ঘুষ গ্রহণ ও মামলা বাণিজ্য, থানার ভেতর বিশ্রমাগার তৈরি, আন্দোলনে হামলা ও হত্যার ঘটনার মামলায় এজাহারভুক্ত কোনও আসামিকে আটক করতে না পারা ও ৫ আগস্টের আগে কক্সবাজারের আওয়ামী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাসহ নানান অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর কক্সবাজার সদর মডেল থানা থেকে প্রত্যাহার করে চট্টগ্রাম রেঞ্জে সংযুক্ত হওয়া দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মাদ ফয়জুল আজীমের বিরুদ্ধে জামায়াত নেতাকর্মীদের হয়রানির অভিযোগ তুলেছে ফেনী-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক ।
ফেনীর দাগনভূঞায় জামায়াতের কর্মী বাড়িতে ব্যালট পেপার রয়েছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পুলিশ। পরবর্তীতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ওসির বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে তার প্রত্যাহারের দাবিতে থানায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে জামায়াতের প্রার্থীসহ নেতাকর্মীরা।মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফেনী-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিকের নেতৃত্বে থানায় অবস্থান নেন সমর্থকরা।পরবর্তীতে জামায়াত প্রার্থীর দাবির প্রেক্ষিতে দাগনভূঞা থানা এলাকায় দায়িত্ব পালনের জন্য বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) চাঁদপুর থেকে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দায়িত্ব নেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দাগনভূঞা আতাতুর্ক স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও জামায়াতের কর্মী মাস্টার আবদুর রহিমের বাড়িতে ব্যালট পেপার রয়েছে এমন একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। পরবর্তী অভিযানে এমন কোনো কিছু না পাওয়ায় স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে উঠেন। একপর্যায়ে পুলিশি তল্লাশির নামে জামায়াত নেতাকর্মীদের হয়রানির অভিযোগ তুলে ফেনী-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য মেজবাহ উদ্দিন সাঈদের নেতৃত্বে উত্তেজিত নেতাকর্মীরা থানা প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন। এ সময় তারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মাদ ফয়জুল আজীম ও উপপরিদর্শক (এসআই) বলরামকে প্রত্যাহারের দাবি জানান।
জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নান বলেন, দাগনভূঞা থানার ওসি বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও জামায়াতের ভোট নষ্ট করতে অপতৎপরতা শুরু করেছে। এই ওসি লক্ষ্মীপুরের বিএনপি প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সঙ্গেও গোপনে বৈঠক করেছেন। এমনকি ফেনীতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এলে তার সঙ্গেও দেখা করেছেন। নির্বাচনী মাঠে এমন পক্ষপাতমূলক আচরণ ও হয়রানি করায় আমরা তার প্রত্যাহারের জন্য ইতোমধ্যে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছেও দাবি জানিয়েছি।
এবিষয়ে জানতে দাগনভূঞা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেনকে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (সোনাগাজী ও দাগনভূঞা সার্কেল) সৈয়দ মুমিদ রায়হান বলেন, অভিযানে অভিযোগের কোনো সত্যতা মেলেনি। যে তথ্যটি এসেছিল সেটি ভুল। এজন্য পুলিশের ওপর আপনারা মনঃক্ষুণ্ন হলে আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। নির্বাচনী মাঠে পক্ষপাতিত্ব নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে তারই পরিপ্রেক্ষিতে দাগনভূঞা থানা এলাকায় দায়িত্ব পালনের জন্য বুধবার চাঁদপুর থেকে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসেন। সবার সহযোগিতায় আশা করছি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পারব।