পিআরএলে থাকা রাজস্ব কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের নামে-বেনামে বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ

রাহাত সুমন
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ১:০১ পূর্বাহ্ণ

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সদস্য কাজী মোস্তাফিজুর রহমান (দুলাল)-এর জীবন যাপন ও অর্জিত সম্পদ নিয়ে জনমনে নানা গুঞ্জন ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। রাজশাহীর প্রত্যন্ত এলাকা থেকে উঠে আসা এই কর্মকর্তার সরকারি বেতনের সঙ্গে তাঁর বর্তমান জীবন যাত্রার সংগতি নিয়ে সামাজিক ও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। অভিযোগ উঠেছে, কর্মজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকাকালীন তিনি ও তাঁর পরিবার বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মালিক হয়েছেন।

একাধিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কাজী মোস্তাফিজুর রহমানের নামে-বেনামে থাকা যে সকল সম্পত্তির বিবরণ আলোচনায় এসেছে, তার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
রাজধানীর মোহাম্মদপুরস্থ ইকবাল রোডে একটি আধুনিক ফ্ল্যাট (নং ৩/১৭) তাঁর মালিকানাধীন বলে জানা গেছে।গাজীপুরের পশ্চিম বিলাসপুরে একটি ৪ তলা বাড়ি এবং সালনা ও দেশি পাড়া এলাকায় কয়েক বিঘা জমি তাঁর দখলে রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে গাজীপুর তাজউদ্দীন মেডিকেলের পাশে থাকা কয়েক বিঘা মূল্যবান জমির মালিকানা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
জয়দেবপুর, দক্ষিণ ছায়া বিথি ও ছায়া কুঞ্জ এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক প্লট ও জমিতে তাঁর বিনিয়োগ রয়েছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে।
মোস্তাফিজুর রহমানের এই দ্রুত বিত্তশালী হওয়ার পেছনে তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে নানা মহলে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে,
তাঁর এক ভাই কাজী শাহিন দেশীয় নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবসার আড়ালে পারিবারিক সম্পদ তদারকি করেন। বিদেশে অবস্থানরত অপর ভাই কাজী মিঠু-র বিরুদ্ধে হুন্ডি বা অবৈধ অর্থ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অপপ্রচার বা অভিযোগ রয়েছে।

কাজী মোস্তাফিজুর রহমান বিসিএস ক্যাডারের সদস্য হিসেবে কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেট ও চট্টগ্রাম পোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তাঁর পদায়ন ছিল উল্লেখযোগ্য। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সরকার তাঁকে ৫৯ বছর পূর্ণ হওয়ায় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অবসরে পাঠিয়েছে।

বর্তমানে তিনি অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) রয়েছেন। একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার জীবনযাত্রা যদি তাঁর প্রকাশ্য আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবে তা রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অনুসন্ধানের দাবি রাখে।

সচেতন মহলের মতে, “সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এই ধরণের অভিযোগগুলোর সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এতে যেমন প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে, তেমনি নির্দোষ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সম্মানও অক্ষুণ্ণ থাকবে।”
উল্লিখিত বিষয়গুলো নিয়ে একাধিকবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

  কপিরাইট © দূর্নীতির ডায়েরি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন