খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২২ মাঘ, ১৪৩২

বহুবিবাহ, প্রতারণা ও ভয় দেখানো মামলা, চিৎলার ফাল্গুনী ওরফে সেতুর রাজত্ব শেষের পথে! দামুড়হুদার সেতুর বিরুদ্ধে অভিযোগের ঝড় তুলেছে গ্রামবাসীঃ অবশেষে বিচারের দাবিতে গ্রামবাসীর গণপিটিশন দাখিল

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:০২ অপরাহ্ণ
বহুবিবাহ, প্রতারণা ও ভয় দেখানো মামলা, চিৎলার ফাল্গুনী ওরফে সেতুর রাজত্ব শেষের পথে! দামুড়হুদার সেতুর বিরুদ্ধে অভিযোগের ঝড় তুলেছে গ্রামবাসীঃ অবশেষে বিচারের দাবিতে গ্রামবাসীর গণপিটিশন দাখিল

চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার চিৎলা (নতুনপাড়া) গ্রামে মোছাঃ ফাল্গুনী বিশ্বাস ওরফে সেতু খাতুন (৩০) নামে এক নারীর বিরুদ্ধে প্রতারণা, বহুবিবাহ ও সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো গ্রাম। ওই নারীর দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে গ্রামবাসী অবশেষে দেড় শতাধিক স্বাক্ষরসহ গণপিটিশন দাখিল করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র বরাবর।

গতকাল রবিবার বেলা ১১টার দিকে চিৎলা গ্রামের শতাধিক নারী-পুরুষ উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই গণপিটিশন জমা দেন। এতে তারা ফাল্গুনী বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

দীর্ঘদিনের প্রতারণার অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, মৃত আব্দুর রাজ্জাকের কন্যা ফাল্গুনী বিশ্বাস প্রায় এক দশক ধরে চতুরতার সঙ্গে বিভিন্ন পুরুষকে প্রেম ও বিয়ের ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায় করছেন। একেকজনকে বিয়ে করার পর কিছুদিন সংসার করে তিনি দেনমোহর, খোরপোশ ও বিভিন্ন অজুহাতে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে সংসার ভেঙে দেন। তারপর আবার নতুন শিকার খুঁজে বের করেন।

গণপিটিশনে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত অন্তত ১০-১১ জন পুরুষের সঙ্গে ফাল্গুনী বিশ্বাসের বিয়ে বা সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অনেকে তার হাতে প্রতারিত হয়ে নিঃস্ব হয়েছেন, কেউ কেউ লজ্জা ও মান-সম্মানের ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারেননি।

প্রতিবাদ করলেই মিথ্যা মামলা

চিৎলার কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি জানান, কেউ যদি তার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করে, অথবা বোঝানোর চেষ্টা করে, ফাল্গুনী তখনই নারী নির্যাতন বা শ্লীলতাহানির অভিযোগে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
ফলস্বরূপ, গত কয়েক বছরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন নিরীহ মানুষ পুলিশের হয়রানির শিকার হয়েছেন। অনেকে এখনো এসব মামলায় আদালতের চক্রে ভুগছেন।

গ্রামবাসীর ক্ষোভ

চিৎলা গ্রামের গন্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতা, নারী ও তরুণ সমাজ একত্রিত হয়ে সম্প্রতি গণপিটিশন তৈরি করেন।
এতে স্বাক্ষর করেন দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলী, ঐ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মতিয়ার রহমান, এবং আরও অনেকে।

গ্রামবাসীর অভিযোগ—ফাল্গুনীর এমন আচরণের কারণে এলাকার সামাজিক বন্ধন নষ্ট হচ্ছে। পারিবারিক শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে, তরুণ সমাজ বিভ্রান্ত হচ্ছে, এবং গ্রামের নারী সমাজও চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছে।

এক প্রবীণ নাগরিক বলেন,

“এই নারী গ্রামে বিষের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। একের পর এক মানুষকে ফাঁদে ফেলছে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে গ্রামের শান্তি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।”

প্রশাসনের দ্বারস্থ গ্রামবাসী

গ্রামবাসীর প্রতিনিধি দল গণপিটিশন জমা দিয়ে ইউএনও তিথি মিত্রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং অভিযোগের তদন্ত চেয়ে লিখিত অনুরোধ জানান।
ইউএনও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

এর আগেও ফাল্গুনী বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একটি গণপিটিশন দামুড়হুদা মডেল থানায় জমা দেওয়া হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় গ্রামবাসীর ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

সচেতন মহলের মত

সচেতন মহল বলছে, বহুবিবাহ ও প্রতারণার মতো অপরাধ সমাজে অনৈতিকতা বাড়ায় এবং নিরীহ মানুষকে বিপদে ফেলে। তাই প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যেন কেউ আর ফাল্গুনীর মতো প্রতারক ব্যক্তির ফাঁদে না পড়ে।

চিৎলা গ্রামের সর্বত্র এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—

“ফাল্গুনীর বিচার কবে হবে?”

প্রসঙ্গত: চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার চিৎলা ইউনিয়নের নতুনপাড়া গ্রামটি একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এখানে প্রায় দুই হাজার মানুষের বসবাস। ওই নারীর কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হযরত আলী বলেন গণ পিটিশনে আমি সাইন করেছি এবং ঘটনা সম্পর্কে অবগত আছি। সামাজিক অবক্ষয় রোধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জুরুরি বলে মনে করি।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির বলেন, বর্তমানে উপজেলার চিৎলা গ্রামে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সচেতন মহল মনে করছে, সমাজের ভারসাম্য রক্ষা ও নিরীহ মানুষের সুরক্ষার স্বার্থে এমন প্রতারক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী।

এ ঘটনায় দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন কবীর মুঠোফোনে বলেন এ বিষয়ে এখনো কেউ কোন অভিযোগ করেনি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র বলেন এ বিষয়ে গণ পিটিশন আকারে একটা অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত স্বাপেক্ষে কী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় সে ব্যাপারে পরবর্তীতে জানানো হবে।

উল্লাপাড়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় অভিযুক্ত যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুসের জামায়াতে যোগদান

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
   
উল্লাপাড়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় অভিযুক্ত যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুসের জামায়াতে যোগদান

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত পলাতক ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আরও প্রায় ৩০ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক জামায়াতে যোগদেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের বাগমারা বাজারে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সমাবেশে এই যোগদান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁন। তিনি নবাগতদের ফুলের মালা দিয়ে দলে বরণ করেন।

দলে যোগদানকারীদের মধ্যে উধুনিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস উল্লেখযোগ্য। তিনি উধুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল জলিলের ছেলে বলে জানা গেছে।জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী আব্দুল মালেক শান্ত অভিযোগ করে বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী উধুনিয়া ইউনিয়নের ১৬ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনায় আব্দুল কুদ্দুসের সম্পৃক্ততা ছিল এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হয়। তিনি আরো অভিযোগ করেন ৩ আগষ্ট উল্লাপাড়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মী হামলা করে এদের সাথে আব্দুল কুদ্দুস ও ছিলে। তার অভিযোগ, গ্রেপ্তার এড়াতে আব্দুল কুদ্দুস ও তার অনুসারীরা জামায়াতে যোগ দিয়েছেন।তবে উধুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির আব্দুল আলীম বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আব্দুল কুদ্দুস জামায়াতে ইসলামীর সদস্যপদের ফরম পূরণ করেন। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি দলে যোগ দেন। তিনি জানান, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ থেকে ৩ জন এবং বিএনপি থেকে ৪৭ জনসহ মোট প্রায় ৫০ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক এদিন জামায়াতে যোগদান করেছেন।

জয়ী হলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ হবে না বিএনপির এই দুই প্রার্থীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
   
জয়ী হলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ হবে না বিএনপির এই দুই প্রার্থীর

নির্বাচনে জিতলেও বিএনপি মনোনীত দুই প্রার্থীর আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফল স্থগিত থাকবে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।

তাঁরা হলেন চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী আসলাম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তাঁরা নির্বাচন করতে পারবেন, তবে বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে পৃথক আপিল করেছিল জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রাখে।ইসির সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক পৃথক রিট করলে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেন।

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক আপিল বিভাগে আবেদন করে। আনোয়ার সিদ্দিকীর করা লিভ টু আপিল ও ব্যাংকের করা আবেদনের ওপর গত সোমবার শুনানি হয়। পরে গতকাল লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আদেশে বলা হয়, আসলাম চৌধুরী বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

এদিকে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছিলেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে। প্রার্থিতা ফিরে পেতে সরোয়ার আলমগীর রিট করলে হাইকোর্ট ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত করে মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন নুরুল আমিন।

আপিল বিভাগ গতকাল লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) মঞ্জুর করেন। আদেশে বলা হয়, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন সরোয়ার আলমগীর, তবে তিনি বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

বাংলাদেশ বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুরের বাসার নির্যাতিত গৃহকর্মী মোহনাকে হাসপাতালে বিমান উপদেষ্টা

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
   
বাংলাদেশ বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুরের বাসার নির্যাতিত গৃহকর্মী মোহনাকে হাসপাতালে বিমান উপদেষ্টা

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তৎকালীন এমডি ও সিইও সাফিকুর রহমানের বাসার নির্যাতিত গৃহকর্মী শিশু মোহনার (১১) চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাণিজ্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস টেলিফোনে মোহনার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা মোহনার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকদের কাছ থেকে বিস্তারিত খোঁজ নেন। শিশুটির চিকিৎসার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের আশ্বস্ত করেন।

এ সময় উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বিমানের এমডি ড. হুমায়রা সুলতানা, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন এবং হাসপাতালের পরিচালক ডা. আমিনুল ইসলাম।

মোহনার উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই আমাকে তোমার খোঁজ নিতে পাঠিয়েছেন। তোমার আর ভয়ের কোনো কারণ নেই, আমরা তোমার পাশে আছি।”পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস টেলিফোনে বাণিজ্য উপদেষ্টার কাছে মোহনার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। মোহনার সঙ্গে আচরণ জাতির জন্য লজ্জাজনক বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টা। মোহনার চিকিৎসার ব্যয়সহ তার সব দায়িত্ব সরকার বহন করবে বলেও জানান।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “শিশুর প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধীরা ইহকাল ও পরকালে উপযুক্ত শাস্তি পাবে।” এছাড়া তিনি মোহনার বাবা মোস্তফাকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, শিশু মোহনা বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তৎকালীন এমডি ও সিইও সাফিকুর রহমানের বাসার গৃহকর্মী। গত ৩১ জানুয়ারি গুরুতর জখম অবস্থায় মোহনাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রীকে গত ২ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

You cannot copy content of this page