বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র সাকিব আল হাসান। তবে রাজনৈতিক কারণে প্রায় দেড় বছর জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন তিনি। দীর্ঘ আলোচনা-সমালোচনা আর নাটকীয়তার পর অবশেষে তাকে দেশে ফেরাতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাসংক্রান্ত নথিপত্র সরকারের কাছে পাঠিয়েছে সংস্থাটি। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এক শীর্ষ বিসিবি কর্মকর্তা বিষয়টি ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে নিশ্চিত করেছেন।
সাকিব আল হাসান ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশে ফেরেননি। পরবর্তীতে তিনি বিভিন্ন মামলায় জড়িত হন, যার মধ্যে একটি হত্যা মামলাও রয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ইঙ্গিত দেন, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বিষয়গুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে যাতে সাকিব আল হাসান এবং সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা আবারও জাতীয় ক্রিকেটে যুক্ত হতে পারেন।
প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্যের পর সাকিব আল হাসানের আইনজীবীরা সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর নথি প্রস্তুত করে সরকারে পাঠান। এটি তার দেশে ফেরা এবং ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের পথ সুগম করবে।সাকিব আল হাসান সর্বশেষ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ২০২৪ সালের শেষদিকে ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টে। এরপর থেকে তিনি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ব্যস্ত থাকলেও দেশের হয়ে আর মাঠে নামেননি। তবে সম্প্রতি পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজকে সামনে রেখে তাকে ফেরানোর বিষয়ে বিসিবি আগ্রহ দেখিয়েছে।
ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও প্রকাশ্যে সাকিব আল হাসানের দলে ফেরার আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘সাকিব ভাইয়ের সঙ্গে আবার খেলতে পারলে অবশ্যই ভালো লাগবে। অনেক বছর একসঙ্গে খেলেছি। যদি তিনি খেলেন, সেটা আমাদের জন্য আনন্দের হবে।’
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা নিশ্চিত করেছে। এবার মূল লক্ষ্য ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ, যেখানে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের সেরা নয় দলের মধ্যে অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ অবস্থান করছে দশম স্থানে।
ডেডলাইনের আগে দেশের সামনে রয়েছে ২০ থেকে ২৩টি ওয়ানডে। মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে শুরু হবে। এরপর ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে। বাইরে সফর রয়েছে আয়ারল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।
পরিসংখ্যানও সাকিব আল হাসানের প্রত্যাবর্তনের প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করছে। তার দেশের বাইরে থাকা সময়ে বাংলাদেশ ২৫টি ওয়ানডে খেলেছে, যার মধ্যে মাত্র ৭টি জয় এসেছে, ১৭টি হার এবং একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে।