নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে পেশাগত দায়িত্ব পালনে যাওয়া সাংবাদিককে হেনস্তা, অসদাচরণ এবং আনসার সদস্য দিয়ে কক্ষে আটকে রাখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত কর্মচারীর নাম ফারুক আহমেদ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. চুন্নু চৌধুরী পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক (ডিডি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগকারী মো. চুন্নু চৌধুরী ‘দৈনিক মুক্ত খবর’ ও ‘সাপ্তাহিক অপরাধচিত্র’ পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত।

লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সাংবাদিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ নভেম্বর ২০২৫, বুধবার আনুমানিক বিকেল ৪টার দিকে পাসপোর্ট অফিসের কিছু অনিয়ম ও অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য উপ-পরিচালক (ডিডি) শামীম আহমেদের দপ্তরে যান সাংবাদিক চুন্নু চৌধুরী। এ সময় ওই কক্ষে কর্মচারী ফারুক আহমেদ দুজন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে প্রবেশ করেন। তখন উপ-পরিচালক ব্যক্তিগত কথা বলার জন্য সাংবাদিককে কক্ষের বাইরে অপেক্ষা করতে অনুরোধ করেন।

কিছুক্ষণ পর ওই ব্যক্তিরা বের হয়ে গেলে সাংবাদিক চুন্নু চৌধুরী পুনরায় ডিডির কক্ষে প্রবেশের অনুমতি চাইলে কর্মচারী ফারুক আহমেদ তার ওপর চড়াও হন। তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে বলেন, ‘স্যার এখন খাচ্ছেন, কথা বলা যাবে না।’ সাংবাদিক তাকে জানান যে ডিডি নিজেই তাকে অপেক্ষা করতে বলেছেন। এতে ফারুক ক্ষিপ্ত হয়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সাংবাদিক যখন বারান্দায় আসেন, তখন ফারুক আহমেদ ও তার সঙ্গে থাকা ওই দুই অপরিচিত ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরেন। ফারুক ওই ব্যক্তিদের ‘ডিসি অফিসের লোক’ বলে পরিচয় দেন এবং সাংবাদিকের পরিচয়পত্র দেখতে চান। পরিচয়পত্র দেখানোর এবং আগমনের কারণ জানানোর পরেও ফারুক অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘আমি কে জানেন?’ একপর্যায়ে ফারুক পাসপোর্ট অফিসে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের ডেকে নির্দেশ দেন, ‘একে রুমে নিয়ে আটকে রাখ, আমি ম্যাজিস্ট্রেট ডাকছি, জেলে দেব।’

ফারুকের নির্দেশে আনসার সদস্যরা সাংবাদিক চুন্নু চৌধুরীকে জোরপূর্বক একটি কক্ষে নিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। কিছুক্ষণ পর এক আনসার সদস্য এসে ম্যাজিস্ট্রেট আসার আগেই তাকে চলে যেতে বলেন। সাংবাদিক তখন জানান, ‘আমি কোনো অন্যায় করিনি, ম্যাজিস্ট্রেট আসুক, তারপর যাব।’ কিন্তু আনসার সদস্যরা তাকে জোরপূর্বক অফিস প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেন।

ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী সাংবাদিক বিষয়টি জানাতে উপ-পরিচালক শামীম আহমেদকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে গত ২৭ নভেম্বর ডাকযোগে উপ-পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন ভুক্তভোগী। সাংবাদিক চুন্নু চৌধুরী জানান, একজন গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে সরকারি দপ্তরে এমন আচরণ নজিরবিহীন। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে পরবর্তীতে আইনি ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’