মাগুরা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহসিনকে নিয়ে ভুয়া তথ্য: গুজবের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপে মাগুরা প্রশাসন

মাগুরা প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫ । ১০:২০ অপরাহ্ণ

মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহসিন উদ্দিন ফকিরকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্যকে ‘গুজব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গত কয়েকদিন ধরে ভুয়া ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়, ডা. মোহসিন সরকারি অর্থে ১০ তলা ভবন নির্মাণ করেছেন, একাধিক ফ্ল্যাট ও কোটি টাকার গাড়ি কিনেছেন। পোস্টে হাসপাতালের নামে তার একটি ছবি ব্যবহার করা হয়।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছবিতে প্রদর্শিত ভবনটি তত্ত্বাবধায়কের নয়, বরং ফরিদপুর শহরের একজন ব্যবসায়ীর।

ডা. মোহসিন জানান, “আমি মাগুরা শহরে ভাড়া বাসায় থাকি। কোনো বাড়ি বা ফ্ল্যাটের মালিক নই। প্রচারিত ভবন আমার নয়, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

তিনি আরও বলেন, “ভিত্তিহীন পোস্ট ছড়িয়ে মানুষের আস্থা নষ্ট করার চেষ্টা হচ্ছে, যা হাসপাতালের সেবার মানকেও প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।”

মাগুরা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গুজব ছড়ানোর অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডি শনাক্তের কাজ চলছে।

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আইয়ুব আলী বলেন, “সরকারি কর্মকর্তাকে নিয়ে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচার অপরাধ। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও সতর্ক করেছে, “ডা. মোহসিনের নেতৃত্বে হাসপাতালের সেবা উন্নত হয়েছে। ওষুধ সরবরাহ, পরিষেবা মনিটরিং ও রোগীর নিরাপত্তায় শৃঙ্খলা বেড়েছে। গুজব ছড়িয়ে এসব উন্নয়নকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাশ্বতী শীল জানান, “জনস্বাস্থ্য ও প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে মিথ্যাচার করা অত্যন্ত গুরুতর। যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার করা অপরাধ। সতর্ক থাকা প্রয়োজন।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা বা স্বার্থের সংঘাত থেকে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি ও প্রশাসনিক অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে। মাগুরা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে নিয়ে ছড়ানো গুজবও সেই ধারার একটি উদাহরণ।

বর্তমানে ডা. মোহসিন ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন এবং তার সম্পদের বিষয়ে প্রচারিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। গুজব ছড়ানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

  কপিরাইট © দূর্নীতির ডায়েরি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন