খুঁজুন
সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২

আ/ও/য়া/মী বিরোধীমত দ/ম/ন-নি/পী/ড়/ন করে ভাটারা থানার ওসি রাকিব হাসানের উত্থানঃ সুবিধাবাদ আর দুর্নীতির জাল বিছিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়েও বহাল তবিয়তে

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ১:৩০ পূর্বাহ্ণ
আ/ও/য়া/মী বিরোধীমত দ/ম/ন-নি/পী/ড়/ন করে ভাটারা থানার ওসি রাকিব হাসানের উত্থানঃ সুবিধাবাদ আর দুর্নীতির জাল বিছিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়েও বহাল তবিয়তে

এস আই থাকাকালীন ২০১৮ সালের স্বৈরাচারী হাসিনার নিশি রাতের ভোট সফল করতে এভাবেই বিএনপি জামায়াত কর্মীদের উপর নির্য়াতন চালাতেন রাকিব

ঢাকা মহানগরীর মতো শহরে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যেই যদি দুর্নীতি, সুবিধাবাদ আর রাজনৈতিক তোষণ প্রবল হয়—তাহলে জনগণের আস্থা কোথায় দাঁড়াবে?

সাম্প্রতিক সময়ে দীর্ঘ অনুসন্ধানে আলোচনায় উঠে এসেছে গুলশান বিভাগের ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিব হাসান। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো একদিকে ব্যক্তিগত চরিত্রের কেলেঙ্কারি, অন্যদিকে রাজনৈতিক সুবিধাভোগ আর ঘুষ বাণিজ্যের জটিল জালকে সামনে এনেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, খুলনা সদরের বাগমারা মেইন রোডের আব্দুর রাজ্জাকের সন্তান রাকিবুল হাসান (রনি) ২০০৭ সালে বাংলাদেশ পুলিশে সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) পদে কর্মজীবন শুরু করেন। সুচতুর রাকিবুল হাসান চাকরিতে জয়েন করার পর থেকেই অবৈধ ইনকামের নেশায় বুদ হয়ে চাকরির শুরু থেকেই নামে বেনামে গোড়ে তোলেন সম্পদের পাহাড়।

আর এই অবৈধ ইনকামের টাকা জায়েয করার জন্য তৎকালীন আওয়ামীলীগ নেতাদের আস্থাভাজন হওয়ার চেষ্টায় মরিয়া হয়ে ওঠেন৷ অবশ্য তিনি এই বিষয়ে সফলতাও লাভ করেন। খুলনা শহরে বাড়ি হওয়ায় স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলালের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মস্থলে প্রভাব খাটানো শুরু করেন এবং সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে সব সময় দেশের লোভনীয় থানা গুলোতে পোষ্টিং বাগিয়ে নেন।

এস আই থাকাকালীন ২০১৮ সালের স্বৈরাচারী হাসিনার নিশি রাতের ভোট সফল করতে এভাবেই বিএনপি জামায়াত কর্মীদের উপর নির্য়াতন চালাতেন রাকিব
এস আই থাকাকালীন ২০১৮ সালের স্বৈরাচারী হাসিনার নিশি রাতের ভোট সফল করতে এভাবেই বিএনপি জামায়াত কর্মীদের উপর নির্য়াতন চালাতেন রাকিব

এমনকি তিনি গর্ব করে বলে বেড়ান ১৫ বছরে থানা ছাড়া তিনি চাকরি করেননি কোথাও। এক পর্যায়ে ইন্সপেক্টরশীপ পরীক্ষা দেওয়ার সময় চলে আসলে পরীক্ষা দিয়ে ফেল করেন একাধিকবার, পরে অবৈধ টাকার জোরে ও তৎকালীন স্বৈরাচারের নিযুক্ত আইজিপির কাছে শেখ হেলালের পরিচয়ে ইন্সপেক্টর বনে যান৷

পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে কুষ্টিয়া জেলার (চৌরঙ্গী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র) কুমারখালি থানায় যোগদান করার পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয় রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে। GR 202/2020 এই নাম্বারে মিথ্যা মামলা দিয়ে পান্টি ইউনিয়ন বিএনপি ও কুমারখালি বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, জামায়াত, শিবিরের উপর নির্যাতন শুরু করেন রাকিবুল হাসান।

তার বিরুদ্ধে জোরালো বিতর্কের অধ্যায় শুরু হয় কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানার ওসি (তদন্ত) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর। দৌলতপুর থানায় যোগ দেওয়ার পর থেকে নিজেকে আওয়ামী ক্যাডার হিসেবে জাহির করতে মরিয়া ওঠেন,কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের আস্থাভাজন হতে দমন নিপীড়ন শুরু করেন বিএনপি-জামায়াত মতাদর্শের মানুষদের উপর।

এমন কোনো নির্যাতন নেই যে তিনি জামায়াত বিএনপির নেতা কর্মীদের উপর চালাননি৷ ২০২৩ সালের ৩১শে অক্টোবর দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির তৎকালীন সভাপতি ও বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লাকে ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহাসিন মুরাদের নির্দেশে অমানবিক ভাবে গ্রেফতার করে নিজ বাস ভবন থেকে।

এছাড়াও ২০২৩ সালের ১৪ জুন গরুর পাটক্ষেত খাওয়াকে কেন্দ্র করে ভেলশ মালিথা ও বজলু মালিথা নামে দুজন খুন হন। এই খুনের ঘটনায় মোটা টাকার বিনিময়ে আদালতে মনগড়া তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলে ২০২৪ সালের ২৬শে মার্চ দৌলতপুরের সাধারণ জনতা তার অপসারণের দাবিতে ঝাড়ু মিছিল বের করে।

কিন্তু তৎকালীন কুষ্টিয়া ২ আসনের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য এলাকায় মাফিয়া ফাটা কেষ্ট নামে পরিচিত কামারুল আরেফিনের প্রভাব ও মধ্যস্থতায় দৌলতপুর থানাতেই থেকে যান এই রাকিবুল হাসান৷

দক্ষিনবঙ্গের ত্রাস মিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও কুষ্টিয়া ২ আসনের তৎকালীন সাংসদ কামারুল আরেফিন ওরফে ফাটাকেস্টর সাথে ওসি রাকিব।
দক্ষিনবঙ্গের ত্রাস মিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও কুষ্টিয়া ২ আসনের তৎকালীন সাংসদ কামারুল আরেফিন ওরফে ফাটাকেস্টর সাথে ওসি রাকিব।

ঘুষ ও অস্বাভাবিক সম্পদের অভিযোগ

স্ত্রীর নামে বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনা শাখায় ৩৫ লক্ষ টাকার সঞ্চয় পত্র স্ত্রীর নামে ৩০ লক্ষ টাকার সঞ্চয় পত্র। স্ত্রীর ৫০ ভরির উপর সোনার গহনা, খুলনার বাটিয়াঘাটা উপজেলার শাচিবুনিয়া মৌজার জেএল ৪ ২৩৭, ২৪১, ২৪৫ নং দাগে কোটি টাকা মুল্যের ৬.০৫ শতকের প্লট, জিরো পয়েন্টে কোটি টাকা দামের বাড়ি, জোড়া গেটে দেড় কোটি টাকায় আলিশান ফ্ল্যাট বুকিং, এছাড়াও মা, ভাই, স্ত্রী, সহ বহু বেনামে সম্পদ। এমনকি তার আপন মামা রহমত আলী উজ্জল মীরের পরিবহন ব্যাবসায় লগ্নি করেছেন মোটা অঙ্কের টাকা।

অভিযোগকারীরা বলছেন, ভাটারায় দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই রাকিব হাসানের পরিবারে ব্যয়ের ধারা চোখে পড়ার মতো বেড়ে যায়। তার স্ত্রীর জন্য প্রায় ১২ লাখ টাকার সোনার হার, সর্বশেষ আইফোন, বসুন্ধরা সিটিতে

 

শপিং এর সময় তার বর্তমান স্ত্রী ও এনসিপি নেতা পরিচয় দানকারী শ্যালক সিয়াম

 

লাখ লাখ টাকার শপিং—

এসবের প্রমাণ হিসেবে স্থানীয় কয়েকজন নিম্নপদস্থ পুলিশ সদস্য তথ্য ফাঁস করেছেন বলে দাবি করা হয়।
প্রশ্ন হলো, একজন পুলিশ পরিদর্শক ঠিক কত টাকা বেতন পান? সরকারি বেতনের সঙ্গে এসব খরচ কি সামঞ্জস্যপূর্ণ?

ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্ক

রাকিব হাসানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কম বিতর্ক নেই।

রাকিবের ১ম স্ত্রী ও খালাতো বোন আফরিন জাহান আনিকা

সাব-ইন্সপেক্টর থাকাকালীন রাকিবুল হাসান প্রথম বিয়ে করেন ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া আপন খালাতো বোন আফরিন জাহান আনিকাকে।

পরবর্তীতেকিশোরী আনিকা তার অমানবিক অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে রাকিবুল হাসান কে ডিভোর্স দিয়ে চলে গিয়েছিলেন৷।

এরপর খুলনার এক চিকিৎসকের স্ত্রীকে নিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং পরে কোর্ট ম্যারেজ করেন। বর্তমানে এ সম্পর্ক ঘিরে মামলাও চলছে বলে জানা গেছে।

এইসব ঘটনাই তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সততার প্রশ্ন আরও ঘনীভূত করেছে।

বদলি থেকে ভাটারা: অদৃশ্য শক্তির ভূমিকা?

 

অবাক করা বিষয় হলো, কিছুদিনের মধ্যেই তিনি আবার ঢাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ জোনে—গুলশানের ভাটারা থানায়—পোস্টিং পান। প্রশ্ন উঠছে, কোন অদৃশ্য শক্তি তাকে এত দ্রুত ফিরিয়ে আনল?

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, রাকিবুল হাসানের জনৈক শ্যালক এনসিপি নেতা সিয়ামের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে ভাটারা থানার ওসি হিসেবে পদায়িত হন তিনি ৷

 

 আন্দোলনের সময়ের আতঙ্ক

রাকিব হাসান ২৪-এর ছাত্র আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ইবি থানায় ওসি (তদন্ত) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

জুলাই ছাত্র আন্দোলনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রধান সমন্বয়ক এস এম সুইট জানান, তদন্ত ওসি রাকিব সাহেব আন্দোলনের শুরুতে কয়েকদিন অসুস্থার কারনে ছুটিতে ছিলো কিন্তু আন্দোলন শুরুর ৩/৪ দিন পর ছুটি এসে উনি নিজেই ছাত্রলীগ / যুবলীগের ক্যাডারের রুপ ধারন করেন এবং বার বার অধিনস্থ ফোর্সদের বলতে থাকেন কুষ্টিয়া শহরে গুলি চলছে এদের বুকে গুলি না চালালে এরাও শান্ত হবে না।আমি এখনো ট্রমাটাইজ হয়ে যায় সেই দিনগুলোর কথা মনে করলে অথচ শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানী করে এই সমস্ত অফিসারদের দিব্যি ভালো সুযোগ সুবিধা করে দিচ্ছে এক শ্রেণীর নেতারা।

ছাত্র শিবিরের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সর্বোচ্চ একজন নেতা ও জুলাই ছাত্র আন্দোলনে সমন্বয়ক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই ওসি রাকিব আমাদের উপর ক্যাম্পাসে জুলুম করেছে এখন শুনি এরাই আবার ভালো ভালো জায়গায় ওসি গিরি করে। এই সমস্ত অফিসারদের দিব্যি ভালো সুযোগ সুবিধা করে দিচ্ছে এক শ্রেণীর সিনিয়র পুলিশ অফিসার রা।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণমাধ্যম কর্মী রাকিব রিফাত জুলাই আন্দোলনের দিনগুলোর ভয়াবহতা বর্ণনা করতে যেয়ে বলেন – কি বলবো ভাই আমাদের কোনো ভাষা জানা নেই এটা বর্ণনা করার, তবে আন্দোলন দমাতে ইবি ছাত্রদের প্রতি সর্বোচ্চ নির্দয় হওয়া এবং পট পরিবর্তনের পর আবার ভালো থানায় পোষ্টিং নেওয়া ওসি রাকিবের মতো তেলবাজ আর সুবিধাবাদী লোকদের কারনে “বাংলাদেশ পুলিশ” আবারো ডুববে।

কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রদল প্যানেল থেকে সাবেক নির্বাচিত এজিএস ও বর্তমান কুষ্টিয়া জেলা যুবদল নেতা কাজী জুরাইশ হোসেন জানান, ৯০ এর দশক থেকে ছাত্রদলের রাজনীতি করার কারনে পুরো কুষ্টিয়া জেলা জুড়ে আমার শুভাকাঙ্ক্ষী ছাত্রদল/যুবদলের ভাই ব্রাদার আছে অনেক। সবার মুখে একই কথা এই রাকিব যখন যেখানে চাকরি করেছেন তখন সেখানে আওয়ামী বিরোধী মত দমন করেছে স্বপ্রনোদিত হয়ে।

দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপির বর্ষিয়ান নেতা রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা জানান, সে দৌলতপুর থানায় কর্মরত থাকাকালীন আমার যুবদল, ছাত্রদলের ছেলেদের অনেক নির্যাতন করেছে।

এ সমস্ত বিষয়ে জানতে চাইলে ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিব হাসান দাম্ভিকতার সূরে জানান, আমার এই টাকা আছে ব্যাংলাদেশ ব্যাংকে এটা আমার বাবার থেকে পাওয়া টাকা। আর হ্যা আমি খালাতো বোনকে বিয়ে করেছিলাম সেটা পারিবারিক একটা এক্সিডেন্ট ছিলো। আর বাড়ির জমির যে মূল্য সেটা সঠিক নয়। আমি ছাত্র আন্দোলনের নিবেদিত প্রান ছিলাম। চাকরি জীবনের কখনো কাওকে নির্যাতন করিনি। আমি ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। বিএনপি দলিয় সাবেক এমপি ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ বাচ্চু মোল্লা প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন বাচ্চু মোল্লা কে আমি চিনিই না। আমি ওই থানায় চাকরি করেছেন অথচ সর্বোচ্চ নেতাকে চিনেন না এমন প্রশ্ন করলে বিষয় টি কৌশলে এড়িয়ে যায় এই ধূর্ত রাকিব।

৫ই আগষ্ট শেখ হাসিনা পলায়ন করার পর রাকিব নিজেও ইবি থানা থেকে পলায়ন করে আত্মগোপনে ছিলেন নিজের প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে। ২/৩ দিন আত্মগোপনে থাকার পর ১৮০ ডিগ্রী ভোল পাল্টে ওসি রাকিব নিজেকে বিএনপি প্রেমি হিসেবে জাহির করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তার। তাকে বদলী করা হয় ইবি থানা থেকে। পরে ওখান থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পোস্টিং নিয়ে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ থানায় যোগ দেন।সেখান থেকে চলতি বছরের মে মাসে ডিএমপির লাইনওআর হিসেবে বদলী হন৷ ঢাকায় বদলী হয়ে যাওয়ার পর থেকে ঠিক ১৮০ ডিগ্রি ভোল পাল্টিয়ে এখন সুবিধাবাদী হয়েছেন এমন ভাব করছেন তিনি ছাত্রজনতার জন্য নিবেদিত প্রাণ। সমালোচকরা বলেন—এখানেই শুরু হয় তার “সুবিধাবাদী চরিত্রের” প্রকাশ।

 

কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সাজ্জাত হোসেন নিজেকে সৎ অফিসার হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সমালোচকদের দাবি, তিনি সচেতনভাবেই রাজনৈতিকভাবে সুবিধাভোগী অফিসারদের গুরুত্বপূর্ণ থানায় বসিয়ে রেখেছেন। ওসি রাকিবের মতো একজন আলোচিত কর্মকর্তাকে ভাটারার মতো আর্থিকভাবে লাভজনক থানায় বসানো—এটা কি শুধুই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নাকি এর পেছনে রয়েছে লুকানো স্বার্থ?

রাজনৈতিক দোদুল্যমানতা: আওয়ামী থেকে বিএনপি

অভিযোগকারীদের ভাষ্যে, রাকিব হাসান দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সান্নিধ্যে থেকে সুবিধা নিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আবার বিএনপি ও নতুন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। এর উদ্দেশ্য একটাই—যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন, নিজের অবস্থান সুরক্ষিত রাখা। সমালোচকরা বলছেন, এটি কেবল সুবিধাবাদের খেলা, যেখানে জনগণ ও ন্যায়বিচারের কোনো স্থান নেই।

জনগণের ক্ষোভ ও প্রশ্ন

অনেকেই প্রশ্ন করছেন—

এতসব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন এখনো তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?

পুলিশের অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণ ইউনিট (PBI বা DB) কি এসব অভিযোগের তদন্ত করেছে?

কমিশনার কি প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়ছেন, নাকি সিস্টেমের ভেতরে আপস করে চলছেন?

ওসি রাকিব হাসানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো  জনস্বার্থে  উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। একদিকে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিতর্ক, অন্যদিকে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ—সবকিছু মিলিয়ে বিষয়টি শুধু একজন অফিসারের সততা নয়, পুরো পুলিশ বাহিনীর বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

জনগণের চাহিদা একটাই—একটি স্বচ্ছ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত। সত্য উদঘাটন হোক, প্রমাণ পাওয়া গেলে দোষীদের শাস্তি হোক। অন্যথায় “মুখোশধারী অফিসারদের” দাপটে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থা আরও ভেঙে পড়বে।

শতাংশ হিসাব করে ঘুষ নেন সাতকানিয়ার সাব-রেজিস্ট্রার টিনু চাকমাঃ অফিস সহকারী শাকিলের ইশারায় চলে পুরো অফিস- ঘুষ না দিলে রেজিস্ট্রি নেই

নাফি রহমান
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ
   
শতাংশ হিসাব করে ঘুষ নেন সাতকানিয়ার সাব-রেজিস্ট্রার টিনু চাকমাঃ অফিস সহকারী শাকিলের ইশারায় চলে পুরো অফিস- ঘুষ না দিলে রেজিস্ট্রি নেই

জমি-জায়গা নিয়ে রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে ‘সংকটে’ পড়েননি বা ‘জিম্মি’ হতে হয়নি এমন কাউকে পাওয়া বিরল। বিশেষ করে অর্থনৈতিক হয়রানির শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষকে। উপজেলা পর্যায়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বড় কর্তা সাব-রেজিস্ট্রার। বর্তমানে নবম গ্রেডে বেতন পান তারা। অথচ ব্যতিক্রম ছাড়া কাঁড়ি কাঁড়ি টাকার মালিক তারা। চাকরি করেন উপজেলায়, কিন্তু অট্টালিকা তুলেছেন জেলা কিংবা বিভাগীয় শহরে। কীভাবে সম্ভব? একজন সাব-রেজিস্ট্রার বেতন পান ন্যূনতম ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেবাখাত সংস্কার হলেও চট্টগ্রামের সাতকানিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এখনো ঘুষ বাণিজ্যের আখড়া হয়ে আছে। ঘুষ, অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে সরকারি এই কার্যালয়টি। দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সেবা প্রত্যাশীরা। চাহিদা মতো ঘুষ দিলে সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে অসম্ভব বলে কিছুই নেই।

অভিযোগ রয়েছে, সাতকানিয়ার সাব-রেজিস্ট্রার টিনু চাকমা ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ করেন না। এতে পদে পদে হয়রানির শিকার হতে হয় গ্রাহক ও দলিল লেখকদের। এদিকে ‘খাস লোক’ হিসেবে পরিচিত কার্যালয়ের কর্মচারী শাকিলের ‘সংকেত পেলে’ সাব রেজিস্ট্রার চোখ বুঝে সই করেন। শাকিলকে ম্যানেজ করতে পারলেই ‘সাহেব ম্যানেজ’ হয়ে যান। তার মাধ্যমেই এ কার্যালয়ে ঘুষ লেনদেন হয়।

আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি দলিল রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে মৌজা মূল্যের ন্যূনতম ১ শতাংশ টাকা ঘুষ দিতে হয়। দলিল যেকোনো ধরনের হোক না কেন এবং সরকার রাজস্ব পাক বা না পাক, এই অর্থ অফিসে জমা না দিলে দলিলে রেজিস্ট্রার স্বাক্ষর করেন না। আর এই টাকা হাতবদল হয় অফিসের কর্মচারী শাকিলের মাধ্যমে।

গত কয়েক মাস ধরে সাতকানিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, সংশ্লিষ্ট দলিল লেখক এবং ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

অভিযোগ উঠেছে, শাকিল প্রাপ্ত অর্থ সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে পৌঁছে দেন এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাছেও নিয়মিত মাশোহারা দেওয়া হয়। তবে এসব বিষয়ে শাকিলের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

জানা যায়, সাতকানিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়মিত রেজিস্ট্রি হওয়া দলিলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আসে সাফ কবলা, দানপত্র ও এয়াজনামা থেকে। এগুলোতে সরকার মৌজা মূল্যের যথাক্রমে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ, ৫ দশমিক ৫ শতাংশ ও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হারে রাজস্ব পেয়ে থাকে। তবে হেবা ঘোষণাপত্র ও পাওয়ারনামার মতো দলিলে সরকার রাজস্ব পায় না। অথচ এই দলিল রেজিস্ট্রিতেও মৌজা মূল্যের ১ শতাংশ হারে ঘুষ দিতে হয়।

বেশ কয়েকবার সাতকানিয়া সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারী, দলিল লেখক ও সেবা নিতে আসা ব্যক্তির বাইরেও অনেক মানুষের জটলা। অফিস চত্বরে ঘুরতে থাকা বেশির ভাগ লোকই দালাল চক্রের সদস্য। তারা কম টাকায় দলিল নিবন্ধন করে দেওয়ার কথা বলে পছন্দের দলিল লেখকের কাছে ‘মক্কেল’ ধরে আনে। বিনিময়ে পায় কমিশন।

একাধিক দলিল লেখক জানান, সরকার নির্ধারিত ফি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করার কথা বললে সংশ্লিষ্টরা নানা অজুহাত দেখান। আর শুধু জমি রেজিস্ট্রি নয়, দানপত্র, বণ্টনপত্র, ঘোষণাপত্র, অংশনামা ও চুক্তিপত্রের মতো দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে কয়েক গুণ টাকা দিতে হচ্ছে দাতাগ্রহীতাদের। দলিলের নকল (অনুলিপি) সংগ্রহ করতেও সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি জানান, ৫৫ লাখ টাকার একটি হেবা দলিল রেজিস্ট্রির সময় তাঁর কাছে দলিল লেখক প্রথমে মৌজা মূল্যের ২ শতাংশ টাকা দাবি করেন। পরে দরকষাকষির পর ৭০ হাজার টাকায় কাজ সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে ৪০ হাজার টাকা অফিসে ঘুষ হিসেবে জমা দেওয়া হয়। একাধিক দলিল লেখকও স্বীকার করেছেন, ওয়াকফ দলিল ছাড়া সব দলিলে এভাবে ঘুষ দিতে হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রভাবশালী ব্যক্তি, আইনজীবী বা দলিল লেখক সমিতির নেতাদের ক্ষেত্রে এই ঘুষ কিছুটা কমানো হয়। তবে ছাড়ের পরিমাণ সাধারণত ০.৩ শতাংশের বেশি নয়। রাজস্বের হিসাবে দেখা যায়, গত জুন থেকে আগস্ট তিন মাসে সাতকানিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে সরকার পেয়েছে প্রায় ১৩ কোটি টাকা। সে অনুযায়ী বছরে রাজস্ব দাঁড়ায় প্রায় ৫২ কোটি টাকা। আর এই টাকা তিন প্রকার দলিল তথা সাফ কবলা, দানপত্র ও এয়াজনামার উপর ভিত্তি করে ১ বছরে রেজিস্ট্রিকৃত মৌজামূল্য দাড়ায় প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা। অথচ একই পরিমাণ রাজস্ববিহীন দলিলও রেজিস্ট্রি হয়। অর্থাৎ বছরে সর্বমোট প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা মৌজা মূল্যের দলিল রেজিস্ট্রি হয়। যেখান থেকে অন্তত ১০ কোটি টাকা ঘুষ সংগ্রহ করে সাতকানিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিস।

সাতকানিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই ১ শতাংশ প্রথা দীর্ঘদিনের। প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতবদল হয়, তবে এর বেশিরভাগ সাব-রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে ভাগ হয়ে যায়। এটা বন্ধ হওয়া দরকার। সাধারণ মানুষের পকেট কেটে এই টাকা আদায় করা হয়।

দলিল লেখকরা কেন প্রতিবাদ করেন না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের সরকারি সনদ নবায়নের জন্য সাব-রেজিস্ট্রারের সুপারিশ লাগে। এছাড়া ঘুষ বন্ধ হলে রেজিস্ট্রির সংখ্যা কমে যাবে, ফলে দলিল লেখক ও অফিস সংশ্লিষ্টদের আয়ও কমবে। তাই কেউ মুখ খুলে না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাব-রেজিস্ট্রার টিনু চাকমার মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার খন্দকার জামীলুর রহমান বলেন, ঘুষ লেনদেনের কথাটা আমরা প্রায় শুনে থাকি। তবে এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো ভুক্তভোগীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাইনি। যেহেতু এখানে দলিল লেখকদের একটা সংশ্লিষ্টতা আছে, সুতরাং নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রকৃত অপরাধীকে তদন্তের মাধ্যমে সনাক্ত করা যাবে। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর রিপোর্ট করতে পারবো।

তিনি আরও বলেন, রেজিস্ট্রি অফিসে সেবা নিতে আসা মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য আমাদের নিয়মিত মনিটরিং চলছে। ভুক্তভোগীরা যদি সরাসরি জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে অভিযোগ করেন অথবা লিখিতভাবে জানিয়ে দেন, আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেব। এ ক্ষেত্রে কারও প্রভাবশালী পরিচয় বা পদমর্যাদা দেখেও ছাড় দেওয়া হবে না। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।

তিনি সতর্ক করে বলেন, অভিযোগ না করে কেবল কথাবার্তায় বিষয়টি সীমাবদ্ধ রাখলে সমস্যার সমাধান হবে না। তাই জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রকৃত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থাও গ্রহণ করা সম্ভব।

এখনো সংকটাপন্ন খালেদা জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
   
এখনো সংকটাপন্ন খালেদা জিয়া
  • অবস্থার উন্নতি হলে বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনা
  • তাঁর অবস্থা একই পর্যায়ে। চিকিৎসকরা যে চিকিৎসা দিচ্ছেন তা তিনি গ্রহণ করতে পারছেন : ডা. এ জেড এম জাহিদ
  • রাজনৈতিক অঙ্গন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্বেগ
  • উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় দোয়া
  • হাসপাতালের সামনে ভিড় না করতে বিএনপির অনুরোধ
  • বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা শুক্রবারের মতো গতকাল শনিবারও সংকটাপন্ন ছিল। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসনের বর্তমান শারীরিক অবস্থা বিদেশে নিয়ে যাওয়ার মতো নয়। তবে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নেওয়ার ব্যাপারে ভিসা ও যোগাযোগ সংক্রান্ত কাজ এগিয়ে রাখা হয়েছে। গতকাল গুলশানে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা তুলে ধরেন।বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে বলে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা কিছুটা সংকটাপন্ন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা তাঁর চিকিৎসা চলছে। আমেরিকার জন হপকিন্স ও লন্ডন ক্লিনিকের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা তাঁর চিকিৎসা করছেন।শুক্রবার রাতে বেশ সময় নিয়ে তাঁরা বোর্ডসভা করেছেন। নিজেদের মেডিক্যাল বোর্ডে তাঁরা মতামত দিয়েছেন—চিকিৎসাটা কী ধরনের হবে?’গত রাত ৯টায় এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সর্বশেষ পরিস্থিতি জানিয়ে বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা একই পর্যায়ে রয়েছে। অর্থাৎ চিকিৎসকরা যে চিকিৎসা দিচ্ছেন, তা তিনি গ্রহণ করতে পারছেন। কাজেই এই চিকিৎসা যেন উনি গ্রহণ করে সুস্থ হয়ে যেতে পারেন, সে জন্য আপনারা সবাই দোয়া করবেন।

    বিশেষজ্ঞ দিয়ে চিকিৎসা চলছে : বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে বলে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা কিছুটা সংকটাপন্ন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা তাঁর চিকিৎসা চলছে। আমেরিকার জন হপকিন্স এবং লন্ডন ক্লিনিকের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা তাঁর চিকিৎসা করছেন। শুক্রবার রাতে বেশ সময় নিয়ে তাঁরা বোর্ড সভা করেছেন। নিজেদের মেডিক্যাল বোর্ডে তাঁরা মতামত দিয়েছেন—চিকিৎসাটা কী ধরনের হবে?

    বিএনপি চেয়ারপারসনের বিদেশে নেওয়া প্রসঙ্গে এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তাঁকে বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন।এ বিষয়ে তাঁরা বলছেন, হয়তো নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু তাঁর এখন যে শারীরিক অবস্থা, সে অবস্থায় তাঁকে বিদেশে নেওয়ার মতো কোনো শারীরিক অবস্থায় নেই। শারীরিক অবস্থা স্ট্যাবল হলে তখন চিন্তা করে দেখা হবে, তাঁকে নেওয়া সম্ভব হবে কি না।’

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তবে বিদেশে নেওয়ার জন্য যেসব বিষয় প্রয়োজন—যেমন ভিসা, সেসব দেশের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হয়েছে এবং সেগুলো মোটামুটি কাজ এগিয়ে আছে। অর্থাৎ যদি প্রয়োজন হয়, যদি দেখা যায় শি ইজ রেডি টু ফ্লাই, তখন তাঁকে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হবে।’

    সাংবাদিকদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে আমি দেশের সাধারণ মানুষের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দিতে চাই, বিএনপি চেয়ারপারসন ও দেশনেত্রীর অসুস্থতার খবরে পুরো দেশবাসী উদ্বিগ্ন। অনেকেই হাসপাতালের সামনে আসছেন, ভিড় করছেন। এতে খালেদা জিয়াসহ অন্য রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং ডাক্তাররাও বিরক্তবোধ করছেন। আমি সবাইকে ভিড় না করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

    গত রাতে হাসপাতালের সামনে সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘চিকিৎসা করার দায়িত্ব হাসপাতালের। ভালো করার মালিক আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। সারা পৃথিবীতে ভালো যে চিকিৎসা ব্যবস্থা করা প্রয়োজন, সেটি এখানে আয়োজন করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। খালেদা জিয়াকে বিদেশ নেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে তাঁর শারীরিক সুস্থতা ও মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর।’

    ডা. জাহিদ বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পাশে তাঁর ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী সৈয়দা শর্মিলা রহমান এবং তাঁর ভাই সাঈদ এস্কান্দার রয়েছেন। সার্বিক সহযোগিতা করছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সব স্তরের নেতাকর্মী। আমেরিকার জন হপকিন্স ও মাউন্ট সিনাই, ইউকে, সিঙ্গাপুর, চীন, সৌদি আরবসহ বেশ কয়েকটি নামকরা হাসপাতালের ডাক্তারদের সমন্বয়ে যৌথ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তাঁর চিকিৎসা চলছে। খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য আমরা সবার কাছে দোয়া চাই।’

    এখনো শঙ্কামুক্ত নন : হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে দেখতে আসা বিএনপির কয়েকজন নেতা ও অন্যরা জানান, তাঁর শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত, তবে এখনো তিনি শঙ্কামুক্ত নন।

    গতকাল দুপুরে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন বলেন, ‘আগের মতোই অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। স্ট্যাবল আছেন, কিন্তু এখনো ইমপ্রুভ করেননি।’

    বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ‘ক্রিটিক্যাল, তবে স্থিতিশীল’ বলে জানিয়েছেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা। তিনি বলেন, ‘সতর্কতা মেনে আমার উনাকে (খালেদা জিয়া) দেখার সুযোগ হয়েছে। উনি সজ্ঞানে আছেন, সজাগ আছেন। চিকিৎসক এবং নার্স উনাকে যে নির্দেশনা দিচ্ছেন, সেগুলো তিনি অনুসরণ করতে পারছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা ক্রিটিক্যাল, তবে ফাইট করছেন।’

    বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক জানান, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্বস্তিদায়ক, যা কিছুটা আশাব্যঞ্জক। এর আগে শুক্রবার রাত দেড়টার পর হাসপাতাল থেকে বের হয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা দূরত্ব বজায় রেখে উনার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি শুধু, উনি আমাদের চিনতে পেরেছেন এবং আমরা সালাম দিয়েছি, উনি জবাব দিয়েছেন।’

    ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রে সংক্রমণজনিত জটিলতায় সাত দিন ধরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দলীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে উদ্বেগ আরো বেড়েছে। গত শুক্রবার দেশব্যাপী মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে বিএনপি। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বেগম জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

    বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সবাই আন্তরিক দোয়া ও ভালোবাসা প্রদর্শন করায় জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে সবার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    হাসপাতালের সামনে ভিড় না করতে বিএনপির অনুরোধ : শুক্রবার রাত থেকেই খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর পেয়ে হাসপাতালে ভিড় করতে থাকেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। গতকাল বিকেল পর্যন্ত সেই ভিড় অব্যাহত থাকে। তাঁরা শুভেচ্ছা বার্তাসংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে অবস্থান করেন এবং পরে হাসপাতালের সামনেই দোয়া মাহফিল ও তবারক বিতরণ করেন। তবে কর্মীদের অতিরিক্ত ভিড়ে হাসপাতালের সামনে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং রোগী পরিবহনেও সমস্যা দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের হাসপাতালের সামনে ভিড় না করার অনুরোধ জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বেগম খালেদা জিয়ার খোঁজখবর নিতে আসা নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড়ের কারণে খালেদা জিয়াসহ অন্য রোগীদের চিকিৎসাসেবায় বিঘ্ন ঘটছে। এ কারণে বিএনপি ও খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে দলের নেতাকর্মী, সমর্থকসহ শুভাকাঙ্ক্ষীদের এভারকেয়ার হাসপাতালে ভিড় না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।’

    হাসপাতালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা : শুক্র ও শনিবার বিভিন্ন সময় খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে যান বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। গতকাল দুপুরে হাসপাতালে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ।

    এর আগে খালেদা জিয়াকে দেখতে যান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবিব ও অন্য নেতাদের এভারকেয়ার হাসপাতালে দেখা যায়। এ ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এভারকেয়ারে আসেন।

    গতকাল রাত ১০টার পর বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর নেতৃত্বে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।

    এদিকে হাসপাতালে যেতে না পারলেও খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে বার্তা দিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধানরা। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের পৃথক বার্তায় খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

    উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া : গতকাল দুপুরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীও হাসপাতালে গিয়ে খোঁজখবর নেন। গতকাল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন মোনাজাত পরিচালনা করেন।

    বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেই পরিবারের সদস্যরা তাঁকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। গতকাল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘লন্ডনের যে হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের অধীনে চার মাস থেকে তিনি অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন, তাঁদের সঙ্গে এরই মধ্যে যোগাযোগ করেছেন তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী।’

    ঢাবিতে সাদা দলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল হয়েছে। গতকাল বাদ আসর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ঢাবি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের উদ্যোগে এই মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

    ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান, প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুন আহমেদ, ঢাবি সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম ও অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকার, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, আইবিএর অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন, ঢাবির কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতারা। দোয়া পরিচালনা করেন মসজিদের খতিব মাওলানা মুফতি নাজির আহমদ।

ঝিনাইদহে ভাতিজার ছুরিকাঘাতে চাচা নিহত

ঝিনাইদহ অফিস
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ
   
ঝিনাইদহে ভাতিজার ছুরিকাঘাতে চাচা নিহত

ঝিনাইদহ শহরের পবহাটি এলাকার সিটি মোড় নামক স্থানে ভাতিজার ছুরিকাঘাতে মুরাদ মন্ডল (৪০) নামে এক ইলেকট্রিক মিস্ত্রি নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার বেলা দেড়টার দিকে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়। নিহত মুরাদ মন্ডল পবহাটি গ্রামের আফজাল মন্ডলের ছেলে। ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি (তদন্ত) শামসুজ্জোহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে বড় ভাই আলম মন্ডলের ছেলে সৌরভ ছুরিকাঘাতের মাধ্যমে হত্যা করে। প্রতিবেশী কামরুজ্জামান জানান, জমিজাতি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের ধরে শুক্রবার বড় চাচা আলম মন্ডলকে মারধর করে মুরাদ। সে ঘটনার প্রতিশোধ নিতে আলম মন্ডলের ছেলে সৌরভ শনিবার দুপুরে মুরাদ মন্ডলের ইলেকট্রিক দোকানে আমলা চালিয়ে তাকে উপর্যুপরি ছুটি আঘাত করে হত্যা করে। ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, নিহত মুরাদ মন্ডলের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনা এখনো মামলা হয়নি, তবে হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।

You cannot copy content of this page