর ৭৬০ কোটি টাকার ‘পার্টনার-ডিএএম’ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সরকার ও বিশ্বব্যাংক–এর অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল কৃষি খাতে পুষ্টি, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও সহনশীলতা বৃদ্ধি। তবে মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা, অর্থ ব্যয় ও নীতিমালা অনুসরণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। নির্দেশিকা অনুযায়ী ১২ দিনব্যাপী ‘অন দ্য জব’ প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হওয়ার কথা; খাবার, উপকরণ, ভাতা ও লজিস্টিক সহায়তার ব্যয় সরকারি বরাদ্দ থেকেই দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ—বাস্তবে অর্থ আদায়, ভাতা কম দেওয়া ও নিম্নমানের খাবার পরিবেশনের মতো অনিয়ম ঘটেছে।

‘বিনামূল্যে’ প্রশিক্ষণে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

অংশগ্রহণকারীদের দাবি, পিকনিকের নামে জনপ্রতি ৩০০ টাকা করে আদায় করা হয়। ২৫ জনের ব্যাচ থেকে প্রায় ৯ হাজার টাকা তুলে ঝিনাইদহের একটি পর্যটনকেন্দ্রে নেওয়া হয়। অথচ নীতিমালায় অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার সুযোগ নেই।
প্রশিক্ষণার্থীদের আরও অভিযোগ, প্রথম পর্যায়ে ১২ হাজার টাকা ভাতা বরাদ্দ থাকলেও ৯ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়; পরে সংবাদ প্রকাশের পর তা ১১ হাজারে সমন্বয় করা হয়। আবাসিক প্রশিক্ষণের কথা থাকলেও বাস্তবে অনাবাসিকভাবে ক্লাস নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অনুমোদিত প্রশিক্ষক ও আর্থিক গরমিল প্রশ্নে

স্থানীয় অংশীদার হিসেবে ‘ড্রিম মাশরুম ভ্যালি’–এর সংশ্লিষ্টতার কথা জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, অনুমোদিত প্রশিক্ষক তালিকা অনুসরণ না করে ক্লাস নেওয়া হয়েছে। ‘মাশরুম বাবুল’ নামে পরিচিত বাবুল আক্তার নিজেই একাধিক ক্লাস নিয়েছেন বলে দাবি প্রশিক্ষণার্থীদের। তবে তিনি প্রকল্পের অনুমোদিত প্রশিক্ষক কিনা—সে বিষয়ে স্পষ্ট নথি দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ।

সর্বশেষ উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণে ২৫ জনকে ১১ হাজার টাকার চেক দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তাৎক্ষণিক উত্তোলন সম্ভব হয়নি—এমন অভিযোগও উঠেছে। পরে অর্থ জোগাড় করে চেকের টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন অংশগ্রহণকারী।

তদন্ত ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া

সংবাদ প্রকাশের পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মাগুরা সদর এলাকায় অভিযান চালায়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে বিল-ভাউচার, প্রশিক্ষণ নথি ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, কিছু বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে। প্রকল্প কার্যালয়ের এজেন্সি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ড. মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-ফারুকও অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখার কথা জানিয়েছেন।

সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাপের অভিযোগ

অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিক মিরাজ আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা উদ্যোগ, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। তিনি মাগুরা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি।

অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকের অল্প সময়ের মধ্যে কোটি টাকার সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়টিও তদন্ত করা প্রয়োজন। অতীতে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ও প্রণোদনার সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অতিরিক্ত সচিব নাসির-উদ-দৌলা পরে কথা বলবেন বলে জানান।

৬৪ জেলায় বাস্তবায়নাধীন ৭৬০ কোটি টাকার এই প্রকল্প কৃষিখাতে তরুণ ও নারী উদ্যোক্তা তৈরির রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ। তবে মাঠপর্যায়ে অনিয়মের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো ব্যবস্থার জবাবদিহি প্রশ্নবিদ্ধ করবে। দুদকের অভিযান ও তদন্তের আশ্বাস মিললেও স্থানীয়দের প্রশ্ন—জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেবে?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সপরিবারে জামায়াত ইসলামীর ইফতারের দাওয়াত

দুর্নীতির ডায়েরি ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
   
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সপরিবারে জামায়াত ইসলামীর ইফতারের দাওয়াত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ২৮ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) সপরিবারে ইফতার অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকতার সঙ্গে দাওয়াত গ্রহণ করেছেন।

বুধবার সকালে দাওয়াতপত্র নিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশ করে জামায়াতের প্রতিনিধি দল।

সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জামায়াত নেতাদের এই আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতে পরস্পর শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী মুঠোফোনে বিরোধী দলীয় নেতা জামায়াত আমিরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতির সব বিতর্কের জায়গা যেন সংসদ হয়। এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে জামায়াত নেতারা বলেন, রাজপথে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন হতে পারে, তবে অতীতের মতো রাজনীতিতে খারাপ চর্চা যেন না হয়। তারা আশা প্রকাশ করেন, বিরোধী দল ও সরকারি দলের মধ্যে সুন্দর সমন্বয় ও সহমিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাবে।

কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন প্রধানের বিরুদ্ধে উপ-রেজিস্ট্রারের ওপর হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ণ
   
কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন প্রধানের বিরুদ্ধে উপ-রেজিস্ট্রারের ওপর হামলার অভিযোগ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার খন্দকার এহসান হাবীবের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন প্রধানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ছাত্রদলকর্মী হৃদয়, আলামিনসহ আরো কয়েকজন জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী খন্দকার এহসান হাবীব জানান, বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন প্রধানের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে উপাচার্য দপ্তরে যায়। সে সময় তিনি উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারীর (পিএস) কক্ষে অবস্থান করছিলেন। পরে মেডিকেল সেন্টারের সামনে ইমরান হোসেন প্রধান ও আলামিনের নেতৃত্বে একটি দল তার পথরোধ করে জানতে চায়, তিনি কেন উপাচার্য দপ্তরে গিয়েছিলেন এবং ভবিষ্যতে সেখানে যেতে নিষেধ করে।

তিনি বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ড. মাহবুবুর রহমান লিটনকে অবহিত করার কথা বললে ইমরান ও হৃদয় তার ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ করেন। এ সময় অপর উপ-রেজিস্ট্রার আমিনুল ইসলাম বাধা দিতে গেলে তাকেও লাঞ্ছিত করা হয়।

উল্লেখ্য, খন্দকার এহসান হাবীব জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা প্যানেল থেকে দুইবার সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করায় তিনি তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় একাধিক মামলার শিকার এবং চাকরিচ্যুত হন বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে ৫ আগস্টের পর উচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে তিনি চাকরিতে পুনর্বহাল হন।

এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কর্মকর্তা উপাচার্যের কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে তাকে অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল সভাপতি ইমরান হোসেন প্রধানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কক্সবাজারে জামিনে মুক্ত হয়ে এমপি কাজলের সঙ্গে আ.লীগ নেতা সোহেল জাহান চৌধুরীর সাক্ষাৎ

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ণ
   
কক্সবাজারে জামিনে মুক্ত হয়ে এমপি কাজলের সঙ্গে আ.লীগ নেতা সোহেল জাহান চৌধুরীর সাক্ষাৎ

কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ের আলোচিত উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান সোহেল জাহান চৌধুরী বুধবার (২৫ফেব্রুয়ারি) বিকালে জামিনে মুক্তি পেয়েই কক্সবাজার-৩ আসনের নবনির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজলের সাথে পুষ্পমাল্য নিয়ে সাক্ষাৎ করেছেন।

এ সময় তার সাথে ছিলেন জামিনে মুক্তি পাওয়া আরেক আলোচিত ব্যাক্তি ফিরোজ আহমদসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ছবি ছড়িয়ে পড়লে তা মূহূর্তেই ভাইরাল হয় এবং ব্যাপক আলোচনার ঝড় উঠে। উপজেলার রাজনৈতিক বোদ্ধাদের অভিমত আলোচিত সোহেল জাহান চৌধুরী বিএনপির সংসদ সদস্যদের সাথে সাক্ষাতের ঘটনায় উপজেলা বিএনপিতে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ সৃষ্টি হতে পারে।প্রসঙ্গত ২৮ জানুয়ারি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রকাশ্যে ঈদগাঁও পাল পাড়সহ ইউনিয়নের বিভিন্নস্থানে ধানের শীষের জন্য ভোট ক্যাম্পেইন শুরু করেন আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল জাহান চৌধুরী। যা ব্যাপক আলোচনার ঝড় তুলে। পরদিন বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে নিজ ঘর থেকে তাকে যৌথবাহিনী আটক করে।

You cannot copy content of this page