আনোয়ারা সাব রেজিস্ট্রার জুবায়ের হোসেন এর নামে অফিস সহকারীর চেয়ারে বসে প্রকাশ্যে ঘুষ আদায় করছেন দৈনিক ভিত্তিক ঝাড়ুদার আবদুল আহাদ। এটা প্রতিদিনের চিত্র।
আনোয়ারা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমির রেকর্ড করতে অতিরিক্ত ঘুষ আদায়, দলিলের নকল তুলতে এবং দলিল তল্লাশি করতেও অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে দৈনিক ভিত্তিক ঝাড়ুদার আহাদের বিরুদ্ধে।
সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ভেতরে এবং বাইরের দালালদের সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট করে দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে ঝাড়ুদার আহাদ।
সাব-রেজিস্ট্রারের কাছের লোক হওয়ায় সে এসব অপকর্ম করে বেড়ায় এবং অফিস সহকারীর চেয়ারে বসেই ঘুষ আদায় করেন।
এদিকে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, ঝাড়ুদার আহাদ বিভিন্ন দলিল থেকে সরকারি রেজিস্ট্রেশন এবং আনুষঙ্গিক খরচসহ ১০ শতাংশ অর্থ আদায় করে দলিল গ্রহীতাদের কাছ থেকে।
আনোয়ারা সাব রেজিস্ট্রার জুবায়ের হোসেন ও দৈনিক ভিত্তিক ঝাড়ুদার আবদুল আহাদ এর কাছে আনোয়ারা বাসী জিম্মি হয়ে পড়েছে।
এই বিষয়ে আনোয়ারা দলিল লেখক সমিতির নেতা নাম প্রকাশ না করার সর্তে বলেন আনোয়ারা সাব রেজিস্ট্রার অফিসে ষুষ
ছাড়া কোন সেবা মিলে না, স্বাধীনতার পর থেকে আনোয়ারা বাসী এই রকম ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ সাব রেজিস্ট্রার দেখে নাই, এমনকি এরা দুইজন মিলে অফিসের অন্য স্টাফদের জিম্মি করে রেখেছে।
আমরা আনোয়ারা দলিল লেখক সমিতি সম্প্রতি সাব রেজিস্ট্রার জুবায়রের সীমাহীন ঘুষ ও দুর্নীতি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কলম বিরতি পালন করেছি, কিন্তু জেলা রেজিস্ট্রার এর মাধ্যমে জেলা দলিল লেখক সমিতি আমাদের আন্দোলন কে থামিয়ে দিয়েছে রহস্য জনক কারণে।
দৈনিক ভিত্তিক ঝাড়ুদার আবদুল আহাদ চা নাস্তা সহ বিবিধ কাজ করার জন্য দৈনিক ৫০০ টাকা বেতনে একজন সহকারী নিযোগ দিয়েছে তার নাম অনিল দত্ত।
দৈনিক ভিত্তিক ৭০ টাকা বেতনের ঝাড়ুদার তার জন্য সহকারী নিযোগ দিয়েছেন দৈনিক ৫০০ টাকায়।
এমন কি রাতে থাকার জন্য মুসলিম হোটেল কর্মচারী বিক্রম কে দৈনিক ২০০ টাকা দিয়ে নিযোগ দিয়েছে ঝাড়ুদার আহাদ।
সাব রেজিস্ট্রার অফিসের সমস্ত রুমের চাবি ঝাডুদার আহাদের নিযোগ কৃত দারোয়ান মুসলিম হোটেল কর্মচারী বিক্রমের কাছে থাকে।
সাব রেজিস্ট্রার জুবাইর হোসেন রবিবার এ অফিসে আসেন না, কিন্তু হাজিরা খাতায় উপস্থিতির সাক্ষর করেন।
অনলাইন জমি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সাব রেজিস্ট্রার জুবাইর যোগ দানের পর বন্ধ করে দিয়েছে এবং সেবা প্রাপ্তিদের কে নিরুৎসাহিত করছেন।
সাবেক সাব রেজিস্ট্রার রেজাউল করিম অনলাইন জমি রেজিস্ট্রেশন সেবা চালু রেখেছেন এবং সেবা প্রাপ্তিদের কে উৎসাহিত করেছেন।
জেলা রেজিস্ট্রার জামিলের যোগসাজশে আনোয়ারা
সাব রেজিস্ট্রার জুবায়ের হোসেন ও দৈনিক মজুরী ভীত্তিক অফিসের ঝাড়ুদার আবদুল আহাদ এর মাধ্যমে ১৫ অক্টোবর আনোয়ারা সদর ইউনিয়ন খিলপাড়া মৌজায় দেড় কোটি টাকা মৃল্যর ১০ শতক জমি সাব রেজিস্ট্রার জুবাইর হোসেন একই দিনে দুটি ভিন্ন দলিল এর মাধ্যমে নিবন্ধন করেন।
একটি পাওয়ার অব অ্যাটনি ( দলিল নং – ৪৪৩৫). এবং অপরটি সাব কবলা দলিল ( দলিল নং- ৪৪৩৭)।
সাব রেজিস্ট্রার জুবাইর ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে একই দিনে একই জমি দুটি দলিল নিবন্ধন করেন।
একই দিনে একই জমি পাওয়ার অব অ্যাটনি এবং সাব কবলা দলিল নিবন্ধন বেআইনী।
আনোয়ারায় সাব রেজিস্ট্রার জুবাইর হোসেন যোগ দানের পর আনোয়ারা সাব রেজিস্ট্রারি অফিসে ঘুষের দোকান খুলে দৈনিক মজুরী ভীত্তিক অফিসের ঝাড়ুদার আবদুল আহাদ কে ঘুষের দোকানের ক্যাসিয়ার বানিয়ে ঘুষের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
সাব-রেজিস্ট্রার জুবায়ের হোসেন ও ঝাড়ুদার আহাদের ঘুষ-দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ আনোয়ারাবাসী।
আনোয়ারা সাব-রেজিস্ট্রার জুবায়ের হোসেনের ঘুষের দোকানের দৈনিক আয় প্রায় তিন লাখ।
যত দলিল তত টাকা।
নিরীহ জনগণ নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং লক্ষ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
দলিলের কমিশনে যেয়ে আনোয়ারা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ঝাড়ুদার আহাদ দাতা-গ্রহিতাদের ভয়ভীতি দেখিয়েও মোটা অংকের টাকা আদায় করে থাকে। কেউ টাকা দিতে অস্বীকার করলেই দলিল রেজিস্ট্রি বন্ধ রাখার অভিযোগ রয়েছে ঝাড়ুদার আহাদের বিরুদ্ধে।
সাব-রেজিস্ট্রার জুবায়ের হোসেনের নির্দেশে ঝাড়ুদার আহাদ ঘুষের টাকা, সরকারি ফ্রি আদায়, রেকর্ড রুমের তত্ত্বাবধান সহ সব লেনদেন করেন অফিস সহকারীর চেয়ারে বসেই।
আনোয়ারা সাব রেজিস্ট্রার জুবাইর হোসেন কর্মজীবনে যেখানে গেছেন
সেখানেই বির্তক সৃষ্টি করেছেন – জাল দলিল – বেনামী দলিল – কাগজপত্র ছাড়া দলিল সৃজন করে এবং ঘুষের দোকান খুলে শিরোনাম হয়েছেন।
এই বিষয়ে জানার জন্য সাব রেজিস্ট্রার জুবাইর হোসেন কে একাধিক বার কল করলে ও রিসিভ না করে বার বার ফোন কেটে দেন।
এই বিষয়ে জানার জন্য জেলা রেজিস্ট্রার খন্দকার জামিলুর রহমান সাথে যোগাযোগ করলে, তিনি বলেন আমাকে তো কেউ এই পযন্ত অভিযোগ দেয় নাই, উল্টো প্রশ্ন রেখে বলেন আপনারা লিখিত অভিযোগ দেন আমি তদন্ত করে দেখব, দায়সারা অগোছালো কথা বলেন।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায় জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের অধীনে ২২টি উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিস রয়েছে, প্রতি মাসে উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিস থেকে ঘুষের লাখ লাখ টাকা জেলা রেজিস্ট্রারের পকেটে ডুকে।
তাই এইসব দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নেন না জেলা রেজিস্ট্রার।

ক্রাইম রিপোর্টার
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫ । ১:১৫ অপরাহ্ণ