বরখাস্তের পর স্বপদে ফিরে আরও বেপরোয়া জনস্বাস্থ্যের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জামানুর

রাহাত সুমন
প্রকাশের সময়: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

র্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ এবং নারী সহকর্মীদের সঙ্গে আপত্তিকর আচরণের অভিযোগে একাধিকবার শাস্তি পেলেও দমে যাননি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ফরিদপুর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. জামানুর রহমান। সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর রহস্যজনকভাবে স্বপদে ফিরে এসে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সূত্রমতে, জামানুর রহমান পাবনা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ব্যাপক অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। পাবনার সুজানগরে ‘আর্সেনিকমুক্ত সুপেয় পানি সরবরাহ ও পানি সরবরাহ ও পয় নিষ্কাশন (পাইপড ওয়াটার এন্ড এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন )’ প্রকল্পের কাজ বাস্তবে না করেই ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে প্রকল্পের অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
মামলার তথ্যমতে, ২০২২ সালের জুলাই মাসে এসব অভিযোগ তদন্তে তার বিরুদ্ধে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে ভুয়া বিল ও অর্থ উত্তোলনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে বরখাস্তের পরও পুনরায় স্বপদে বহাল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
এদিকে মামলার নথি অনুযায়ী, আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি জামানুর রহমানের বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীদের প্রতি অসদাচরণ ও অনৈতিক আচরণের অভিযোগও রয়েছে। ভুক্তভোগীদের মৌখিক ও লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে নারী সহকর্মীদের প্রতি অনৈতিক ইঙ্গিত, হয়রানি, গুরুতর নৈতিক স্খলন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের উল্লেখ পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে রাজশাহীতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়, যার নম্বর ১৪২/২০২৩।
প্রশাসনের একাধিক সূত্র দাবি করেছে, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও প্রভাব খাটিয়ে তিনি পুনরায় দপ্তরে ফিরে আসেন। বর্তমানে ফরিদপুর সার্কেলে দায়িত্ব পালনকালে তার প্রভাব ও দাপট আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া, সংশ্লিষ্ট সূত্র ও আমাদের গোপন প্রতিবেদকদের তথ্য অনুযায়ী, খুলনায় তার সর্বশেষ দায়িত্বকালীন সময়ে তিনজন ভিন্ন নারী কর্মচারীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ফরিদপুর সার্কেলে পদায়িত থাকলেও তিনি খুলনায় অবস্থান করে সংশ্লিষ্ট নারী কর্মচারীদের ওপর অতিরিক্ত সময় ও ব্যক্তিগত বিনোদনমূলক সময় দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতেন। আমাদের প্রতিবেদক দল এসব তথ্য দুইয়ের বেশি স্বতন্ত্র ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে।
সব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য প্রকৌশলী মো. জামানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে এসএমএস পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুল আউয়ালকে ফোন করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে এসব অভিযোগ ও ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ জনগণ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অবিলম্বে অভিযুক্ত দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিবের কাছে জোর দাবি ও আহ্বান জানিয়েছেন।
তাদের মতে, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে এ ধরনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলে তা প্রশাসনের স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার ও সেবার মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণই পারে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে।

  কপিরাইট © দূর্নীতির ডায়েরি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন