দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের কাছে হারার পরই কার্যত চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ‘সুপার এইটে’ পৌঁছানোর স্বপ্ন শেষ হয়ে গিয়েছিল আফগানিস্তানের। ফলে শেষ ম্যাচে কানাডার বিপক্ষে দলটির ম্যাচ ছিল শুধুই নিয়ম রক্ষার। আর নিয়ম রক্ষার এই ম্যাচে আফগানরা জিতল রেকর্ড গড়ে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) চেন্নাইতে কানাডার মুখোমুখি হয় আফগানিস্তান। যেখানে ৮৩ রানের বড় জয় পায় রশিদ খানের দল।
‘সুপার এইটে’ টিকিট কাটতে না পারার সব রাগ যেন এদিন কানাডার ওপর ঝেড়েছে আফগানিস্তান। আগে ব্যাট করতে নেমে ২২ গজে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন ওপেনার ইব্রাহিম জাদরান।
টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা আফগানিস্তান ৪৯ রানে দুই উইকেট হারানোর পর বড় সংগ্রহের দিকে ছুটে। ষষ্ঠ ওভারে রহমানুল্লাহ গুরবাজ ও গুলবাদিন নাইবকে ফেরান জাসকারান সিং।
এরপর সেদিকুল্লাহ আতালকে নিয়ে রান উৎসবে মাতেন জাদরান। ৩৩ বলে ফিফটি করেন জাদরান। তৃতীয় উইকেটে তাদের ৫৯ বলে ৯৫ রানের দারুণ জুটিতে ছেদ ঘটে সিংয়ের তৃতীয় শিকার হওয়া আতাল আউট হলে। ডেসিংরুমের পথ ধরার আগে ৩২ বলে ৪৪ করেন বাঁহাতি ব্যাটার।
শেষ ৪ ওভারে আফগানিস্তান স্কোরবোর্ডে যোগ করে ৫৪ রান। শেষ ওভারে দুইশো রানের জন্য তাদের লাগতো ১৫ আর জাদরানের সেঞ্চুরির জন্য ১৪ রান। দলের সংগ্রহ ২০০ হলেও শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরির স্বাদ পাওয়া হয়নি ২৪ বছর বয়সী ডানহাতি ব্যাটারের।
এটি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আফগান সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এর আগে শারজাহতে ২০২১ সালে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে করা ১৯০ রান ছিল তাদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।
আফগানিস্তানের দেওয়া বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ধুকতে থাকে কানাডা। ৪৮ রানেই পাঁচ উইকেট হারানোর পর ১০০ রানের আগেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় ছিল তারা। তবে ষষ্ঠ উইকেটে হার্শ থাকের ও সাদ বিন জাফরের ৫৩ রানের জুটিতে মান রক্ষা হয় কানাডার। দলীয় ১০১ রানে এই প্রতিরোধ ভাঙার পর বাকি উইকেট সহজেই তুলে নেয় আফগান বোলাররা। কানাডার হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন ২৪ বলে ৩০ করা হার্শ।
বল হাতে মোহাম্মদ নবী চার উইকেট নিয়েছেন এই অলরাউন্ডার। এছাড়া রশিদ খানের শিকার দুটি।