জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অভিযোগ করে বলেছেন নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘সারাদেশে টাকা উদ্ধার অভিযানের নামে অনেককে হয়রানি করা হচ্ছে।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

তিনি দাবি করেন, মাত্র ২০ হাজার টাকা বহনের অভিযোগে জামায়াতের এক নেতাকে আটক ও হেনস্তা করা হয়েছে এবং তার কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে—এমন ভিডিও তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন। গত ১৭ মাসে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবারও টাকা উদ্ধারের নামে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।

তিনি আরও বলেন, কোনো এক নেতার বাসা থেকে সাত লাখ টাকা ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধারের সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। ‘বাসায় ল্যাপটপ থাকা কি অপরাধ?’—এ প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন, পক্ষপাতদুষ্ট স্থানীয় প্রশাসন ও কিছু স্থানীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে একটি ‘নাটক মঞ্চায়ন’ করা হচ্ছে।

আরপিও ও নির্বাচন সংক্রান্ত আইন-বিধির অপপ্রয়োগ ও অপব্যাখ্যার মাধ্যমে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও প্রার্থীদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘ফ্রেমিং’ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন এনসিপির এ নেতা। তিনি বলেন, অনেকের বাসায় বেতন বা সঞ্চয়ের টাকা থাকতে পারে। আমি যদি ১০ হাজার টাকা পকেটে নিয়ে চলি, আর সেটাকে অবৈধ বলা হয়—তাহলে সেটি স্পষ্টতই হয়রানি- বলেন তিনি। ভুল তথ্য ছড়িয়ে এক ধরনের নেতিবাচক বয়ান তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন আসিফ মাহমুদ।

তবে ভোট কেনার উদ্দেশ্যে অর্থ বিতরণের ঘটনা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বলেন, যে দলের প্রার্থীই হোক, অর্থ দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করলে নির্বাচন কমিশনের নিয়োজিত ম্যাজিস্ট্রেটরা যেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেন—এটাই আমাদের দাবি। একই সঙ্গে অর্থ বহন বা বাসায় অর্থ রাখার মতো বিষয়কে অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন না করে প্রশাসনকে আরও নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় দেশব্যাপী যৌথ বাহিনীর অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রমের প্রশংসাও করেন তিনি।সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন। এ সময় দলের যুগ্ম সদস্য সচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, লুৎফর রহমান ও অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।