রেলওয়ে ভুমি অফিসের কানুনগো শরিফুল ও রেলওয়ে ইনস্পেক্টর সিদ্দিক খানের উৎকোচ বানিজ্য

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
ঈশ্বরদী রেলওয়ে ভুমি অফিসের ১১নম্বর কাচারির কানুনগো শরিফুল ইসলাম ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ইনস্পেক্টর সিদ্দিক খানের বিরুদ্ধে উৎকোচ বানিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, নন্দনগাছী ষ্টেশন সংলগ্ন বরকতপুর মৌজায় রেলওয়ের তপশীলভুক্ত ১২০০ স্কয়ার ফিটের একখন্ড ভুমি লীজ নিয়ে প্রায় ৫০ বছর ভোগ দখল করছেন লীজ গ্রহণকারী হাবিবুর রহমান হাবিব। এই জায়গার উপর থাকা তার দোকানে কাজ করার জন্য ইট, বালি, রড, সিমেন্ট জড়ো করলে লোক মারফত এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ঈশ্বরদী রেলওয়ে ভুমি অফিসের ১১ নং কাচারীর কানুনগো শরিফুল ইসলাম ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ইন্সপেক্টর সিদ্দিক খান। বরকতপুর মৌজার নন্দনগাছী বাজারে অবস্থিত হাবিবের ভোগদখলীয় জায়গায় হানা দিয়ে দোকানের কাজ বন্ধ করে দেন।
চলে আসার সময় তারা হাবিবকে জানায়, রেলওয়ে ভুমি অফিসের বানিজ্যিক লাইসেন্স না নিয়ে দোকান ঘর তৈরি করা যাবে না। তাই বানিজ্যক লাইসেন্স গ্রহনের জন্য তারা হাবিবকে দ্রুত কানুনগোর সাথে যোগাযোগ করার কথা বলে আসেন।
গত ১ জানুয়ারী-২০২৬ হাবিব ইন্সপেক্টর সিদ্দিক খান যা মোবাইল নাম্বার ০১৭৪৮৯৪৪৩১০ এর মাধ্যমে কানুনগো শরিফুল ইসলামের অফিসে গেলে তাকে জানানো হয় বানিজ্যিক লাইসেন্স নিতে হলে কানুনগোকে তিন লাখ টাকা দিতে হবে। কোন উপায়ান্তর না দেখে হাবিব কানুনগোকে ১ লাখ টাকা ঘুষ দিতে রাজী হন। নগদ ১লাখ টাকা উৎকোচ গ্রহনের পর গত ১৩ জানুয়ারি কানুনগো শরিফুল ইসলাম ১১নং কাচারীর ইসরাফিল হোসেন স্বাক্ষরিত বানিজ্যিক লাইসেন্সের একটি কপি হাবিবকে প্রদান করেন। পরবর্তীতে হাবিব আলাদাভাবে ২৩৫০০/- টাকা সরকারী কোষাগারে জমা প্রদান করেন। যার নম্বর-ল্যান্ড/পাকশী/বানি/রাজস্ব/২০২৪-২৫।
লাইসেন্সের কপি হাবিবের হাতে দেয়ার সময় ঘুষখোর কানুনগো শরিফুল ইসলাম তাকে বলেন, ঘুষ নেয়া আমার জন্য ফরজের মতো হয়ে গেছে। কারন হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন উর্ধতন অনেককে ম্যানেজ করে আমি এখানে টিকে আছি। উর্ধ্বতনদের সাথে লেনদেন ঠিকমতো না করার কারণে বেশ কয়েকবার আমাকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। অনেক তদ্বির ও কাঠখড়ি পুড়িয়ে পুনরায় এখানে এসেছি। হাবিবের কাছে তিনি আরও বলেন,পাবনা জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন এবং ঈশ্বরদী থানাকে প্রতিমাসে বড় অংকের টাকা মাসোহারা হিসেবে দেয়া হয়। এ কারনে ঘুষ নেয়ার জন্য তার কিছুই হবেনা বলে গর্বভরে কথাগুলো প্রকাশ করেন তিনি।
কানুনগো শরিফুলের বাড়ী পাবনা সদরের জালালপুরে। এলাকায় তার সম্পর্কে খোঁজ নিতে গেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি জানান, টাকার দিক থেকে মন্ত্রী এমপির চাইতে কানুনগো শরিফুল ইসলামের কম নেই। অনুসন্ধান করলে শতকোটি টাকার সম্পদের খোঁজ পাওয়া যাবে।
তার মোবাইল নাম্বার ০১৭১২-৪০৬৫১৯।
  কপিরাইট © দূর্নীতির ডায়েরি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন