আ/ও/য়া/মী বিরোধীমত দ/ম/ন-নি/পী/ড়/ন করে ভাটারা থানার ওসি রাকিব হাসানের উত্থানঃ সুবিধাবাদ আর দুর্নীতির জাল বিছিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়েও বহাল তবিয়তে

এস আই থাকাকালীন ২০১৮ সালের স্বৈরাচারী হাসিনার নিশি রাতের ভোট সফল করতে এভাবেই বিএনপি জামায়াত কর্মীদের উপর নির্য়াতন চালাতেন রাকিব
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ । ১:৩০ পূর্বাহ্ণ

ঢাকা মহানগরীর মতো শহরে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যেই যদি দুর্নীতি, সুবিধাবাদ আর রাজনৈতিক তোষণ প্রবল হয়—তাহলে জনগণের আস্থা কোথায় দাঁড়াবে?

সাম্প্রতিক সময়ে দীর্ঘ অনুসন্ধানে আলোচনায় উঠে এসেছে গুলশান বিভাগের ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিব হাসান। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো একদিকে ব্যক্তিগত চরিত্রের কেলেঙ্কারি, অন্যদিকে রাজনৈতিক সুবিধাভোগ আর ঘুষ বাণিজ্যের জটিল জালকে সামনে এনেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, খুলনা সদরের বাগমারা মেইন রোডের আব্দুর রাজ্জাকের সন্তান রাকিবুল হাসান (রনি) ২০০৭ সালে বাংলাদেশ পুলিশে সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) পদে কর্মজীবন শুরু করেন। সুচতুর রাকিবুল হাসান চাকরিতে জয়েন করার পর থেকেই অবৈধ ইনকামের নেশায় বুদ হয়ে চাকরির শুরু থেকেই নামে বেনামে গোড়ে তোলেন সম্পদের পাহাড়।

আর এই অবৈধ ইনকামের টাকা জায়েয করার জন্য তৎকালীন আওয়ামীলীগ নেতাদের আস্থাভাজন হওয়ার চেষ্টায় মরিয়া হয়ে ওঠেন৷ অবশ্য তিনি এই বিষয়ে সফলতাও লাভ করেন। খুলনা শহরে বাড়ি হওয়ায় স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলালের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মস্থলে প্রভাব খাটানো শুরু করেন এবং সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে সব সময় দেশের লোভনীয় থানা গুলোতে পোষ্টিং বাগিয়ে নেন।

এস আই থাকাকালীন ২০১৮ সালের স্বৈরাচারী হাসিনার নিশি রাতের ভোট সফল করতে এভাবেই বিএনপি জামায়াত কর্মীদের উপর নির্য়াতন চালাতেন রাকিব
এস আই থাকাকালীন ২০১৮ সালের স্বৈরাচারী হাসিনার নিশি রাতের ভোট সফল করতে এভাবেই বিএনপি জামায়াত কর্মীদের উপর নির্য়াতন চালাতেন রাকিব

এমনকি তিনি গর্ব করে বলে বেড়ান ১৫ বছরে থানা ছাড়া তিনি চাকরি করেননি কোথাও। এক পর্যায়ে ইন্সপেক্টরশীপ পরীক্ষা দেওয়ার সময় চলে আসলে পরীক্ষা দিয়ে ফেল করেন একাধিকবার, পরে অবৈধ টাকার জোরে ও তৎকালীন স্বৈরাচারের নিযুক্ত আইজিপির কাছে শেখ হেলালের পরিচয়ে ইন্সপেক্টর বনে যান৷

পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে কুষ্টিয়া জেলার (চৌরঙ্গী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র) কুমারখালি থানায় যোগদান করার পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয় রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে। GR 202/2020 এই নাম্বারে মিথ্যা মামলা দিয়ে পান্টি ইউনিয়ন বিএনপি ও কুমারখালি বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, জামায়াত, শিবিরের উপর নির্যাতন শুরু করেন রাকিবুল হাসান।

তার বিরুদ্ধে জোরালো বিতর্কের অধ্যায় শুরু হয় কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানার ওসি (তদন্ত) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর। দৌলতপুর থানায় যোগ দেওয়ার পর থেকে নিজেকে আওয়ামী ক্যাডার হিসেবে জাহির করতে মরিয়া ওঠেন,কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের আস্থাভাজন হতে দমন নিপীড়ন শুরু করেন বিএনপি-জামায়াত মতাদর্শের মানুষদের উপর।

এমন কোনো নির্যাতন নেই যে তিনি জামায়াত বিএনপির নেতা কর্মীদের উপর চালাননি৷ ২০২৩ সালের ৩১শে অক্টোবর দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির তৎকালীন সভাপতি ও বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লাকে ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহাসিন মুরাদের নির্দেশে অমানবিক ভাবে গ্রেফতার করে নিজ বাস ভবন থেকে।

এছাড়াও ২০২৩ সালের ১৪ জুন গরুর পাটক্ষেত খাওয়াকে কেন্দ্র করে ভেলশ মালিথা ও বজলু মালিথা নামে দুজন খুন হন। এই খুনের ঘটনায় মোটা টাকার বিনিময়ে আদালতে মনগড়া তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলে ২০২৪ সালের ২৬শে মার্চ দৌলতপুরের সাধারণ জনতা তার অপসারণের দাবিতে ঝাড়ু মিছিল বের করে।

কিন্তু তৎকালীন কুষ্টিয়া ২ আসনের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য এলাকায় মাফিয়া ফাটা কেষ্ট নামে পরিচিত কামারুল আরেফিনের প্রভাব ও মধ্যস্থতায় দৌলতপুর থানাতেই থেকে যান এই রাকিবুল হাসান৷

দক্ষিনবঙ্গের ত্রাস মিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও কুষ্টিয়া ২ আসনের তৎকালীন সাংসদ কামারুল আরেফিন ওরফে ফাটাকেস্টর সাথে ওসি রাকিব।
দক্ষিনবঙ্গের ত্রাস মিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও কুষ্টিয়া ২ আসনের তৎকালীন সাংসদ কামারুল আরেফিন ওরফে ফাটাকেস্টর সাথে ওসি রাকিব।

ঘুষ ও অস্বাভাবিক সম্পদের অভিযোগ

স্ত্রীর নামে বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনা শাখায় ৩৫ লক্ষ টাকার সঞ্চয় পত্র স্ত্রীর নামে ৩০ লক্ষ টাকার সঞ্চয় পত্র। স্ত্রীর ৫০ ভরির উপর সোনার গহনা, খুলনার বাটিয়াঘাটা উপজেলার শাচিবুনিয়া মৌজার জেএল ৪ ২৩৭, ২৪১, ২৪৫ নং দাগে কোটি টাকা মুল্যের ৬.০৫ শতকের প্লট, জিরো পয়েন্টে কোটি টাকা দামের বাড়ি, জোড়া গেটে দেড় কোটি টাকায় আলিশান ফ্ল্যাট বুকিং, এছাড়াও মা, ভাই, স্ত্রী, সহ বহু বেনামে সম্পদ। এমনকি তার আপন মামা রহমত আলী উজ্জল মীরের পরিবহন ব্যাবসায় লগ্নি করেছেন মোটা অঙ্কের টাকা।

অভিযোগকারীরা বলছেন, ভাটারায় দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই রাকিব হাসানের পরিবারে ব্যয়ের ধারা চোখে পড়ার মতো বেড়ে যায়। তার স্ত্রীর জন্য প্রায় ১২ লাখ টাকার সোনার হার, সর্বশেষ আইফোন, বসুন্ধরা সিটিতে

 

শপিং এর সময় তার বর্তমান স্ত্রী ও এনসিপি নেতা পরিচয় দানকারী শ্যালক সিয়াম

 

লাখ লাখ টাকার শপিং—

এসবের প্রমাণ হিসেবে স্থানীয় কয়েকজন নিম্নপদস্থ পুলিশ সদস্য তথ্য ফাঁস করেছেন বলে দাবি করা হয়।
প্রশ্ন হলো, একজন পুলিশ পরিদর্শক ঠিক কত টাকা বেতন পান? সরকারি বেতনের সঙ্গে এসব খরচ কি সামঞ্জস্যপূর্ণ?

ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্ক

রাকিব হাসানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কম বিতর্ক নেই।

রাকিবের ১ম স্ত্রী ও খালাতো বোন আফরিন জাহান আনিকা

সাব-ইন্সপেক্টর থাকাকালীন রাকিবুল হাসান প্রথম বিয়ে করেন ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া আপন খালাতো বোন আফরিন জাহান আনিকাকে।

পরবর্তীতেকিশোরী আনিকা তার অমানবিক অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে রাকিবুল হাসান কে ডিভোর্স দিয়ে চলে গিয়েছিলেন৷।

এরপর খুলনার এক চিকিৎসকের স্ত্রীকে নিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং পরে কোর্ট ম্যারেজ করেন। বর্তমানে এ সম্পর্ক ঘিরে মামলাও চলছে বলে জানা গেছে।

এইসব ঘটনাই তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সততার প্রশ্ন আরও ঘনীভূত করেছে।

বদলি থেকে ভাটারা: অদৃশ্য শক্তির ভূমিকা?

 

অবাক করা বিষয় হলো, কিছুদিনের মধ্যেই তিনি আবার ঢাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ জোনে—গুলশানের ভাটারা থানায়—পোস্টিং পান। প্রশ্ন উঠছে, কোন অদৃশ্য শক্তি তাকে এত দ্রুত ফিরিয়ে আনল?

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, রাকিবুল হাসানের জনৈক শ্যালক এনসিপি নেতা সিয়ামের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে ভাটারা থানার ওসি হিসেবে পদায়িত হন তিনি ৷

 

 আন্দোলনের সময়ের আতঙ্ক

রাকিব হাসান ২৪-এর ছাত্র আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ইবি থানায় ওসি (তদন্ত) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

জুলাই ছাত্র আন্দোলনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রধান সমন্বয়ক এস এম সুইট জানান, তদন্ত ওসি রাকিব সাহেব আন্দোলনের শুরুতে কয়েকদিন অসুস্থার কারনে ছুটিতে ছিলো কিন্তু আন্দোলন শুরুর ৩/৪ দিন পর ছুটি এসে উনি নিজেই ছাত্রলীগ / যুবলীগের ক্যাডারের রুপ ধারন করেন এবং বার বার অধিনস্থ ফোর্সদের বলতে থাকেন কুষ্টিয়া শহরে গুলি চলছে এদের বুকে গুলি না চালালে এরাও শান্ত হবে না।আমি এখনো ট্রমাটাইজ হয়ে যায় সেই দিনগুলোর কথা মনে করলে অথচ শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানী করে এই সমস্ত অফিসারদের দিব্যি ভালো সুযোগ সুবিধা করে দিচ্ছে এক শ্রেণীর নেতারা।

ছাত্র শিবিরের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সর্বোচ্চ একজন নেতা ও জুলাই ছাত্র আন্দোলনে সমন্বয়ক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই ওসি রাকিব আমাদের উপর ক্যাম্পাসে জুলুম করেছে এখন শুনি এরাই আবার ভালো ভালো জায়গায় ওসি গিরি করে। এই সমস্ত অফিসারদের দিব্যি ভালো সুযোগ সুবিধা করে দিচ্ছে এক শ্রেণীর সিনিয়র পুলিশ অফিসার রা।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণমাধ্যম কর্মী রাকিব রিফাত জুলাই আন্দোলনের দিনগুলোর ভয়াবহতা বর্ণনা করতে যেয়ে বলেন – কি বলবো ভাই আমাদের কোনো ভাষা জানা নেই এটা বর্ণনা করার, তবে আন্দোলন দমাতে ইবি ছাত্রদের প্রতি সর্বোচ্চ নির্দয় হওয়া এবং পট পরিবর্তনের পর আবার ভালো থানায় পোষ্টিং নেওয়া ওসি রাকিবের মতো তেলবাজ আর সুবিধাবাদী লোকদের কারনে “বাংলাদেশ পুলিশ” আবারো ডুববে।

কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রদল প্যানেল থেকে সাবেক নির্বাচিত এজিএস ও বর্তমান কুষ্টিয়া জেলা যুবদল নেতা কাজী জুরাইশ হোসেন জানান, ৯০ এর দশক থেকে ছাত্রদলের রাজনীতি করার কারনে পুরো কুষ্টিয়া জেলা জুড়ে আমার শুভাকাঙ্ক্ষী ছাত্রদল/যুবদলের ভাই ব্রাদার আছে অনেক। সবার মুখে একই কথা এই রাকিব যখন যেখানে চাকরি করেছেন তখন সেখানে আওয়ামী বিরোধী মত দমন করেছে স্বপ্রনোদিত হয়ে।

দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপির বর্ষিয়ান নেতা রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা জানান, সে দৌলতপুর থানায় কর্মরত থাকাকালীন আমার যুবদল, ছাত্রদলের ছেলেদের অনেক নির্যাতন করেছে।

