দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনস্থ ঢাকা জেলার সাভার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর শামসুল ইসলাম । যিনি এই সরকারী প্রতিষ্ঠানের একজন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর দায়িত্বে কর্মরত অবস্থায় নিয়মবর্হিভূত অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে কোটি টাকার মালিক হন। বিভিন্নভাবে অনৈতিক কাজ করিয়ে দেওয়া ও অন্যায় কাজকে ন্যায়ভাবে করানোর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে। যা তার চাকরির বেতনের সাথে ব্যাপক অসঙ্গতি রয়েছে।এই দুর্নীতিবাজ কর্মচারী চাকরী জীবনের শুরু থেকেই ঘুষ ও দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। সরকারি অফিসে অনিয়মে অর্জিত টাকায় নামে বেনামে গড়ে তুলেছেন স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির পাহাড়।
বিগত অর্থ বৎসরে স্থানীয় সাংসদ বরাদ্দ দেয় উপজেলার বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। আর এসব প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প কমিটির সভাপতির নিকট থেকে প্রতি টনের বিপরীতে অফিস খরচের কথা বলে শামসুল ইসলাম পিআইওর কাছ থেকে ডিও প্রদানের সময় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ আদায় করেছেন।
অনুসন্ধানে আর জানা যায়, শামসুল ইসলাম ২০২৩ সালের ২৯শে জানুয়ারি সাভার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে যোগদান করে । এরপর থেকেই আওয়ামীলীগের সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান এনাম ও সাভারের ত্রাস সাভার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রাজিবের ছত্রছায়ায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে বিল উত্তোলন, উপকারভোগীদের নাম পরিবর্তন করে আত্মীয়-স্বজনকে অন্তর্ভুক্ত করা, এমনকি প্রকল্প অনুমোদনের বিনিময়ে ঘুষ আদায় করার মতো গুরুতর অনিয়ম শুরু করেন । এ ছাড়াও ঠিকাদারদের সাথে আঁতাত করে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করে হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল পরিমান সরকারি অর্থ।
অভিযোগ রয়েছে, বেশ কিছু গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ না করেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার যোগসাযোগে নির্ধারিত কমিশনের বিনিময়ে প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ তুলে নেন। মাঠে কাজের কোনো বাস্তবতা নেই, অথচ কাগজে-কলমে তা সম্পন্ন দেখিয়ে বিল পাশ করিয়ে নেন ।
স্থানীয় কয়েকজন ক্ষুদ্র ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘুষ না দিলে কোনো কাজ হাতে পান না। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত কমিশনের বিনিময়ে তিনি অযোগ্য ঠিকাদারদের কাছেও কাজ পাইয়ে দিয়েছেন।
অনিয়ম সম্পর্কে প্রশ্ন করলে শামসুল ইসলামের পক্ষ থেকে সাধারণ নাগরিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, তিনি আওয়ামীলীগের সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান এনামের ছত্রছায়ায় কোটি কোটি টাকা ইনকাম করে এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিএনপির কিছু নেতার সাথে ‘উপরে যোগাযোগ আছে’ বলে ভয় দেখিয়ে থাকেন।
ধামসনা ইউনিয়নের কয়েকজন ইউপি সদস্য বলেন, পিআইওর নাম করে অফিস সহকারী শামসুল ইসলাম কাবিখা কাবিটা, টি,আর এর ডিও ছাড় করার সময় রীতিমত আমাদের কাছ থেকে অফিস খরচের কথা বলে ২৫% থেকে ৩০% হারে টাকা অফিস খরচ নিচ্ছেন। আর তার দাবিকৃত টাকা দিতে না পারলে প্রকল্পের ডিও নেওয়ার সময় নানাভাবে হয়রানী করে থাকে। তাই তার দাবিকৃত টাকা বাধ্য হয়েই পরিশোধ করতে হয় বলে এ ইউপি সদস্যবৃন্দ জানিয়েছেন। “এভাবে চলতে থাকলে প্রকল্পের কোনো সঠিক বাস্তবায়ন হবে না। সরকারি অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।” জনগণের অর্থে পরিচালিত সরকারি প্রকল্পে এমন দুর্নীতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এবং স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সাভার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর শামসুল ইসলামের বিরুদ্ধে শুধু অনিয়ম-দুর্নীতিই নয়, অস্বাভাবিক হারে সম্পদ বৃদ্ধির অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, একজন সরকারী নিম্নপদস্থ কর্মচারী হিসেবে সীমিত বেতনের চাকরিতে থেকেও শামসুল কয়েক বছরের মধ্যে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন।
জানা গেছে, তিনি সাভার রেডিও কলোনি ও আশপাশের এলাকায় একাধিক জমি, আলিশান বাড়ি এবং একটি নতুন মডেলের ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক হয়েছেন। এছাড়া, তার নামে বেনামে বেশ কয়েক জমি রেজিস্ট্রি রয়েছে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে। অনেকে দাবি করেছেন, তার নামে ব্যাংকে মোটা অংকের সঞ্চয় রয়েছে এবং কিছু সম্পত্তি ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের নামে রেখেছেন যাতে তদন্তের চোখ এড়িয়ে যেতে পারেন।
এইসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে শামসুল ইসলামের ০১৭১১-০১——৮৮ নাম্বারে বেশ কয়েকবার কল দেওয়া হলেও তিনি কলটি রিসিভ করেননি।