গুলিবিদ্ধ হয়ে লিবিয়ায় মাদারীপুরের ৩ যুবক নিহত

মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ । ৮:৪২ অপরাহ্ণ

স্বপ্নের দেশ ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়ায় মানবপাচারকারীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন মাদারীপুরের তিন যুবক।

মঙ্গলবার রাতে তাদের মৃত্যুর খবর পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছেন উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের আদিত্যপুর গ্রামের দালাল সেলিম খান। এই ঘটনায় দালালদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়রা।

নিহত তিনজন হলেন, মাদারীপুর সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের আদিত্যপুর গ্রামের হাজী মো. তৈয়ব আলী খানের ছেলে ইমরান খান (২২), রাজৈর উপজেলার দুর্গাবদ্দী গ্রামের ইমারত তালুকদারের ছেলে মুন্না তালুকদার (২৪) এবং একই উপজেলার ঘোষলাকান্দি গ্রামের কুদ্দুস শেখের ছেলে বায়েজিত শেখ (২০)।

অভিযুক্ত দালাল হলেন, মাদারীপুর সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের আদিত্যপুর গ্রামের লালু খানের ছেলে শিপন খান ও তার বড় ভাই সেলিম খান।

স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২২ লাখ টাকায় সরাসরি ইতালি পৌঁছে দেওয়ার শর্তে প্রতিবেশী ও মানবপাচার চক্রের সদস্য শিপন খান ও তার বড় ভাই সেলিম খানের সঙ্গে চুক্তি হয়। শিপন লিবিয়ায় অবস্থান করে কাজ করতেন, আর সেলিম খানের মাধ্যমে দেশে লেনদেন ও অন্যান্য কাজ চালানো হতো।

টাকা দেওয়ার পর গত ৮ অক্টোবর ইমরান খান ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন। লিবিয়ায় পৌঁছালে তাকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরিবারের কাছে মুক্তির জন্য আরও ১৮ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

১ নভেম্বর ইমরান তার মাকে ফোনে জানায়, “মা, এখানে আমাকে অনেক নির্যাতন করা হচ্ছে। জানি না কী হবে।” এরপর তার পরিবারের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।

মঙ্গলবার রাতে দালাল সেলিম খান জানান, ইমরান খান পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন। একইভাবে মুন্না তালুকদার ও বায়েজিত শেখও লিবিয়ার মাফিয়ার গুলিতে মারা যান। এই মৃত্যু পরিবারের কাছে মেনে নেওয়া কঠিন।

ঘটনা জানাজানি হলে সেলিম খানের পরিবারের সদস্যরা ঘরে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যান।

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, শিপন কয়েক বছর ধরে লিবিয়ায় মানবপাচারের কাজ করে আসছে। দেশে বসে তার বড় ভাই সেলিম ও পরিবারের লোকজন এলাকার যুবকদের ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলে।

নিহত ইমরানের বড়বোন ফাতেমা আক্তার বলেন, “শিপন দালাল আমার ভাইকে মেরেছে। তার কঠিন বিচার চাই। সরকারের কাছে দাবি, লাশ দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। ৪০ লাখ টাকা দিয়েও ভাইকে বাঁচানো গেল না। শিপন ও সেলিম সব টাকা একাই খেয়ে ফেলেছে।”

ইমরান খানের মা রেহেনা বেগম একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। তিনি কেঁদে কেঁদে বলেন, “আমার একটাই ছেলে, সব শেষ হয়ে গেছে। আমি দালালদের ফাঁসি চাই।”

মুন্না তালুকদ্দীর খালা খাদিজা আক্তার ও বায়েজিতের বাবা কুদ্দুস শেখও দাবি করেন, দালালদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি জরুরি।

দালাল শিপনের চাচি সেতারা বেগম দাবি করেন, শিপন ইতালি নিয়ে গেছে অনেক মানুষকে, কিন্তু গুলিতে কেউ মারা গেছে বা শিপন কাউকে গুলি করেছে, এমন ঘটনা তাদের জানা নেই।

বর্তমানে শিপন লিবিয়ায় অবস্থান করছেন এবং তার পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, “লিবিয়ায় গুলিতে তিন যুবকের মৃত্যুর খবর বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি। নিহতদের পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

  কপিরাইট © দূর্নীতির ডায়েরি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন