রাজধানীর মিরপুর-১৩ নম্বরে অবস্থিত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) অফিসে মোটরসাইকেল মালিকানা বদলি শাখার ১১৭ নম্বর কক্ষকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিস সহকারী বেবি রানীর বিরুদ্ধে দালালচক্রের মাধ্যমে ঘুষ বাণিজ্য পরিচালনার অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রাহকরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে গেলে সরাসরি সেবা না দিয়ে তাদের সিফাত, জাকির, সোহেল, কামরুল, সুজন , আরিফদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। ওই ব্যক্তিরা নিজেদের “সহযোগী” পরিচয় দিলেও স্থানীয়দের দাবি, তারা মূলত দালালচক্রের সদস্য। অভিযোগ রয়েছে, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও নানা অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা হয় এবং পরে ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থের বিনিময়ে কাজ সম্পন্ন করা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট কক্ষে বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াত রয়েছে। ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ দাবি করেন, অতীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কয়েকজন দালালকে আটকও করেছিল। তবে পরে তারা আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, অফিস চলাকালীন সময়ে সার্ভার “ডাউন” থাকার অজুহাত দেওয়া হলেও অফিস সময়ের পর রাত পর্যন্ত কিছু কাজ সম্পন্ন করা হয়। এতে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ সেবাগ্রহীতারা। অভিযোগকারীরা বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত না থাকলে দালালদের তৎপরতা বেড়ে যায়।
বেবি রানীর রাজনৈতিক পটভূমি নিয়েও আলোচনা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সাবেক মন্ত্রী শেখ সেলিম-এর ঘনিষ্ঠ মহলের মাধ্যমে চাকরিতে যোগ দেন এবং দীর্ঘদিন একই অফিসে বহাল আছেন। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ আরও আছে যে, বড় কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর ও অনুমোদনের জন্য অফিস সময়ের পর কাগজপত্র নিয়ে তদবির করা হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট অফিস সহকারী বা বিআরটিএ’র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সুশাসন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

দুর্নীতির ডায়েরি ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