বিএনপির সাবেক এমপি মেজর মনজুর কাদেরের বিরুদ্ধে ১৫ কোটি টাকায় এনায়েতপুর কাপড়ের হাট বিক্রির অভিযোগ

দুর্নীতির ডায়েরি ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৩:৪৮ পূর্বাহ্ণ

সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সাবেক এমপি মেজর (অব.) মনজুর কাদেরের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ তাঁত কাপড়ের হাটের সরকারি জায়গা প্লট করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টের পর এসব প্লট বিক্রি করে প্রায় ১৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মেজর (অব.) মনজুর কাদের সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন।সম্প্রতি বিএনপি ত্যাগ করে এনসিপিতে যোগ দিয়ে দলটির মনোনয়ন পেয়েছিলেন। কিন্তু জোটগত কারণে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে আসনটি ছেড়ে দিতে হয়েছে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জাহেদ বিষয়টি নিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় বিএনপি নেতা আনিছুর রহমানকে দিয়ে চার কোটি ৩৪ লাখ টাকায় হাটটি ইজারা নেওয়া হয়।এরপর এনায়েতপুর গরুর হাটের প্রায় ছয় বিঘা জমিতে ৪৬২টি প্লটের নকশা তৈরি করে প্রতিটি প্লট তিন লাখ ২৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। ‘সমঝোতা চুক্তিপত্র’ শিরোনামে প্রমিন্যান্ট টেক্সটাইল লিমিটেডের পক্ষে ম্যানেজিং ডিরেক্টর মেজর (অব.) মনজুর কাদের প্রথম পক্ষ হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন। আর প্লটের ক্রেতারা দ্বিতীয় পক্ষ হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন। এসব প্লট গত প্রায় দেড় বছরে বিক্রি হলেও অদৃশ্য কারণে সমঝোতা চুক্তিনামায় ২০১০ সালের তারিখ দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বাবর আলী বলেন, ‘দেড় বছর আগে পাঁচটি প্লট ১৬ লাখ ২৫ হাজার টাকায় কিনেছি। টাকা দিয়েছি আতাউর নামে একজনের কাছে। দলিল দিয়েছেন মনজুর কাদের। এখনো প্লট বুঝে পাইনি।’

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘২০২৪ সালে প্লট ক্রয় করলেও শুধু আমার নয়, প্রত্যেকের চুক্তিপত্রে ২০১০ সালের তারিখ দেওয়া হয়েছে।যা আমাদের বোধগম্য নয়।’

দুদকের পাবনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বলেন, ‘অভিযোগ নিয়ে দু-তিন মাস পর পর দুদকে সভা হয়ে থাকে। এনায়েতপুর হাটের বিষয়ের অভিযোগ যেহেতু ১৫ ডিসেম্বর দাখিল হয়েছে। সেহেতু বিষয়টি এখনো আমাদের নজরে আসেনি। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে দুদকে আবারও সভা হবে। তখন হয়তো এই অভিযোগের বিষয়ে ধারণা পাওয়া যাবে।’

সাদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা আশরাফ আলী বলেন, ‘প্লট বিক্রির বিষয়টি জানা নেই। তবে উল্লিখিত স্থানে এখনো ঘর উত্তোলন হয়নি। এটা ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত জায়গা। এ জায়গা কারো বিক্রি করার এখতিয়ার নাই। আমার জানা মতে. এই জায়গা কাউকে লিজ দেওয়া হয়নি।’

চৌহালীর ইউএনও এইচ এম খোদাদাদ হোসেন বলেন, ‘এনায়েতপুর কাপড়ের হাটের পাশের গরুর হাটের অংশের কিছু জায়গা বিক্রির বিষয়ে সম্প্রতি জানতে পেরেছি। বিষয়টি এসি ল্যান্ডকে তদন্তপূর্বক জানাতে বলা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি সরকারি ও হাট পেরিফেরির জায়গা বিক্রি করে থাকলে সেটার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এনায়েতপুর হাটের জায়গা ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। প্লট বিক্রির যে অভিযোগ উঠেছে সেসব জায়গা এখনো খালি রয়েছে। দুদকে করা অভিযোগ প্রসঙ্গে আমিও অবগত হয়েছি। এ বিষয়ে দুদক চাইলে আমরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করব।’

এ বিষয়ে প্রমিন্যান্ট টেক্সটাইল লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী সাবেক এমপি মেজর (অব.) মনজুর কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রমিন্যান্ট টেক্সটাইল লিমিটেডের ম্যানেজার ও এনায়েতপুর হাটের ইজারাদার আনিছুর রহমান বলেন, ‘সম্প্রতি কিভাবে প্লট বিক্রি হচ্ছে তা আমি জানি না। তবে ২০০৮-১০ সালে প্লট তৈরি করে মনজুর কাদের বিক্রি করেছেন। ২০০৬ সালে যখন নতুন করে হাট লাগানো হয়, তখন মনজুর কাদের হাটের জায়গা ডেভেলপ করেন এবং লে-আউট প্ল্যান করেন। সেই অনুযায়ী তাঁতিদের বসার শেড করেন। এখানে গরুর হাট ছিল না। গরুর হাটের জায়গা পূর্ব পাশে। এই জায়গা সুপারমার্কেটের। আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনেও ১২০টি প্লট ছিল। সাবেক এমপি মজিদ মণ্ডল সেগুলো ভেঙে আওয়ামী লীগের অফিস করেছিলেন, যা আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ভেঙে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।’

  কপিরাইট © দূর্নীতির ডায়েরি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন