ঝিনাইদহ সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সদ্য যোগদানকৃত সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজনীন সুলতানার নাম ভাঙ্গিয়ে সার্ভেয়ার-ইখতিয়ার উদ্দিন, নাজির-দিলীপ কুমার বৈদ্য, জারিকারক-মনসুর আহামেদ, সার্টিফিকেট সহকারী-মো: নূরুন্নবী, কম্পিউটার অপারেটর-পঙ্কজ কুমার ঘোষ মিলে সিন্ডিকেট তৈরি করে করছে রমরমা ঘুষবাণিজ্য ও দুর্নীতি।
জমির জালজালিয়াত চক্রের সঙ্গে তাদের সখ্য রয়েছে। নামজারি ও মিস কেসের নামে তাদের ঘুষবাণিজ্য রমরমা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলা অফিসের সার্ভেয়ার/নাজির সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে জিম্মি সেবাগ্রহীতারা। মোটা অঙ্কের ঘুষ ছাড়া সেবা মিলে না। এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভূমি অফিসের সামনে মানববন্ধন ও আন্দোলনের হুশিয়ারিও দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ১৭ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা সহ মোট ১৮টি ভূমি অফিস রয়েছে।। এসব অফিস ঘুষ, দুর্নীতি আর অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। নামজারির আবেদন থেকে শুরু করে নামজারির প্রস্তাব, সার্ভে রিপোর্ট, ডিসিআর সংগ্রহসহ কোনো সেবাই ঘুষ ছাড়া মিলে না। এসিল্যান্ডের ঘুষের সাংকেতিক চিহ্ন ‘এলআর’।
সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভূমি সংশ্লিষ্ট সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নাজির-দিলীপ কুমার বৈদ্যর মাধ্যমে সিন্ডিকেটের নিজস্ব নিয়মে চলছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা ভূমি অফিস। তাদের অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতায় জিম্মি হয়ে পড়েছেন জমি মালিক ও অংশীদারসহ সেবাগ্রহীতারা। কেউ এসিল্যান্ডের ঘুষের টাকা দিতে অস্বীকার জানালে তার নামজারি নথি ও মিস কেসের ফাইল আটকে রাখা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার জমির অবস্থান কোথায় সেই হারে এসিল্যান্ড ও নাজিরের ঘুষের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। সেবাগ্রহীতারা নির্ধারিত হারের টাকা না দিলেই ফাইল আটকে মাসের পর মাস ঘোরাতে থাকে। একপর্যায়ে জমির প্রকৃত মালিকের নামে নামজারি না করে ঘুষের বিনিময়ে জালিয়াত চক্রের দায়ের করা মিস কেসের পক্ষে রায় দেওয়া হয়।
অন্যদিকে অবৈধ দখল দেওয়া প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে জমির প্রকৃত মালিক মিস কেস করে ঘুষ না দিলেই পড়েন মহাবিপদে। ঘুষের নির্ধারিত টাকার কম দিলেও ভুক্তভোগীদের চার-পাঁচ বছর এসিল্যান্ড অফিসের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়।
কুমড়াবারিয়া এলাকার এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমি ২০০৯ সালে কুমড়াবারিয়া মৌজায় জমির প্রকৃত মালিকের কাছ থেকে ৯ শতাংশ জমি ক্রয় করি। জমি ক্রয়ের পরই নিজ নামে নামজারি করে খাজনা পরিশোধ করে আসছি। বর্তমানে আমি ভোগদখলেও আছি। এদিকে গত এপ্রিল মাসে আমার জমির বিরুদ্ধে মিস কেস করে একটি কুচক্রী মহল। পরে সব কাগজপত্র যাচাই করে এসিল্যান্ড ওই মামলা বাতিল ঘোষণা করেন গত জুলাই মাসে । পরে গত ২২ শে আগস্ট একই বাদীর মাধ্যমে নাজির-দিলীপ কুমার বৈদ্যর যোগসাজশে তৎকালীন এসিল্যান্ড আবারও একই বিবাদীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। অথচ এসিল্যান্ডের বাতিল করা মামলা কোনোভাবেই একই বাদী দ্বিতীয়বার একই বিবাদীর বিরুদ্ধে করার সুযোগ নেই। কিন্তু মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে নাজির-দিলীপ কুমার বৈদ্য ও সার্ভেয়ার-ইখতিয়ার উদ্দিনের তদবিরে দ্বিতীয়বার মামলা নিয়েছেন এসিল্যান্ড।’
সরেজমিন দেখা য়ায়, ঝিনাইদহ সদর উপজেলা ভূমি অফিসের প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই নামজারি সম্পর্কিত তথ্যবহুল বড় বড় ব্যানার ও লিফলেটে লেখা আছে, আবেদনের জন্য কোর্ট ফি ২০ টাকা, নোটিস জারি ফি ৫০ টাকা, রেকর্ড সংশোধন বা হালকরণ ফি ১০০০ টাকা ও প্রতি কপি মিউটেশন খতিয়ান ফি ১০০ টাকা। সব মিলিয়ে ১১৭০ টাকা। কিন্তু ব্যানার বা লিফলেটে দেওয়া নির্দেশাবলি ব্যানার পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে।
প্রতিটি ডিসিআরের জন্য নেওয়া হচ্ছে সর্বনিম্ন ১ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। অভিযুক্ত কর্মকর্তা প্রতি পর্চা ও ডিসিআর স্বাক্ষরে নিচ্ছেন ২০০ টাকা। এসব ঘুষের টাকা আদায় করছেন এসিল্যান্ডের অধীনস্থ কর্মচারীদের মাধ্যমে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অফিস সহকারী বলেন, ‘আমরা অনিয়ম করতে না চাইলেও এ কাজে আমাদের বাধ্য করেন এসিল্যান্ড। তাছাড়া টাকার লোভ কি সামাল দেওয়া যায়।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কম্পিউটার অপারেটর পঙ্কজ কুমার ঘোষ বলেন ” আমি অন্যদের বিষয়ে বলতে পারবো না তবে আমার বিষয়ে যা লেখা হয়েছে পুরোটা মিথ্যা, আমাদের অফিসে কোনো ঘুষ লেনদেন হয়না
এ বিষয়ে জানতে বাকি অভিযুক্তদের সরকারি মোবাইলে একাধিক বার কল দিলেও কেউ কল রিসিভ করেননি ।