নারায়ণগঞ্জে রোজার ১ম দিন থেকেই তীব্র গ্যাস সংকট, চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ১১:৪৭ অপরাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জে রমজানের প্রথম দিন থেকেই তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে নগরবাসীর। গ্যাস সংকটের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে শিল্পকল কারখানার উৎপাদন।

ব্যবসায়ীরা বলেছেন, কয়েক মাস ধরেই গ্যাসের সরবরাহ চাপ পাচ্ছেন না শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকরা। যে কারণে তাদের কারখানার উৎপাদন অনেক কমে গেছে। বিশেষ করে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের পর থেকে গ্যাসের চাপ একেবারে না থাকায় কারখানা ছুটি দিতে বাধ্য হয়েছে মালিকেরা। এদিকে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কিনে নিয়ে রোজার প্রথম সেহরি খেতে হয়েছে অনেক পরিবারকে। এতে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে তিতাস গ্যাসের গ্রাহকদের মধ্যে। নগরবাসীর দাবি বছরের পর বছর গ্যাসের চাপ না থাকলে নিয়মিত গ্যাসের বিল সরবরাহ করে আসছি।

এদিকে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ বলছেন, মোক্তারপুর-পঞ্চবটি উড়াল সেতুর পিয়ারের নিচে তিতাস গ্যাসের লাইন থাকার কারণে পিয়ার নির্মাণ করতে পারছিল উড়াল সেতু কর্তৃপক্ষ। সে কারণে পিয়ারের নিচ থেকে গ্যাস লাইন সিফট করা হয়েছে। এ কারণে বুধবার দুপুর ২টা থেকে গ্যাসের সরবরাহ শাটডাউন করা হয়। রাত ১০টার মধ্যে লাইন ট্রান্সফার কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজ শেষ হয়েছে রাত ২টায়। এ কারণে অনেক জায়গায় গ্যাসের প্রেসার কিছুটা কম ছিল। রাত ২টায় গ্যাস সরবরাহ চালু করার পর বর্তমানে সব এলাকায় গ্যাসের প্রেসার স্বাভাবিক রয়েছে।

অন্যদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের কলেজ রোড, আমলাপাড়া, দেওভোগ, মাসদাইর, ইসদাইর, বাবুরাইল, পাইকপাড়া, নগর খানপুর, চাষাঢ়া, উত্তরচাষাঢ়া, তল্লা, এনায়েতনগর, পাঠানটুলি, ফতুল্লা, পঞ্চবটি, শাসসগাঁও বিসিক, বাড়ইভোগ, গাইবান্ধা বাজার, নাগবাড়ি, কাশিপুর, বাংলা বাজারসহ প্রায় ২৫টি স্থানে গ্যাস সংকট দেখা গেছে।

শহরের নগরখানপুর এলাকার বাসিন্দা গোলাম রাব্বি জানান, দুপুরের পর থেকে গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করছিলাম গ্যাস আসবে বলে। রাত ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর গ্যাস না পেয়ে সেহরির জন্য হোটেল থেকে খাবার কিনে এনে খেতে হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, গ্যাসের যদি কোনো সংস্কার করার জন্য সরবরাহ বন্ধ করার হয় সেটি তিতাস কর্তৃপক্ষ কেন আগে করল না।

ফতুল্লার বাংলাবাজার এলাকার আফসানা জানান, রাত ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর হোটেলে খাবার কিনতে গিয়ে দেখি খাবার শেষ। এত রাতে কী করব ভেবে পাচ্ছিলাম না। এর পর এক আত্মীয়ের বাসায় গিয়ে ইন্ড্রাকশন চুলায় রান্না করে নিয়ে এসে রোজার প্রথম সেহরি খেতে হয়েছে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ তিতাস গ্যাস মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী রাজিব কুমার গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, পঞ্চবটি উড়াল সেতুর নিচে তিতাস গ্যাসের সরবরাহ পাইপ লাইনের কারণে উড়াল সেতুর পিয়ার নির্মাণ করতে পারছিল না। উড়াল সড়ক কর্তৃপক্ষের আবেদন প্রেক্ষিতে গ্যাস লাইন সিফট করার জন্য বুধবার দুপুর থেকে গ্যাসের সরবরাহ শাট ডাউন করা হয়। রাত ২টার পর আবার সরবরাহ চালু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ও টেলিভিশনের স্কুল দিয়ে গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার কথা জানানো হয়েছে।

  কপিরাইট © দূর্নীতির ডায়েরি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন