আজ পবিত্র রমজানের প্রথম দিন। গতকাল বুধবার বাংলাদেশের আকাশে চাঁদ দেখা গিয়েছে। সুস্বাগতম মাহে রমজান। হিজরি সনের নবম মাস পবিত্র রমজানের শুভ সূচনায় সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা।
আজ বৃহস্পতিবার থেকে বাংলাদেশসহ এশিয়ার বেশিরভাগ দেশের মুসলিমরা রোজা রেখেছেন। অসীম রহমত ও কল্যাণের সওগাত নিয়ে আত্মশুদ্ধি আর আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাস রমজান আমাদের মধ্যে উপস্থিত।
পবিত্র আল-কোরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা মাহে রমজানে সিয়াম সাধনাকে ‘তাকওয়া অর্জনের জন্য’ ফরজ বা অবশ্য পালনীয় করে বিধান নাজিল করেন। ‘পূর্ববর্তী সম্প্রদায়গুলোর জন্যও একই বিধান ছিল’ বলে আল-কোরআনে উল্লেখ করা হয়।অর্থাৎ রোজা রাখা শুধু কোরআনের বিধান ঘোষিত হওয়ার পর থেকে প্রবর্তিত হয়নি। আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহভীতি অর্জনের জন্য পূর্ববর্তী নবী-রাসুলদের উম্মতের জন্যও রোজার বিধান ছিল।
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ, তথা অবশ্য পালনীয় বিধানের মধ্যে পবিত্র রমজানে রোজা পালন অন্যতম। কেননা মাহে রমজানেই ‘হুদাল্লিন নাস’ (মানুষের জন্য হেদায়াত) ‘বায়্যিনাতিম-মিনাল হুদা’ (সৎ পথযাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথনির্দেশ) এবং ‘ফুরকান’ (ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য নির্দেশকারী) হিসেবে আল-কোরআন অবতীর্ণ হয়।
মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে মহিমান্বিত মাহে রমজানের মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘রমজান এমন একটি মাস, যে মাসে কোরআন মজিদ নাজিল করা হয়’ (সুরা বাকারা: ১৮৫)। এর পরের আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে- ‘কাজেই তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন অবশ্যই এ রোজা পালন করে।’
তবে মাহে রমজানে রোজা পালনের আবশ্যিক এ বিধানে অসুস্থ ও মুসাফিরদের জন্য শিথিল করে দিয়ে বলা হয়েছে-‘অন্য সময়ে সে রোজা পূরণ করে নিতে হবে। আল্লাহ তায়ালা সিয়াম সাধনার এ সুযোগ তার প্রিয় বান্দাদের জন্য ‘সহজ করতে চান’, তিনি বান্দার জন্য কোনো জটিলতা চান না।
সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব আল-কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার গৌরবে দীপ্ত ও তাৎপর্যমণ্ডিত এ মাহে রমজান। এ মাসে রোজা পালন আল্লাহ তায়ালার তরফ থেকে এক বিশেষ নির্দেশ। কেননা এ রোজা পালনের মধ্যে রয়েছে-‘অধিকতর কল্যাণ।’ (সুরা বাকারা : ১৮৪)। আত্মিক, শারীরিক, মানসিক ও সর্বোপরি সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিতকারী এমন কল্যাণপ্রদ ইবাদত আর নেই।
শুধু আল-কোরআন নয়, অন্যান্য আসমানি কিতাবসমূহও মাহে রমজানে অবতীর্ণ হয়েছিল। ওয়াসেলাহ ইবনে আসকা (রা.) বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ আছে, রাসুলে করিম (সা.) বলেন, ‘ইবরাহীম (আ.)-এর সহিফাসমূহ রমজান মাসের প্রথম রাতে নাজিল হয়। মুসা (আ.)-এর প্রতি তাওরাত রমজান মাসের ৬ তারিখ রাতে, ঈসা (আ.)-এর প্রতি ইনজিল রমজানের ১৩ তারিখে নাজিল হয়।
আর মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি আল-কোরআন রমজানের ২৪ তারিখে নাজিল করা হয় (মুসনাদে আহমদ)। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত অপর হাদিসে উল্লেখ আছে, হজরত দাউদ (আ.)-এর ওপর যাবুর ১২ রমজানে নাজিল হয়।
পবিত্র মাহে রমজানে রোজা পালনের অতীব তাৎপর্য নির্দেশিত হয়েছে ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল বোখারী (রহ.) সংকলিত এবং আবু হোরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে। এতে বর্ণিত হয়- নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘রোজা (যাবতীয় অপকর্ম আর পাপাচার থেকে শরীর ও মনের) ঢালস্বরূপ।’ তাই রোজাদার ব্যক্তি অশ্লীল কথা বলবে না বা জাহেলি আচরণ করবে না।
কেউ তার সঙ্গে ঝগড়া করতে উদ্যত হলে বা গালমন্দ করলে সে বলবে, ‘আমি রোজা রেখেছি’। কথাটি দুবার বলবে। যার মুষ্টিতে আমার প্রাণ, সে আল্লাহর শপথ! রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহ তায়ালার কাছে মেশকের সুগন্ধ অপেক্ষাও উৎকৃষ্ট। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমার উদ্দেশ্যেই পানাহার ও লোভনীয় বস্তু পরিত্যাগ করা হয়। তাই রোজার পুরস্কার বিশেষভাবে আমিই (আল্লাহ) দান করব আর নেক কাজের পুরস্কার দশ গুণ পর্যন্ত দেওয়া হয়ে থাকে।’