চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন কেন্দ্রে পাহারা বসিয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। বুধবার রাত নয়টা থেকে তারা কেন্দ্রের আশেপাশে অবস্থান নিতে শুরু করে। একই সাথে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সড়কেও টহল ও মোড়ে মোড়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। অনুমোদনবিহীন গাড়ি আটক করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায় নগরের পাহাড়তলী রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়, আকবরশাহ বিশ্বকলোনী এলাকা, হিলভিউ আবাসিক এলাকা, উত্তর কাট্টলী, দক্ষিণ কাট্টলী, লালখান বাজার এলাকায় দেখা যায়, ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে নেতাকর্মীদের অবস্থান করছেন। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী গলিগুলোতে দলীয় নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি রয়েছে।
কেন্দ্র থেকে ১০০-১৫০ গজের মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের ভোট বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এসব বুথে ব্যস্ত সময় পার করছেন দলীয় নেতা কর্মীরা। কেউ ভোট স্লিপ আলাদা করছেন, কেউ ভোটার স্লিপ বিলি করছেন। রাত এগারোটার পরও অনেক ভোটারকে বুথে এসে ভোটার স্লিপ সংগ্রহ করতে দেখা গেছে।
চট্টগ্রাম ১০ আসনে আব্দুল জলিল উচ্চ বিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম ৮ আসনের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার একটি ভোট কেন্দ্রের বাইরে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকরা একে অন্যের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। কিন্তু নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এমন কোনো ঘটনা এসব এলাকায় ঘটেনি। কেন্দ্রের বাইরে জড়ো হওয়া নেতা কর্মীরা পরস্পরের বিরুদ্ধে নিজেরা স্লোগান দিয়েছে মাত্র।
হিলভিউ আবাসিক এলাকার ভোট কেন্দ্রের ২০০ গজ দূরে রাস্তার দুই পাড়ে বুথ বানিয়েছে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা। রাত ৯টার পর থেকেই দুটি বুথে ২০ থেকে ২৫ জন নেতাকর্মীকে জড়ো হতে দেখা যায়।
বিএনপির বুথে একজন আব্দুল আলিম জানান, ২০১৮ সালে ভোটের আগের রাতেই প্রশাসনের লোকেরা ব্যালটে সিল মেরেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এখন থেকেই পাহারা বসিয়েছেন তারা।
জামায়াতের বুথের দায়িত্বে থাকা ইসমাইল হোসেন জানান, ভোটের সময় যত ঘনিয়ে আসছে প্রশাসনের আচরণ ততই একপাক্ষিক হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীরাও মারমুখী হয়ে উঠতে শুরু করেছে। দলের পক্ষ থেকে ভোর রাতে কেন্দ্রের সামনে আসার নির্দেশনা থাকলেও তারা আগের রাতেই চলে এসেছেন। জনগণের ভোট কাউকে চুরি করতে দেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
আপনার মতামত লিখুন