এ সমস্ত বিষয়ে জানতে চাইলে ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিব হাসান দাম্ভিকতার সূরে জানান, আমার এই টাকা আছে ব্যাংলাদেশ ব্যাংকে এটা আমার বাবার থেকে পাওয়া টাকা। আর হ্যা আমি খালাতো বোনকে বিয়ে করেছিলাম সেটা পারিবারিক একটা এক্সিডেন্ট ছিলো। আর বাড়ির জমির যে মূল্য সেটা সঠিক নয়। আমি ছাত্র আন্দোলনের নিবেদিত প্রান ছিলাম। চাকরি জীবনের কখনো কাওকে নির্যাতন করিনি। আমি ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। বিএনপি দলিয় সাবেক এমপি ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ বাচ্চু মোল্লা প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন বাচ্চু মোল্লা কে আমি চিনিই না। আমি ওই থানায় চাকরি করেছেন অথচ সর্বোচ্চ নেতাকে চিনেন না এমন প্রশ্ন করলে বিষয় টি কৌশলে এড়িয়ে যায় এই ধূর্ত রাকিব।

৫ই আগষ্ট শেখ হাসিনা পলায়ন করার পর রাকিব নিজেও ইবি থানা থেকে পলায়ন করে আত্মগোপনে ছিলেন নিজের প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে। ২/৩ দিন আত্মগোপনে থাকার পর ১৮০ ডিগ্রী ভোল পাল্টে ওসি রাকিব নিজেকে বিএনপি প্রেমি হিসেবে জাহির করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তার। তাকে বদলী করা হয় ইবি থানা থেকে। পরে ওখান থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পোস্টিং নিয়ে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ থানায় যোগ দেন।সেখান থেকে চলতি বছরের মে মাসে ডিএমপির লাইনওআর হিসেবে বদলী হন৷ ঢাকায় বদলী হয়ে যাওয়ার পর থেকে ঠিক ১৮০ ডিগ্রি ভোল পাল্টিয়ে এখন সুবিধাবাদী হয়েছেন এমন ভাব করছেন তিনি ছাত্রজনতার জন্য নিবেদিত প্রাণ। সমালোচকরা বলেন—এখানেই শুরু হয় তার “সুবিধাবাদী চরিত্রের” প্রকাশ।

 

কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সাজ্জাত হোসেন নিজেকে সৎ অফিসার হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সমালোচকদের দাবি, তিনি সচেতনভাবেই রাজনৈতিকভাবে সুবিধাভোগী অফিসারদের গুরুত্বপূর্ণ থানায় বসিয়ে রেখেছেন। ওসি রাকিবের মতো একজন আলোচিত কর্মকর্তাকে ভাটারার মতো আর্থিকভাবে লাভজনক থানায় বসানো—এটা কি শুধুই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নাকি এর পেছনে রয়েছে লুকানো স্বার্থ?

রাজনৈতিক দোদুল্যমানতা: আওয়ামী থেকে বিএনপি

অভিযোগকারীদের ভাষ্যে, রাকিব হাসান দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সান্নিধ্যে থেকে সুবিধা নিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আবার বিএনপি ও নতুন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। এর উদ্দেশ্য একটাই—যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন, নিজের অবস্থান সুরক্ষিত রাখা। সমালোচকরা বলছেন, এটি কেবল সুবিধাবাদের খেলা, যেখানে জনগণ ও ন্যায়বিচারের কোনো স্থান নেই।

জনগণের ক্ষোভ ও প্রশ্ন

অনেকেই প্রশ্ন করছেন—

এতসব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন এখনো তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?

পুলিশের অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণ ইউনিট (PBI বা DB) কি এসব অভিযোগের তদন্ত করেছে?

কমিশনার কি প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়ছেন, নাকি সিস্টেমের ভেতরে আপস করে চলছেন?

ওসি রাকিব হাসানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো  জনস্বার্থে  উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। একদিকে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিতর্ক, অন্যদিকে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ—সবকিছু মিলিয়ে বিষয়টি শুধু একজন অফিসারের সততা নয়, পুরো পুলিশ বাহিনীর বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

জনগণের চাহিদা একটাই—একটি স্বচ্ছ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত। সত্য উদঘাটন হোক, প্রমাণ পাওয়া গেলে দোষীদের শাস্তি হোক। অন্যথায় “মুখোশধারী অফিসারদের” দাপটে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থা আরও ভেঙে পড়বে।

  কপিরাইট © দূর্নীতির ডায়েরি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন